আজ : রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় সিরিয়ালের প্রভাবে মৃত্যুর মুখে বেনারশি শাড়ি

সময় : ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২০ জুন, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

কটা সময় যেকোনো উৎসবে বাংলাদেশের নারীর কাছে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করত বিশ্ব প্রসিদ্ধ মিরপুরের বেনারশি শাড়ি। শুধু যে বাঙ্গালী নারীদের পছন্দের শীর্ষে তা নয় বলিউডের নায়িকা থেকে শুরু করে বিশ্বের অনেক আধুনিক জীবন ধারার শহরেও অধিকাংশ নারিদের পছন্দের তালিকার শীর্ষ থাকা মিরপুরের বেনারশি শাড়ি এখন ধ্বংসের মুখে।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, গুলশান ১ ও ২ ডিসিসি মার্কেটে প্রতিটি শাড়ির দোকানে ডিসপ্লেতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ভারতীয় শাড়ি।

মিরপুরের বেনারশি পল্লীর কদর সারা বিশ্ব জুড়ে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর বেনারশি শ্রমিকদের এক অংশ চলে আসে বাংলাদেশ। এর পর বেনারশি তাঁতিদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্রমের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের প্রথম বেনারশি পল্লী। যা পরে বিশ্ব জুড়ে বেনারশি পল্লী হিসাবে পরিচয় লাভ করে।

এই বেনারশি পল্লী থেকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হলেও ভাগের পরিবর্তন হচ্ছে না এই পল্লীতে থাকা তাঁতিদের জীবনের। এর উপরে যুক্ত হতে চলেছে বাংলাদেশে ভারতীয় শাড়ীর রাজত্ব। যাতে বন্ধ হতে বসেছে মিরপুরের বেনারশি শিল্প।

২০০২ সালের ভারতে একটি সিনেমার জন্য বেশি ভাগ শাড়ি নেওয়া হয়েছিল এই বেনারশি পল্লী থেকে। কিন্তু বর্তমানে মিরপুর বেনারশি পল্লীর ৬০% শাড়ি ভরতীয় শাড়ি দখল করে নিয়েছে।
বিয়ের পর থেকে রোজা রাখি, নামাজ পড়ি : অপু

মিরপুরের বেনারশি পল্লীর তাঁতিদের সাথে কথা বলে জানা যায় , ভারতীয় শাড়ি দামে কম ও দেখতে মিরপুরের শাড়ীর থেকে উজ্জ্বল হওয়ার কারণে বেশিভাগ ক্রেতা ভারতীয় শাড়ীর দিকে ঝুঁকছে।

অন্যদিকে অনেক বেনারশি কারিগর এই পেশা থেকে সরে আসছে। কারণ হিসাবে তাঁত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বলেন, ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না তারা। যে শাড়ীর মজুরি ২২’শত টাকা হওয়ার কথা সে শাড়ির মজুরি দিচ্ছে ১২শত থেকে ১৪শত টাকা।

তাঁত মালিক আব্দুল কুদ্দুস শাওন বলেন, বর্তমানে শাড়ির কাচা মালের দাম অনেক চড়া। আর একটা শাড়ি তৈরিতে সময় লাগে ৭ থেকে ৮ দিন। আর খরচ হয় ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। আর শোরুম গুলো সেই শাড়ির জন্য দাম দেয় ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা। আর এত টাকা দিয়ে পরিবার নিয়ে জীবন যাপন করা অনেক কষ্ট হয়ে যায়। তাই মিরপুরের অনেক তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর এই কারণে অনেক তাঁতি পেশা পরিবর্তন করে নতুন পেশা বেঁছে নিচ্ছে।

মজুরি কম দেওয়ার কারণ জানতে কথা হয় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নাসিমের সাথে।তিনি বলেন, বেনারশি বিগ বাজারের পরিচালক ও পারিবারিক সূত্রে ২টি তাঁতের মালিক তিনি।

তিনি বলেন, ইন্ডিয়ার শাড়ির দাম কম হওয়ার কারণ বাংলাদেশি শাড়ি কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। যাতে করে বেশি মজুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিয়ের পর থেকে রোজা রাখি, নামাজ পড়ি : অপু

কেন হঠাৎ করে ইন্ডিয়ান শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে জানতে চাইলে নাসিম জানান, সিরিয়ালের কারণে হঠাৎ করেই বিগত বছর গুলোতে ইন্ডিয়ান শাড়ীর চাহিদা বেড়ে গেছে।

ভারতিয় শাড়ির চাহিদার ব্যাপারে শাহীন ফ্যাশান হাউজ ম্যানেজার মোছলেম হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শাড়ির ক্রেতারা এখন আর দেশি জামদানি ও বেনারশি পছন্দ করে না। আমাদের দেশের নারীরা ভারতিয় শাড়ি পছন্দ করে এখন । দেখা যায় ঈদ, বিয়ে ও যে কোনো অনুষ্ঠানের তারা ইন্ডিয়ান শাড়ি নিয়ে থাকে। এর মূল কারণ হচ্ছে ভারতীয় সিরিলায় গুলোতে বাঙ্গালি নারীরা এই শাড়ি গুলো দেখে থাকে।

বেনারসি শিল্পের এই দূরাবস্থা কারণ জানতে কথা হয় বেনারশি প্রাথমিক তাঁত সমিতি সাবেক সভাপতি মোঃ রফিক সাথে। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটা সময় আমাদের এই বেনারশি পল্লীর প্রতিটি ঘরে টুকটাক টুকটাক শব্দের ছন্দ শোনা যেত। ঈদ আসলে রাত দিন কাজ চলত। কিন্তু এগুলো এখন শুধু ইতিহাস। আর আমাদের বেনারশি শিল্পের এই অবস্থার জন্য যেমন দায়ী ইন্ডিয়ান শাড়ি ঠিক তেমন দায়ী সরকারের অব্যবস্থানাও।

আপনি ইন্ডিয়া গিয়ে দেখেন বাংলাদেশের কোনো শাড়ি বা কাপড় পাবেন কি না ? কিন্তু আমাদের সরকার ভারতীয় কাপড় কোনো বাধা ছাড়াই প্রবেশ করতে দিচ্ছে মোঃ রফিক আরও বলেন, আমাদের শিল্পকে বাঁচাতে হলে এখন সরকারি সহযোগিতার প্র্যোজন।কিন্তু এই বিষয়ে দেখার কেউ নেই।

বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কার্যকরী সভাপতি সাধনা দাশ গুপ্তা সাথে সাথে কথা হলে তিনি জানান, বেনারশি শ্রমিকদের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোডের চেয়ারম্যানের সাথে কথা চলছে। শীঘ্রই একটা সমাধান পাওয়া যাবে।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top