আজ : শুক্রবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে বরিশালে ক্যাডার নুন্না মুন্না সালাউদ্দিন মিলনের দাপটের হেতু!

সময় : ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১১ মার্চ, ২০১৭


নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীতে এম. সালাউদ্দিন ও সাকিবুজ্জামান মিলনের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পেশাদার ফটোসাংবাদিকরা। সন্ত্রাস ও খুবই দুরন্ধর প্রকৃতির এই মিলন। বেপরোয়া হিসেবে আখ্যায়িত মিলনের প্রধান সঙ্গী এম. সালাউদ্দিন ওরফে ইমরান শান ওরফে ইমরান শিকদার সালাউদ্দিন ওরফে দৌড় সালাউদ্দিন। কে এই এম সালাউদ্দিন? অসমর্থিত একাধিক সূত্রের ভাষ্য, একসময়ে নগরীর বিভিন্নস্থানে অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে কন্ট্রাকে/ভাড়ায় কাজ করতো। একইসঙ্গে দেদারছে ফেন্সিডিল বিক্রি করে মহল বিশেষ সমালোচিত। এখনও ফেন্সিডিল সালাউদ্দিন ওরফে দৌড় সালাউদ্দিন হিসেবেই চিনে অনেকে। সূত্রের ভাষ্য, কোনো ক্রেতা ফেন্সিডিল নিতে আসার সঙ্গে সঙ্গে পকেটে টাকা গুঁজে দ্রুতবেগে দৌড় শুরু করে গোপন আস্তানায়। যেখানে রাখা থাকে ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য এবং অস্ত্রসস্ত্র। এরকম গোপন আস্তানা নুন্না,মুন্না,সালাউদ্দিন ও মিলনের কয়েকটি রয়েছে। ক্রেতাকে দৌড়ে দ্রুত ফেন্সিডিল হাতের নাগালে পোঁছে দেয়ার কারণে দৌড় সালাউদ্দিন হিসেবে আখ্যা পায়। বিস্ময়কর সালাউদ্দিনের ফেন্সিডিল বিক্রিসহ তার ভাই নুন্না মুন্নার নানাবিধ অন্যায় অপকর্মের পাল্লা ভারী হলে কৌশলে একটি ক্যামেরা কিনে ছবি তুলতে মাঠে নামে। ক্যামেরাম্যান সালাউদ্দিনের এক ভাই আরমান শিকদান নুন্না। এখনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বেশিরভাগ সময় বগুড়া রোডস্থ বরিশাল সদর গালর্স স্কুলের সামনে আড্ডা দেয়। মাঝে মাঝে আড্ডাস্থল এবং আস্তানা পরিবর্তন করে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বিএনপির ক্যাডার হিসেবেও পরিচিত নুন্না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউসুফ বার্বুচীর পুত্র নুন্না,মুন্না ও সালাউদ্দিন। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে। মির্জাগঞ্জে নানা অপকর্ম করে ইউসুফ বাবুর্চী পাড়ি জমায় বরিশাল নগরীতে। ইউসুফ বাবুচীর বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জে দায়েরকৃত একটি মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে বেশ কয়েক বছর পলাতক হিসেবে বগুড়া রোডে বসবাস করে আসছিলো। অবশ্য কয়েক বছর আগে পুলিশ সন্ধান পায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ইউসুফ বাবুর্চীর। তৎকালীন সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জামিনে মুক্ত হয় ইউসুফ বাবুর্চী। বর্তমানে তাদের অনেক আস্তানা রয়েছে। একেক সময়ে একেক আস্তানায় থাকছে নুন্না,মুন্না,সালাউদ্দিন। এদের প্রত্যোকের বিরুদ্ধেই অন্তহীন অভিযোগ থাকলেও সালাউদ্দিন ক্যামেরা হাতে নেয়ার পর সব অপকর্ম থেকেই নিস্তার পেয়ে আসছে। কত বড় অশুভ লক্ষন! আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অধিষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বরিশালে মিডিয়া, রাজনৈতিক অঙ্গন, সমাজ সচেতনদের বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে যেনো নুন্না,মুন্না ও সালাউদ্দিন কালো জগতে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সালাউদ্দিন ও তার সন্ত্রাস প্রকতির দুই সহধর এখন ধোয়া তুলশীপাতা। শুধু তাই এই সালাউদ্দিন নিজেকে অনেক সময় পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অঘোষিত