২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, রবিবার

মনিরামপুরে ভিজিএফের চাল জব্দের ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি

আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অমারেশ কুমার বিশ্বাস,জেলা প্রতিনিধি, যশোর: মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নে গরিবের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চার’শ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। সোমবার দিনভর মনিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড.আবুজার সিদ্দিকী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সবুরের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি এ তদন্ত করেন। এ সময় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ইয়ারুল হক জানান, এবারের ঈদে হরিহরনগর ইউনিয়নের চার হাজার ২০২ কার্ডধারী দুস্থ পরিবারের জন্য দুই হাজার ৮০১ বস্তা (৮৪ মেট্রিক টন) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঈদের আগেই উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম চাল বিতরণে অনিয়ম করেছেন। অভিযোগ ছিল, চেয়ারম্যান চার’শ বস্তা চাল বিতরণ না করে আত্মসাতের উদ্দেশে খাটুরা বাজারে নুরুল ইসলামের গুদামে মজুদ রেখেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমান উল্লাহ শরিফীর নির্দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ারের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের টিম গত ২০ আগস্ট নূর ইসলামের গুদামে অভিযান চালিয় ভিজিএফের চার’শ বস্তা চাল জব্দ করেন। এ ঘটনায় পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবুজার সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত সোমবার সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে বেশ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য মিলেছে বলে জানান তদন্তটিমের সদস্য ইয়ারুল হক।
এদিকে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, উপকারভোগীদের যে তালিকা সরকারিভাবে প্রণয়ন করা হয়েছিল তার সাথে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা ও মাস্টাররোলের কোন মিল পাওয়া যায়নি। সরেজমিন তদন্তে কয়েকজন উপকারভোগী, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাথে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের বক্তব্যের মধ্যেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া মাস্টাররোল তদন্ত করে দেখা গেছে, একই পরিবারের অন্ততঃ পাঁচজনের নামে চাল উত্তোলন করা হয়েছে, যেখানে সবার পিতার নাম একই। আবার কয়েকজন কলেজছাত্রের নামও রয়েছে ওই তালিকায়। তবে চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেছেন, তিনি সদ্যনির্বাচিত হয়েছেন। ফলে অনিয়মের এ বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি বলে তদন্ত টিমের কাছে দাবি করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন