আজ : বৃহস্পতিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৯ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাগাতিপাড়ায় ন্যায্য দাম না থাকায় ক্ষেতেই পাট কেটে নষ্ট করছে কৃষক

সময় : ৮:১৫ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৩ আগস্ট, ২০১৭


নাটোরের বাগাতিপাড়ায় খরচের তুলনায় দাম না থাকায় ক্ষেতেই পাট কেটে নষ্ট করছেন কৃষক। উৎপাদন খরচ ও শ্রমের মুল্য বেশি হওয়ায় বর্তমান পাটের বাজার মুল্যে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেননা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এদিকে পাট কাটতে ও ধোয়ায় পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকরা সঠিক সময়ে জমি থেকে পাট কাটতে এবং ধুতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার শ্রমিক পাওয়া গেলেও শুধু পাট কাটতে মুজুরি দিতে হচ্ছে বিঘা প্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। পাট কাটা থেকে জাগ দেওয়া, ধোয়া ও পরিবহন বাবদ যে খরচ হচ্ছে সেই পরিমান দাম না পাওয়ায় ক্ষেতেই পাট কেটে নষ্ট করছেন।
গালিমপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, তিনি চলতি বছর তিন বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। বাজার মুল্য কম থাকায় দেড় বিঘা জমির সব পাট ক্ষেতেই কেটে নষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, বীজ বপন থেকে ধোয়া-শুকানো পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। অথচ প্রতি বিঘা জমিতে পাটের উৎপাদন ৬ থেকে ৭ মণ। আর বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে মন প্রতি ১২শ টাকা থেকে ১৪শ টাকা পর্যন্ত। ফলে বিঘা প্রতি পাট বিক্রি করতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮শ টাকায়। এতে তাদের পরিবহন ও শ্রমের মূল্য দিয়ে লাভ তো দূরের কথা বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মন প্রতি পাটের দাম দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ টাকা হলে তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারতেন।
গালিমপুর মাঠে রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় গিয়ে সরেজমিন দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক পাট কেটে টুকরা টুকরা করে নষ্ট করছেন। গোড়া থেকে না কেটে প্রায় দুই থেকে আড়াই ফুট উঁচুতে পাট কাটছেন। সেগুলোকেও আবার কয়েক টুকরা করছেন। পাশের দুটি ক্ষেতে পাট কেটে জাগের পুর্বের প্রস্তুতি হিসেবে মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় ১৩২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ১৭৫০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় ৪৩০ হেক্টর বেশি। এদিকে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল হেক্টর প্রতি দুই টন। তবে এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে হেক্টর প্রতি দুই দশমিক দুই টন।
অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী বলেন, শহিদুল নামের কৃষক তার পাট কেটে নষ্ট করেছেন। তিনি হয়তো ঠিক মতো পরিচর্যা করেননি। সে কারনে তার ফলন ভাল না হওয়ায় তিনি পাট নষ্ট করছেন। তবে বর্তমানে এ এলাকায় শ্রমের মূল্য বেড়ে গেছে। কৃষক ও ভোক্তা শ্রেণীর দিকে লক্ষ্য রেখে সরকারের পক্ষ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ন পাটের বাজার দর নির্ধারন করা গেলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটবে না।

Top