আজ : শুক্রবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ৭ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রবীণ যুগল


পাবনা জেলা শহরের এখানে-সেখানে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে এক দম্পতির। কখনো পত্রিকার দোকানে পত্রিকা কেনেন, কখনো বা মিষ্টির দোকানে বসে মিষ্টি খান। আবার কখনো বাজারের ব্যাগ হাতে হাঁটতে থাকেন। প্রতিক্ষণ দুজন একসঙ্গে। চলার পথে কখনো হাত ছাড়েন না একজন অন্যজনের। পাবনাবাসীর কাছে ভালোবাসার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সূত্র প্রথম আলো।

এই যুগল হচ্ছেন পাবনা জেলা শহরের শালগাড়িয়া মহল্লার এতিমখানা পাড়ার শামসুল আলম (৭৮) ও রওশন আরা (৭০)। যাঁরা ভালোবাসার বন্ধনে একে ওপরকে আঁকড়ে ধরে কাটিয়ে দিচ্ছেন যুগের পর যুগ। দুজনই বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছেন। তবু সংসারের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখানো, বাজার করা, প্রাতর্ভ্রমণ, বেড়ানোসহ সব ক্ষেত্রেই চলছেন একসঙ্গে।

পাবনা শহরে এই জুটিকে একসঙ্গে পথ চলতে দেখেনি এমন মানুষ মেলা ভার। অনেকে অনুপ্রাণিত হন তাঁদের দেখে। পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল খালেক যেমন বললেন, ‘বর্তমান সময়ে তরুণদের ভালোবাসার রং বদলায় ক্ষণে ক্ষণে। আস্থার প্রতি ক্লান্ত হয়ে সংসার ভাঙে। এই দম্পতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ভালোবাসা কেমন। তাই তাঁদের ভালোবাসা দেখে সুন্দরের পথ খুঁজি আমরা।’

প্রবীণ এই দম্পতির সঙ্গে কথা হলো ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়। ছোট নাতনি সুরঞ্জনা আহম্মেদ বাড়ির প্রধান ফটক খুলে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গেল। দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল একসঙ্গে দুজনকে। বসার ঘরের পাশের ঘরে গল্প করছিলেন দুজন। বাড়িতে অতিথি আসার খবরে উঠে এলেন একসঙ্গে।

বয়স বাড়ায় শরীরে নানা অসুখ বাসা বেঁধেছে। স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে গেছে বহু গল্প। কিন্তু ভালোবাসা হারায়নি এক ফোঁটাও—জানালেন শামসুল আলম।

শামসুল আলমের ভাষায়, ‘ভালোবাসা যে কী, তা এখনো বুঝিনি। তবে একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করেছি, আস্থা রেখেছি। এটাকেই ভালোবাসা মনে হয়েছে।’

একই কথা রওশন আরার কণ্ঠেও। তিনিও জানেন না ভালোবাসা আসলে কী। তবে বিশ্বাস রেখেছেন, সারা জীবন একে অপরের হাতটি ধরে চলার চেষ্টা করেছেন। মনে হয়েছে এটাই ভালোবাসা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবে চলবে বলে মনে করেন তিনি।

মা-বাবার এই ভালোবাসায় মুগ্ধ তাঁদের একমাত্র মেয়ে মাহ্ফরোজী আহম্মেদ। তবে পাশাপাশি কিছুটা চিন্তিত। ছোটবেলা থেকেই মা-বাবাকে একসঙ্গে চলতে দেখেছেন। যখন তাঁরা সুস্থ ছিলেন তখন খুব ভালো লাগত। কিন্তু এখন অসুস্থ, তবু একে অপরকে ছাড়া ঘরের বাইরে বের হন না। তাই একটু ভয় লাগে। তবে গর্ব অনুভব করেন মা-বাবার এমন বন্ধনে।

গল্পে গল্পে জানা গেল, শামসুল আলমের জন্ম ১৯৪১ সালে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে প্রথম বিসিএসে উত্তীর্ণ। কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। আর রওশন আরা এসএসসি পাস করা গৃহিণী। দুজনেরই বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাঁড়ারা গ্রামে। ১৯৬২ সালে তাঁদের পরিচয়। তখন থেকেই ভালোবাসার শুরু, ১৯৬৩ সালে বিয়ে। এরপর থেকে কেউ কাউকে ছেড়ে থাকেননি কখনো। কোনো ক্লান্তিও স্পর্শ করেনি দুজনের মনে।

১৯৯৮ সালে কর্মজীবন শেষ করে এতিমখানা পাড়ায় নিজের বাড়িটি তৈরি করেন শামসুল আলম। কিছুদিন পর মেয়ের বিয়ে দেন। কিছুটা একা হয়ে পড়েন রওশন আরা। তখন থেকে আর একটি বেলার জন্যও আলাদা হননি দুজন। ঘরে-বাইরের প্রতিটি কাজে দুজন দুজনের সঙ্গে আছেন। চলার পথে একে অপরকে ধরে রাখছেন শক্ত করে। আগলে রাখছেন ভালোবাসার বন্ধনে।

