২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, মঙ্গলবার

যশোর-৩: আ.লীগে প্রভাবশালী ৩, বিএনপিতে তরিকুল পরিবার

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

যশোর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-৩ আসনটি মোটা দাগে কোনো দলের একক প্রভাবিত এলাকা বলা যায় না। একবার বিএনপি তো একবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন এখানে। জেলা সদর এলাকা বলে এ আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যশোর পৌরসভা, সেনানিবাসসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এখানে প্রধান দুই দলই মনোনয়ন দেয় শক্ত প্রার্থী।

ব্রিটিশ-ভারতে বাংলাদেশের প্রথম জেলা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীন জেলা যশোরের এই সদর আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কাজী নাবিল আহমেদ। আগামী নির্বাচনেও তিনি অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার পাশাপাশি দলের মনোনয়ন চাইবেন আরো দুজন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এই তিন নেতার মধ্যে।

অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন সাবেক মন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। কোনো কারণে তিনি নির্বাচন না করলে তার পরিবারের কেউ করবেন। তবে দলের আরো দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে আলোচনা আছে।

জাতীয় সংসদের ৮৭ নম্বর নির্বাচনী এলাকা যশোর-৩ আসনের ভোটারসংখ্যা অন্যান্য আসনের চেয়ে বেশি। হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ১৬১ জন ভোটার রয়েছে এখানে। আগের নির্বাচনগুলোর ফল থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে বিএনপি প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তারই বন্ধু আলী রেজা রাজু। ২০০১ সালে আলী রেজা রাজুকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম। ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন তার আরেক বন্ধু খালেদুর রহমান টিটো। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগ

দলীয় নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেতে ক্ষমতাসীন দলের যে তিনজন মাঠে নেমেছেন তাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারকে এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বর্তমান সাংসদ নাবিল আহমেদ খুব পিছিয়ে নেই। আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটোও অনেক দিন পর আবার সক্রিয় হয়েছেন। তারা গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করছেন কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে।

শাহীন চাকলাদার প্রায় প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে সমাবেশ করছেন। ওই সব সমাবেশ থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। স্থানীয় পত্র-পত্রিকায়ও এ ব্যাপারে খবর ছাপা হচ্ছে। দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী শাহীন চাকলাদার।

নিজের আশাবাদের পক্ষে কারণ হিসেবে শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘যশোর সদরের ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যশোর পৌরসভার মেয়র আমার সঙ্গে আছেন। আমি ১৭ বছর তৃণমূলের সঙ্গে আছি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরাও আমার সঙ্গে আছে। আমি দলকে ঐক্যবদ্ধ করে জামায়াতবিরোধী ভূমিকা রেখেছি। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার দিয়েছি। সরকারি সাহায্য ছাড়াও আমি ব্যক্তিগতভাবে মসজিদ-মন্দির ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছি।’

মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী নাবিল আহমেদের পক্ষেও সভা-সমাবেশ ও মিছিল হচ্ছে। তিনিও আশাবাদী মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে। নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এতে ভূমিকা রাখবে দাবি করে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘দলীয় নীতিনির্ধারকরা তা জানেন। সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ কারণে দলীয় মনোনয়ন আমাকেই দেওয়া হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা খালেদুর রহমান টিটো নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। মিছিল-সমাবেশ করে তিনি নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

বিএনপি

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজন হলেও বিএনপির রাজনীতির মাঠে মনোনয়নপ্রত্যাশী এখন পর্যন্ত একজন। সাবেক মন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম মনোনয়ন পাবেন এটা নিশ্চিত। দলীয়ভাবে এমন কথা শোনা যাচ্ছে যে তরিকুল ইসলাম অসুস্থতার কারণে নির্বাচনে অংশ না নিলে তার স্ত্রী নার্গিস বেগম কিংবা ছেলে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

অবশ্য নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম মারুফ ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবুও মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে এ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো আরোচনা করেতে শোনা যায়নি তাদের।

দলটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত আমার বাবা তরিকুল ইসলামকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। বাবা যদি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে দল তার মনোনীত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হওয়ার জন্য শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলমও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন