২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, বুধবার

নির্বাচনকালীন সরকার ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

..ডক্টর নেয়ামুল বশির, কলামিস্ট

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে, সকল প্রকার সহিংসতা ও বিতর্ক এড়ানোর লক্ষ্যে ছোট্ট পরিসরে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রুপরেখা নিম্নে পেশ করা হলো:-
1) মন্ত্রীসভা পূনর্গঠন: নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একুশ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভা পূনর্গঠন করা যেতে পারে।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট হতে আট জন,বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোট হতে সাত জন, জাপাসহ নিবন্ধিত জোট বহির্ভূত রাজনৈতিক দলসমূহ হতে দুই জন এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে সর্বজন গ্রহনযোগ্য দুই জন বিশিষ্ট নাগরিক এই মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভূক্ত হবে।প্রশ্ন আসবে যে, সংবিধান সেটা অনুমোদন করে কিনা? সহজ সরল উত্তর হচ্ছে এই যে, সংবিধান দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। সংকটকালীন সময় মোকাবিলা করতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এধরণের অধ্যাদেশ জারি নতুন কোন বিষয় নয়। ইতিপূর্বে এরচেয়েও অপ্রচলিত অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
2) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বেচ্ছায় ছুটি গ্রহন : নতুন মন্ত্রী সভা শপথ গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, নির্বাচনী প্রচার ও প্রস্তুতি নেওয়া লক্ষ্যে ছুটি গ্রহনে ইচ্ছুক তা জানিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানের দ্বায়িত্ব গ্রহনের আহবান জানাবেন ও দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করে ছুটিতে যাবেন। এই সময়ে রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী সভা শুধুমাত্র রুটিন মাফিক কাজ করে যাবেন। নীতিগত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তবে যদি দেশে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় বা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব শঙ্কার মূখে, এরূপ বিরুপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশ মাতৃকা রক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতি সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর যেরূপ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী সেরুপ ক্ষমতা প্রয়োগের হকদার হবেন। এসময়ে রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্বে থাকবেন। অন্যান্য মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমের সামনে লটারির মাধ্যমে নব নিযুক্ত মন্ত্রীদের মধ্যে বন্টন করে দ্বায়িত্ব প্রদান করবে।
3)বর্তমান সিইসি পরিবর্তন করে নতুন গ্রহনযোগ্য (আমলা ব্যতীত) একজন শিক্ষাবিদকে কেবিনেট কর্তৃক সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নতুন সিইসি নিয়োগ দান করবেন।
4) ভোট গ্রহণ ও ইভিএম ব্যবহার না করা প্রসঙ্গে: যুক্তরাস্ট্রের মত উন্নত দেশে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের মত একটি দেশে ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া ইভিএম ব্যবহার মোটেও গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং প্রতিটি কেন্দ্রের অভ্যন্তরে সিসি ক্যামেরা সংযুক্ত করে কেন্দ্রের বাহিরে বড় স্ক্রিনে ভোট গ্রহন ও গননা কার্যক্রম লাইভ দেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেনাবাহিনী কে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিতে নির্বাচনী মাঠে নিয়োজিত করতে হবে।
5) জেলা জজ সাহেবদের রিটার্নিং অফিসারের দ্বায়িত্ব প্রদান করতে হবে। জেলা প্রশাসক ও ইউওনোদের নির্বাচনী দ্বায়িত্ব থেকে দূরে রাখতে হবে। জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রিসাইডিং অফিসার এর দ্বায়িত্ব প্রদান করলে অপেক্ষাকৃত গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
6) ভোট গ্রহণ ও ব্যালট পেপার : প্রতিটি ভোটারকে ভোট প্রদানের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে ব্যালট পেপারের পেছনে ও কাউন্টার ফলিওতে এনআইডি নং লিখে ভোট প্রয়োগ করতে হবে। অবশ্যই ভোট প্রদানকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা একনলেজম্যান্ট স্লিপ সরবরাহ পূর্বক জমা রেখে দিবে। পরবর্তী দশ দিনের মধ্যে ডাক বিভাগ /কুরিয়ারের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটারকে তার এনআইডি ফেরত দিতে হবে। জাল ভোট প্রদান এই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

এভাবেই গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রস্তাবনা একান্ত নিজস্ব ভাবনা প্রসুত। এর সাথে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের কোন সম্পর্ক নেই।মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন