আজ : বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাড়িতে বাবার লাশ রেখেই পরীক্ষা দিল সানজিদা

সময় : ৩:৫৬ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১১ এপ্রিল, ২০১৭


চট্রগ্রাম: চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সৈয়দা সানজিদা হামিম। প্রত্যেক পরীক্ষার দিন বাবা-ই তাকে মোটরবাইকে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন। কিন্তু সেই প্রিয় বাবার লাশ ফেলে রেখে পরীক্ষা দিতে যেতে হবে তা কি কখনো ভেবেছিল সানজিদা? কিন্তু নিয়তি তাকে এই কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য করেছে।

এখন থেকে সানজিদা আর কখনোই তার বাবার মোটরবাইকের পেছনে বসে পরীক্ষা দিতে যেতে পারবেন না। কারণ তার বাবা আর নেই। গতকাল সোমবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন সানজিদার বাবা মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ তৌহিদুল আলম। তাদের বাড়ি নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুর এবিসি গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সানজিদা এ বছর ফটিকছড়ি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাঁর পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল নানুপুর লায়লা কবির কলেজ। পরীক্ষা শুরুর পর থেকে প্রত্যেক পরীক্ষার দিনে সানজিদা বাবাই মেয়েকে মোটরবাইকে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে দিতে আসতেন, আবার নিয়েও আসতেন। গতকাল সোমবার সানজিদার আইসিটি পরীক্ষা ছিল। ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে হঠাৎ করেই তার বাবা সৈয়দ তৌহিদুল আলম (৬৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবার লাশ ঘরে রেখেই পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয় সানজিদাকে।

সানজিদার স্বজনরা জানায়, পরীক্ষা দেওয়ার মতো অবস্থা ছিল না সানজিদার। তারপরও স্বজনরা তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। তবে তিনঘণ্টার পরীক্ষার পুরো সময়টা লিখতে পারেনি সানজিদা। আড়াই ঘণ্টা পর খাতা জমা দিয়ে সে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসে।

সানজিদার বাবা তৌহিদুল আলম ফটিকছড়ি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন।

তৌহিদুল আলমের চাচাতো ভাই সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করেন। ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ শেষ করেন তৌহিদুল আলম। ফরজ নামাজ এক রাকাত আদায় করার পর তিনি মারা যান।

স্থানীয় সাংবাদিক ইউনুস মিয়া জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ছৈয়দিয়া তৈয়বিয়া মাদ্রাসা মাঠে তৌহিদুল আলমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর লাশ দাফন করা হবে।

Top