১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, শনিবার

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অমারেশ কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রতিনিধি (যশোর):

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা দাবিতে সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা দাবি তুলে ধরে এবং দাবিদাওয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের নিকট থেকে প্রতি কোর্সে রিটেক(ফেল) বাবদ ২০০০ টাকা, স্পেশাল সেমিস্টারে রিটেক কোর্স ৫০০০ টাকা দিতে হয় । এছাড়া ল্যাব অথবা স্পেশাল কোর্সে রিটেকের জন্য প্রতি কোর্সের জন্য ১০,০০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হয়। ইয়ার ড্রপ সিস্টেমের বদলে ইম্প্রুভ সিস্টেম চালু করার দাবি জানায়।

বিক্ষোভ সমাবেশে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান চালিয়ে যাবো, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ মানা হবে না। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের উপর জোর করে এমন অনিয়ম চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’উক্ত সমাবেশে তিনি প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও রেজিস্ট্রারের বহিষ্কারের দাবি জানান। তাছাড়া যে কোনো অনুষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদের গ্যালারি ব্যবহার করতে না দেওয়া, প্রতি সেমিস্টারে ১৫০ টাকা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন না করা, রাষ্ট্রপতি ও উপাচার্য পদক পাওয়ার পরেও ডিপার্টমেন্টে ১ম ২য় ও ৩য় স্থানে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ারও অভিযোগ করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে রেজিষ্ট্রার দপ্তরে জানতে চাওয়া হলে রেজিষ্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব সাংবাদিকদের জানান, ‘এ বিষয়ে আমার নিকট কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি, অভিযোগ আসলে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব’।

উক্ত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, শহীদ মসিয়ূর রহমান (শমর) হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা তিনি বলেন, প্রতি কোর্সের জন্য এত টাকা দেয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সম্ভব না আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এমন অযৌক্তিক নিয়ম বানানোর জন্য। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদের মূল্যয়ন করা হচ্ছে না, বিশ্ব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা ঠিকি নেয়া হচ্ছে অথচ সাংস্কৃতিক কোন কিছুর চিহ্ন মাত্র নেই। কেউ কোন প্রোগ্রাম করতে চাইলে কেন্দ্রীয় গ্যালারিও দেয়া হচ্ছে না। সকল দাবীগুলো যৌক্তিক দাবী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবী তাই আমি সকলকে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি ।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান বলেন, আমরা এর আগে একই আন্দোলন করেছিলাম সেখানে প্রশাসন সব মেনে নিলেন কিন্তু পরে এসব অযৌক্তিক নিয়ম করে রেখে দিলেন এটা তো আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। পাবলিক ভার্সিটিতে পড়া কোন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে প্রতি কোর্স এর জন্য ১০০০০ টাকা দেয়া সম্ভব নয়। তাছাড়াও আমাদের বাসে মেয়েদের দাঁড়িয়ে যেতে হয় পর্যাপ্ত সিটের অভাবে অথচ পরিবহন এর খরচ প্রতিটি শিক্ষার্থী দেয়, পর্যাপ্ত ক্লাস রুমও নেই, আমাদের ল্যাবে ক্লাস করতে হয়।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন ও দাবী প্রশাসন এর সকল ভুল ত্রুটিগুলো তুলে ধরে এগুলো দ্রুত সমাধাণ এর দাবী জানান শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন। সেই সাথে তিনি সকলকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করতে বলেন।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ আল মাহমুদ বলেন, সবার আগে আমাদের পরিচয় আমরা সবাই ছাত্র। তাই সাধারণ শিক্ষারর্থীদের যে কোন যৌক্তিক আন্দোলনে আমরা পাশে আছি।

এসময় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এর প্রচার সম্পাদক মাহমুদ নুর, পিইএসএস বিভাগের সভাপতি আসিফ আল মাহমুদ প্রমুখ।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সেমিস্টার ফি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য খরচ মিটাতে গিয়ে হিমসিম। খেতে হয়, তারপর বিভি্ন কারনে যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এত বেশী জরিমানা করলে সেটা তাদের পক্ষে দেওয়া খুবই কষ্টকর, প্রায় অসম্ভব।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে ছাত্রলীগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা কর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন