আজ : বুধবার, ১৬ই আগস্ট, ২০১৭ ইং | ১লা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাড়ির ছাদে বাগান ‘ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার বড় পথ’

সময় : ১২:৫৫ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২২ মার্চ, ২০১৭


কার্বন নিঃসরণ, ঘনবসতি, উচ্চ দালানকোঠা, এয়ার কন্ডিশনের অতিরিক্ত ব্যবহার ঢাকার প্রকৃতি ও প্রতিবেশের যে পরিমাণ ক্ষতি করছে তা পূরণের একটা বড় পথ বাড়ির ছাদে বাগান। এটি এখন সময়ের চাহিদা। কথাগুলো বলছিলেন পরিবেশবাদী ও নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব। তার মতে, সিটি করপোরেশনের একটা বিশাল দায়িত্ব পালনের জায়গাও এটি।
কিছুদিন আগে ছাদের ওপর বাগান নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে এমনই এক বাগান মালিকের সাথে কথোপকথনে উঠে এসেছিলো, পরিবারের সারা বছরের ফলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসারও পথ্য মিলে তার ওই ছাদের বাগান থেকে। এমনকি তিনি আখেরও চাষ করেছেন তার বাড়ির ছাদে।
ছাদে বাগান করলে বাড়ির কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয় কি না। কিংবা এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো উপায় অবলম্বনের বিষয় আছে কি না? এ প্রসঙ্গে পরিবর্তন ডটকম এবার কথা বলেছে স্থপতি ইকবাল হাবিবের সাথে।
‘বাড়ির ছাদে বাগান’ আপনি কি বলবেন?
অবশ্যই এটি এখন সময়ের চাহিদা। কারণ, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ, ঘনবসতি, উচ্চ দালানকোঠা, এয়ার কন্ডিশনের অতিরিক্ত ব্যবহার ঢাকার প্রকৃতি ও প্রতিবেশের যে ক্ষতি করছে তাতে বাড়ির ছাদে বাগান সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার একটা বড় পথ।
এতে বাড়ির কাঠামোগত কোনো ক্ষতির দিক?
একেবারেই না বরং পানি ড্রেনেজের ব্যবস্থা রেখে ছাদে বাগান করলে বাড়ির কাঠামোগত উপকারেই আসবে তা।
কীভাবে?
ক্ষতি না হওয়ার কারণ ঢাকা শহরের বাড়িগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ ডেড লোড (চাপ ধারণ ক্ষমতা) সম্পন্ন করে স্থাপন করা হয়ে থাকে। এছাড়া থাকে লাইভ লোড ক্ষমতা। তাই বাগানের অতিরিক্ত চাপের জন্য কাঠামোগত কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই এখানকার বাড়িগুলোতে। অপরদিকে, ইটের উপর থাকা ছাদের অংশে রোদ পড়লে বাড়তি চাপ না থাকায় এর ভেতরের রডগুলো সংকুচিত-প্রসারিত হয় এবং সেখানে ফাটলের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে বাগানের বাড়তি চাপ এবং সরাসরি রোদ পড়তে না দেওয়ায় এমন ফাটলের সম্ভাবনা আর থাকে না। এটাই হলো ছাদে বাগানের ফলে বাড়ির কাঠামোগত উপকারিতার একটা বড় দিক।
বাগানের পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে বাড়ি করতে গেলে বিশেষ কিছু অবলম্বন করতে হয় কি?
না। বাগানের ক্ষেত্রে ভাবনার একটাই বিষয় পানি ড্রেনেজ, যা বাগানহীন বাড়ির ক্ষেত্রেও। তাই প্রতিটি বাড়িতেই জলছাদ দেওয়া হয়ে থাকে।
ছাদে বাগান করতে সচেতনতা অবলম্বনের দিকগুলো?
বড় গাছ লাগাতে যে ড্রাম বা জার ব্যবহার হয়, সেগুলো বিম বরাবর স্থাপন করতে হবে। চারা রোপণের জন্য আধার তৈরি করলেও তা বিমের ওপর স্থাপন করতে হবে। আর স্বল্প ওজনের ওষুধি, ফুল, সবজি গাছগুলো টবে ছাদ জুড়ে ছড়িয়ে রাখলেও কোনো সমস্যা নেই। শুধু পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এ ধরনের বাগানে ফসলের চেয়ে ফলের চাষটিই বেশি ফলপ্রসূ, কেননা ছাদে ফসল রোপণের ক্ষেত্রে ড্রেনেজের বিস্তৃতির বিষয় থাকে।
সময়ের চাহিদা হয়ে থাকলে বাড়ির ছাদে বাগানের ক্ষেত্রে আর কি করণীয়?
প্রথমেই দরকার জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা। তবে এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের একটি বিশাল দায়িত্বের জায়গা রয়েছে। কারণ, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখতে বাড়ির ছাদে বাগানের কোনো বিকল্প নেই। তাই সিটি করপোরেশনের উচিত বাধ্যতামূলক বাড়ির ছাদে বাগান ব্যবস্থা চালু করতে সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রকল্প গ্রহণ।

Top