মুখপত্র হিসেবে জাহির করে পকেটে পুরে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নানা কায়দায় বিশেষ করে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গভীর সখ্যতার প্রকাশ ঘটিয়ে মানুষকে জিম্মিদশায় রেখে মহান একটি পেশাকে কলংকিত করে আসছে। পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে সালাউদ্দিন ও মিলনের বেশ দহরম মহরমও পরিলক্ষিত। ইউসুফ বার্বুচীর পুত্র নুন্না,মুন্না ও সালাউদ্দিনদের কেচ্ছা কাহিনী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও মাঝে মাঝে আলোচনায় রূপ নেয়। কিন্তু জানেনা শুধু পুলিশ কর্তারা। আবার কেউ জানলেও কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়ে ধামাচাপা দিয়ে উল্টো সালাউদ্দিনের পক্ষেই সাফাই গাইছে। তাজ্জব! ওদিকে সালাউদ্দিনের অন্যতম সহযোগী মিলনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ফেরদৌস শান্ত নামের এক য্বুক। সূত্র জানায়, মিলন হাসপাতাল রোডের একটি কনফেকশনারী দোকানে দুই হাজার টাকা বেতনে এবং বিয়ে ও জম্মদিনের ভিডিও প্রোগ্রামেও কাজ করতো মিলন। প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণ’র ব্যক্তিগত ক্যামেরাম্যান থাকাকালিন চাঁদাবাজীর অভিযোগে মিলনকে বহিস্কারও করে। সেই মিলন এখন আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে পেশাদার ফটোসাংবাদিকরা বিব্রতবোধ করছে। এসব প্রসঙ্গে এম সালাউদ্দিন বলেন, আমার সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা ইচ্ছে তাই করবো, কেউ কোনো বাড়াবাড়ি করলে এখন আমার পুলিশ প্রশাসনই যথেষ্ট। তিনি আরো বলেন, আমাকে পুলিশ.র‌্যাব সবাই ভালো করে চিনে, আমার হাত অনেক বড় লম্বা। বলেন, আমার ইশারায় অনেক কিছুই এ নগরীসহ বরিশাল অঞ্ছলের বিভিন্নস্থানে অনেক কিছুই ঘটছে। দ্বাম্ভিকতার সুরে বলেন, আমার, ভাই নুন্না ও মুন্না এবং সহযোগী মিলনের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ থাকুক কারো কোনো ক্ষমতা নেই কিছু করার। কারণ হিসেবে বলেন, র‌্যাব,পুলিশ আমার পকেটে থাকে, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন আমাকে ইজ্জত করে। সবমিলিয়ে নুন্না,মুন্না,সালাউদ্দিন ও মিলনের হাত যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন, বরিশাল মিডিয়া তথা জনগণের কল্যানে এদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতনমহল। এক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এ বিষয়টি নজর দেয়ার দাবি শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষদের। সচেতন মহল বলছেন, আর কোনো কালক্ষেপন নয় এখনই লাগাম টেনে ধরার সময় ফেন্সিডিল বিক্রেতা, কিংলিং মিশন চক্রের সদস্য নুন্না,মুন্না,সালাউদ্দিনসহ তার সাঙ্গপাঙ্গ এবং শেল্টারদাতাদের। অভিজ্ঞমহল বলছেন, নুন্না,মুন্না,সালাউদ্দিন,মিলন চক্র বরিশাল নগরীর সমাজ’র জন্য অশুভ সংকেত। এদের দৌরাত্ন্য ক্রমেই বেড়ে চলছে। আর প্রশাসন যেনো চেয়ে দেখছে,কারণ কারো আখের গোছাতে এদের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আবার প্রশাসনের কোনো কোনো কর্তার চামচাগিরি করে পাড় পেয়ে যাচ্ছে। এমনও হতে পারে কোনো কর্তা নুন্না,মুন্না,সালাউদ্দিন এর আমলনামা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। যাইহোক বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ন পর্যায়ে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ, যারা স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে চলছেন নগরীর এই চক্রের দৌরাত্ন্য বন্ধসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিজ্ঞমহল।

Top