এভাবেই ভালোবাসায়, ভরসায় প্রতিদিন কাটান শামসুল আলম ও রওশন আরা দম্পতি ছবি: হাসান মাহমুদএভাবেই ভালোবাসায়, ভরসায় প্রতিদিন কাটান শামসুল আলম ও রওশন আরা দম্পতি ছবি: হাসান মাহমুদপাবনা জেলা শহরের এখানে-সেখানে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে এক দম্পতির। কখনো পত্রিকার দোকানে পত্রিকা কেনেন, কখনো বা মিষ্টির দোকানে বসে মিষ্টি খান। আবার কখনো বাজারের ব্যাগ হাতে হাঁটতে থাকেন। প্রতিক্ষণ দুজন একসঙ্গে। চলার পথে কখনো হাত ছাড়েন না একজন অন্যজনের। পাবনাবাসীর কাছে ভালোবাসার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

এই যুগল হচ্ছেন পাবনা জেলা শহরের শালগাড়িয়া মহল্লার এতিমখানা পাড়ার শামসুল আলম (৭৮) ও রওশন আরা (৭০)। যাঁরা ভালোবাসার বন্ধনে একে ওপরকে আঁকড়ে ধরে কাটিয়ে দিচ্ছেন যুগের পর যুগ। দুজনই বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছেন। তবু সংসারের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখানো, বাজার করা, প্রাতর্ভ্রমণ, বেড়ানোসহ সব ক্ষেত্রেই চলছেন একসঙ্গে।

পাবনা শহরে এই জুটিকে একসঙ্গে পথ চলতে দেখেনি এমন মানুষ মেলা ভার। অনেকে অনুপ্রাণিত হন তাঁদের দেখে। পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল খালেক যেমন বললেন, ‘বর্তমান সময়ে তরুণদের ভালোবাসার রং বদলায় ক্ষণে ক্ষণে। আস্থার প্রতি ক্লান্ত হয়ে সংসার ভাঙে। এই দম্পতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ভালোবাসা কেমন। তাই তাঁদের ভালোবাসা দেখে সুন্দরের পথ খুঁজি আমরা।’

প্রবীণ এই দম্পতির সঙ্গে কথা হলো ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়। ছোট নাতনি সুরঞ্জনা আহম্মেদ বাড়ির প্রধান ফটক খুলে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গেল। দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল একসঙ্গে দুজনকে। বসার ঘরের পাশের ঘরে গল্প করছিলেন দুজন। বাড়িতে অতিথি আসার খবরে উঠে এলেন একসঙ্গে।

বয়স বাড়ায় শরীরে নানা অসুখ বাসা বেঁধেছে। স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে গেছে বহু গল্প। কিন্তু ভালোবাসা হারায়নি এক ফোঁটাও—জানালেন শামসুল আলম।

শামসুল আলমের ভাষায়, ‘ভালোবাসা যে কী, তা এখনো বুঝিনি। তবে একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করেছি, আস্থা রেখেছি। এটাকেই ভালোবাসা মনে হয়েছে।’

একই কথা রওশন আরার কণ্ঠেও। তিনিও জানেন না ভালোবাসা আসলে কী। তবে বিশ্বাস রেখেছেন, সারা জীবন একে অপরের হাতটি ধরে চলার চেষ্টা করেছেন। মনে হয়েছে এটাই ভালোবাসা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবে চলবে বলে মনে করেন তিনি।

মা-বাবার এই ভালোবাসায় মুগ্ধ তাঁদের একমাত্র মেয়ে মাহ্ফরোজী আহম্মেদ। তবে পাশাপাশি কিছুটা চিন্তিত। ছোটবেলা থেকেই মা-বাবাকে একসঙ্গে চলতে দেখেছেন। যখন তাঁরা সুস্থ ছিলেন তখন খুব ভালো লাগত। কিন্তু এখন অসুস্থ, তবু একে অপরকে ছাড়া ঘরের বাইরে বের হন না। তাই একটু ভয় লাগে। তবে গর্ব অনুভব করেন মা-বাবার এমন বন্ধনে।

গল্পে গল্পে জানা গেল, শামসুল আলমের জন্ম ১৯৪১ সালে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে প্রথম বিসিএসে উত্তীর্ণ। কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। আর রওশন আরা এসএসসি পাস করা গৃহিণী। দুজনেরই বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাঁড়ারা গ্রামে। ১৯৬২ সালে তাঁদের পরিচয়। তখন থেকেই ভালোবাসার শুরু, ১৯৬৩ সালে বিয়ে। এরপর থেকে কেউ কাউকে ছেড়ে থাকেননি কখনো। কোনো ক্লান্তিও স্পর্শ করেনি দুজনের মনে।

১৯৯৮ সালে কর্মজীবন শেষ করে এতিমখানা পাড়ায় নিজের বাড়িটি তৈরি করেন শামসুল আলম। কিছুদিন পর মেয়ের বিয়ে দেন। কিছুটা একা হয়ে পড়েন রওশন আরা। তখন থেকে আর একটি বেলার জন্যও আলাদা হননি দুজন। ঘরে-বাইরের প্রতিটি কাজে দুজন দুজনের সঙ্গে আছেন। চলার পথে একে অপরকে ধরে রাখছেন শক্ত করে। আগলে রাখছেন ভালোবাসার বন্ধনে।

Top