আজ : রবিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রিকশাচালকের ভাগ্য বদলে দিলেন এসআই আজাদ

সময় : ১২:৪৮ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১০ জুলাই, ২০১৭


বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈর থানার চোপড়া গ্রামের চিহারু ব্রাহ্মণের ছেলে পিপলু রায়। হতদরিদ্র পরিবারের জন্মের পর থেকেই অভাব অনটনের মধ্যে তাকে বড় হতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আহার জোগাতে রিকশা চালানোকেই তাই তার পেশা হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু পড়াশোনায় ছিল তার অগাধ নেশা। রিকশা চালানোর ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা করে পিপলু রায় এখন অর্নাস (জিওলজি) পরিক্ষার্থী।

হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে পরিবারের খরচ জোগিয়ে রাতে রিকশার গ্যারেজে পড়াশোনা করেন তিনি। দিনভর কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বর্তমানে তার বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। তার জীবনের এ করুন পরিণতি দেখে সাহায্যের হাত বাড়ালেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই ) আবুল কালাম আজাদ।

নিজের বেতনের টাকা থেকে পিপুল রায়কে পরীক্ষার খরচ দিয়ে তাকে একটি ফার্নিচার তৈরির প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, রিকশাচালক থেকে ভাল একটি চাকরি পাওয়ায় নিজের ভাগ্যের চাকার পরিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করছেন পিপলু রায়।জীবনের প্রথমে ভাল চাকুরি পাওয়ায় এ ছাত্র আজ আনন্দিত।

পিপুল রায় বলেন, তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জিওলজিতে অর্নার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। এখন তার আর পরীক্ষা দিতে কোন সমস্যা হবে না। চাকরির ফাঁকে পড়াশোনাও করতে পারবেন ভাল ভাবেই। সংসারের খরচ জোগাতেও কষ্ট করতে হবেনা।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওই এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ৪ জুলাই রাতে সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা খন্দকার প্লাজার সামনে থেকে রিকশাযোগে তিনি তার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে রিকশা চালক পিপুলকে তার স্ত্রী-সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে চমকে দিয়ে বলেন- স্যার এখনও অনার্স কমপ্লিট করতে পারিনি। সামনে আমার ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা। দারিদ্রতার কারণে গ্রামের বাড়ি থেকে সোনারগাঁয়ে এসে রিকশা চালিয়ে লেখাপড়ার খরচ ও পরিবারের সদস্যদের আহারের ব্যবস্থা করছেন। আর রাতে সুযোগ পেলেই রিকশার গ্যারেজের ভেতরে জ্বালিয়ে রাখা বিদ্যুতের বাতির আলোতে লেখপাড়া করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আজাদ আরো জানান, ভাড়ায় চালিত রিকশাটি চুরি হয়ে যাওয়ায় পিপুল রায়কে রিকশা মালিককে ২০ হাজার টাকা কিস্তি করে দিতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে তার মাত্র ৬ হাজার টাকা পরিশোধ হয়েছে। অনার্স পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য প্রয়োজন সাড়ে ৬ হাজার টাকা।

পিপুলের এ কথা শুনে তার দু’চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রু। পরে তিনি এ প্রতিভাবান পরিশ্রমী ছাত্রের কল্যাণে কিছু একটা করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন।

অবশেষে স্থানীয় প্রকৌশলী আহম্মেদ আলী তানভীরের সঙ্গে রিক্সাচালক পিপুলের বিষয়ে আলোচনা করে তার প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।

Top