১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, শনিবার

নাটোর ট্রাজেডিঃ দাদা-নানার বাড়ী যাওয়া হলো না স্বপ্নার

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি, নাটোরঃ গ্রামের বাড়িতে যাবার জন্য প্রিয়তমা স্ত্রী আর দুই সন্তানকে বাসে তুলে দিয়েছিলেন মন্টু রোজারিও। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের নিহতের খবর পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি। কোন শান্তনার বাণীই যেন তাকে প্রবোধ দিতে পারছে না।

গত শনিবার (২৫ আগষ্ট) মাসহ স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গাজীপুর থেকে দুই বছর পর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলির খ্রিষ্টান পল্লীতে আসছিলেন মন্টু রোজারিও’র স্ত্রী আদুরী বিশ্বাস (৩৫)। সঙ্গে ছিল ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রত্যয় বিশ্বাস ও দশ মাসের শিশুকন্যা স্বপ্না বিশ্বাস জন্মের পর যার এবারই প্রথম দাদার ও নানা বাড়িতে আগমণ। নাটোরের লালপুর উপজেলার কদমচিলান ক্লিক মোড়ে শনিবার বিকালে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি ও তার দুই সন্তানহর মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

জানা যায়, আদুরী বিশ্বাসকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুরের বাসিন্দা মিন্টু রোজারিও। বিয়ের পর থেকে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের দোয়ারী গ্রামে বসবাস করতেন তিনি। একমাত্র ছেলে প্রত্যয় বিশ্বাস কালীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীতে পড়তো। জন্মের পর শিশু স্বপ্না বিশ্বাসের এবারই প্রথম দাদার ও নানা বাড়িতে আগমণ। কিন্তু নির্মম মৃত্যু নানীসহ স্বজনদের কোলে উঠা আর আদর-সোহাগ থেকে বঞ্চিত করলো তাকে।

রোজারিও জানান, গাজীপুর থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে একটি বাসে তুলে দেন তিনি। বনপাড়ায় নেমে বাস না পাওয়ায় লেগুনায় চড়ে মুলাডুলি যাচ্ছিল আদুরী। লেগুনাতে উঠার পরেও মোবাইলে কথা হয় তার সাথে। কিন্তু সে কথাই যে শেষ কথা হবে তা জানা ছিলো না।

সরেজমিনে আদুরীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা কমলা বিশ্বাস মাঝে-মধ্যেই মূর্ছা যাচ্ছেন। কখনও জ্ঞান ফিরলেও প্রলাপ বকছেন। তার বুক ফাটা আর্তনাদে যারা শান্তনা দিতে আসছেন তারাও অঝোরে কাঁদছেন। আদুরীর ননদ নিঝুম রোজারিও জানান, পরিবারের তিন সদস্যের এমন নির্মম মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। নিজেকেই তো শান্তনা দিতে পারছি না, ভাইকে শান্তনা দেবার মত ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন