আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিভাগের রোষানলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ঢাবি শিক্ষককে বহিষ্কার

সময় : ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ০৯ মার্চ, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ক্লাসে ‘অশ্লীল চিত্র’ প্রদর্শনের অভিযোগ সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই কোর্সের ক্লাসে অংশ নেয়া একাধিক শিক্ষার্থী।

ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, কোর্স শেষে তাদের মন্তব্য নেয়ার জন্য একটি শীট দেয়া হয়েছিল। যেখানে শিক্ষার্থীরা তার নাম প্রকাশ না করে তাদের মন্তব্য দেয়ার সুযোগ পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য সেখানে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কেউ অধ্যাপক রিয়াজুলের বিরুদ্ধে কিছু লিখতে পারে। তবে ওই শীটে যেহেতু মন্তব্যকারীর নাম ছিল না, সেহেতু সেখানে কোন শিক্ষক ষড়যন্ত্র করে কিছু লিখে দিলে তাও ধরার কোন উপায় নেই।

কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ওই ব্যাচের ক্লাশ রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের জুনিয়র ডিরেক্টর মো. নাজিম উদ্দিন, জুনিয়র ডিরেক্টর রাফিয়া সুলতানা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সিরাজুল ইসলাম কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগের চেয়ারম্যানের নির্দেশেই অভিযোগ দিয়েছেন। তবে তারা ওই অভিযোগ পত্রে ঠিক কি লিখেছেন তা এখনো জানা যায়নি।

এ বিষয়ে কোনোমন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ ব্যাংকের জুনিয়র ডিরেক্টর রাফিয়া সুলতানা ।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই কোর্সে যে সব চিত্র দেখানো হয়েছে তা অশ্লীল। ওই শিক্ষক অন্য কোনোছবি বা বাজে ভাষা ব্যবহার না করলেও পারতেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ বিভাগীয় ওই শিক্ষককে কোনোরকম সতর্কবার্তা এবং অবহিতকরণ চিঠি না দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে উপ-উপচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদসহ আরও তিনজনকে নিয়ে মোট পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে ৮ মার্চ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি কোনোকাজ করেনি বলে জানা গেছে। এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করছে অধ্যাপক রিয়াজুল তার স্বপদে ফিরে যেতে পারবেন নাকি স্থায়ী বহিস্কার হবেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক গণমাধ্যম থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপের খবর জানতে পারেন। এমনকি তিনি যে কোর্সটিতে শিক্ষার্থীদের ‘অশ্লীল চিত্র’ প্রদর্শন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সে কোর্সটিও শেষ হয়ে গেছে গত বছরের ডিসেম্বরে। কোর্স চলাকালীন অবস্থায় কোনোশিক্ষার্থী আপত্তি না তুলে কয়েক মাস পর কেন আপত্তি তোলা হল? আর কেনই বা এই ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক রিয়াজুল ইসলামকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি? এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলছেন না। তবে এর আগে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তিনি অধ্যাপক রিয়াজকে তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাননি। তবে তিনি মৌখিকভাবে জানানোর দাবী করলেও অধ্যাপক রিয়াজ দাবী করেছেন আমাকে লিখিত বা মৌখিক কোনোভাবেই কোনোঅভিযোগ জানানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন অধ্যাপক জানিয়েছেন, বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ এবং চেয়ারম্যানের অনুগত অধ্যাপক তৈয়বুর রহমান বেশ আগে থেকেই অধ্যাপক রিয়াজুলের প্রতি অসন্তুষ্ট।

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান হতে চলছিলেন অধ্যাপক রিয়াজুল ইসলাম। বিভাগের ফান্ডের টাকা নিয়েও আছে নানা গুঞ্জন। উন্নয়ন গবেষণা সেন্টারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। এ সেন্টার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন চেয়ারম্যান। ফলে প্রতিযোগিতায় পিঁছিয়ে থাকা অন্য দুজন অধ্যাপক এ ঘটনার খলনায়ক হিসেবে কাজ করছেন বলেও সূত্রটি জানায়। অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান মিলে তাই তাকে অভিযোগ সম্পর্কে না জানিয়েই শিক্ষার্থীদের দিয়ে কৌশলে অভিযোগ করিয়ে তা দ্রুত পাঠিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

বিভাগীয় অভিযোগের ফলে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রিয়াজুল হককে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়ে এক সপ্তাহেও কোনোলিখিত আদেশ পায়নি অধ্যাপক রিয়াজ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে অধ্যাপককে না জানিয়েই বহিষ্কার করা হয়েছে দাবী করে সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার (৮ মার্চ) তাকে লিখিত নির্দেশের মাধ্যমে জানানো হয় যে,তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের আলোকে তাকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বহিষ্কারের সাথে সাথে তাঁর বেতনও আটকে দেয়া হয়েছে।

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন কোর্সেও জেন্ডার নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ দিতেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অধ্যাপক রিয়াজুলের কোর্সটি সম্পর্কে কোনোশিক্ষার্থী অভিযোগ না করলেও সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে বলে বিবার্তার অনুসন্ধানে জানা গেছে। তবে সান্ধ্যকালীন কোর্সের যেসব শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা। ডিসেম্বরের দিকে কোর্সটি শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা অধ্যাপক রিয়াজুলকে বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রৌপ্য মুদ্রাখচিত নান্দনিক একটি ক্রেস্টও উপহার দিয়েছিল। কোর্স শেষ হওয়ার পরপর ওই কোর্সের ফলাফলও পেয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা।

অধ্যাপক রিয়াজুল বলেন, কোর্স কন্টেন্ট নিয়ে কোনোআপত্তি থাকলে কোর্স চলাকালীন সময়ে কেন অভিযোগ করেনি? তখনো তাদের মনে হয়নি আমি অশ্লীল কিছু দেখিয়েছি। রেজাল্ট হয়ে গেল, তারা নতুন কোর্সে ক্লাশ শুরু করে দিলেন, তখনই কেবল তাদের মনে পড়লো আগের কোর্সটি অশ্লীল ছিল।

বিবার্তার পক্ষ থেকে ওই কোর্সে অংশ নেয়া একাধিক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই কোর্সে অংশ নেয়া দুই থেকে তিন জন ব্যতীত বাকি সবাই অধ্যাপক রিয়াজুলের উপর সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর কোর্স থেকে অজানা অনেক কিছুই শিখতে পেরেছেন।

জানা গেছে, কোর্সটি জেন্ডার রিলেটেড হওয়ায় অধ্যাপক রিয়াজ স্লাইডে কিছু ছবি দেখিছেন, যা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্লাইডে প্রদর্শিত ছবিগুলো সম্পর্কে ওই কোর্সে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ছবিগুলো আগেও দেখেছেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং টেলিভিশনে প্রচারিত অনুষ্ঠানের স্থির চিত্র থেকে অধ্যাপক রিয়াজুল ওই ছবিগুলো নিয়েছেন। তবে ওই ছবিগুলোকে তিনি প্রতীকী ছবি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পরিচিত ছবিগুলোকে প্রতীকী ছবি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের তাঁর কোর্সটি বুঝাতে চেষ্টা করেছেন।

জেন্ডার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রর পরিচালক, সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক সাদেকা হালিম বিবার্তাকে বলেন, ‘যে কনটেন্টগুলোকে অশ্লীল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে আমি তা দেখেছি। আমি সেখানে আপত্তিকর বা অশ্লীল কিছু খুঁজে পাইনি। আমি গত ১৫ বছর ধরে জেন্ডার কোর্সটি পড়াচ্ছি এবং বডি কনস্ট্রাকশন, সেক্সুয়ালিটি, হ্যারাসমেন্ট ইত্যাদি বোঝাতে শ্রেণিকক্ষে আমারও প্রাসঙ্গিক চিত্র ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। যদি কোর্স কন্টেন্টকে অশ্লীল আখ্যা দিয়ে কোনোঅধ্যাপককে চাকরি চ্যুত করা হয় তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জেন্ডার স্টাডিজ, জেন্ডার গবেষণা ও জেন্ডার উন্নয়নবড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়বে।’

অধ্যাপক রিয়াজের বহিষ্কারের খবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে এসে জেন্ডার স্টাডিজের প্রাসঙ্গিক চিত্র ব্যবহারকে অশ্লীল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। মেডিকেল সাইন্সের মত জেন্ডার স্টাডিজে অনেক প্রাসঙ্গিক চিত্র ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে, যা একজন জেন্ডার স্টাডিজ অধ্যাপকের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

বিবার্তার পক্ষ থেকে ওই কোর্সে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর সাথেযোগাযোগ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজের নাম প্রকাশের শর্তে অধ্যাপক রিয়াজুলের কোর্সের প্রশংসা করে মন্তব্য দিতে রাজি হয়েছেন। আবার বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছাও প্রকাশ করে জানান, কোর্স রিলেটেড চিত্রই ব্যবহার করা হয়েছে। অশ্লীল কোনোকিছুই আমরা দেখি না এখানে। তাদের ভাষ্য, তারা নাম প্রকাশ করে কোর্স শিক্ষকদের নিয়ে যে রাজনীতি চলছেতার শিকার হতে চাননা। তবে অধ্যাপক রিয়াজুল তাঁর কোর্সের বাইরে কোনোকন্টেট শ্রেণিকক্ষে প্রদর্শন করেননি বলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের মতামত দিয়েছেন।

অধ্যাপক রিয়াজুল ইসলাম বিবার্তাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তাঁরবিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দিলে বিভাগের উচিত ছিল প্রথমে তাকে জানানো এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলে তাকে লিখিতবাবে জানানো বিভাগের কর্তব্য। তিনি বলেন, আমাকে এখন(৭ মার্চ) পর্যন্ত কোনোধরনের লিখিত অভিযোগ জানানো হয়নি। আমি গণমাধ্যম থেকেই প্রথম জানতে পারি আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আমাকে তার দায়ে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।

অধ্যাপক রিয়াজুল হক আরো বলেন, ‘এই ঘটনার মাধ্যমে আমাকে মানসিকভাবে কঠিন শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমার ঘরে দুই বোন ক্যান্সার আক্রান্ত এবং এক বোন হাই প্রেসারের রোগী। তাদের কাছে এ খবর পৌঁছার পর তারা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমার বাবা মোজাম্মেল হক একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি। ষড়যন্ত্রমূলক এই ঘটনার পর আর মানসম্মানের সর্বনাশ তো করা হয়েছেই, আমাকে বাঁশেরকেল্লার সমর্থকরাও আমার পিঁছু নিয়েছে। তাদের হুমকির কারণেআমি বাসা থেকে বের হতে পারছি না ।

অধ্যাপক আরো বলেন, ‘২০১১ সাল থাকে আমি একই কোর্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, নর্থসাউথসহ আরও ৫-৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি। সেখানে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ অনেক কর্মকর্তারাও ছিলেন। কিন্তু কেউ কখনও আপত্তিতো দূরের কথা, সবাই আমার প্রশংসা করেছেন, পুরস্কৃতও করেছে কেউ কেউ।’

তদন্ত চলাকালীন কোনোধরনের মন্তব্য করতে রাজী হননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top