২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, রবিবার

রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর ওপর উপজাতি নারীদের হামলা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

শাহেদ জামাল বাবু. রাঙ্গামাটি সদর প্রতিনিধি: অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজদের পক্ষে দাঁড়ালো রাঙামাটির পৌরসভা এলাকার ৬নং ওয়ার্ড এর রাঙাপানি এলাকার পাহাড়ি নারীরা। রাঙামাটি সেনাসদর দফ্তরের মাত্র ০.৫ কিলোমিটার দূরের লোকালয় থেকে ২ জন চাঁদাবাজকে হাতেনাতে গ্রেফতারের পরও তাদের থানা পর্যন্ত নিয়ে আসা যায়নি পাহাড়ী নারীদের বাঁধাজাল থেকে।

চাঁদাবাজদের বাঁচাতে মাঠে নামা নারীরা সেনা সদস্যদের উপরে লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালেও ধৈর্য্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সেনা জোয়ানরা। পাহাড়ী নারীদের উপর জোর খাটিয়ে তারা হয়তো চাঁদাবাজ দুজনকে আনতে পারতো কিন্তু সে ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ পেতো পাহাড়ের পাহাড়ী সাম্প্রদায়িক দলগুলো এমন মন্তব্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর এক উর্দ্বতন কর্মকর্তা জানান, মূলতঃ এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দুই চাঁদাবাজকে হাতেনাতে আটকের পরও তাদের ছেড়ে দিয়ে আসতে বাধ্য হয় যৌথবাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শহরের রাঙ্গাপানি এলাকায় নজিরবিহীন এই ঘটনা সংঘটিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে রাঙ্গাপানি এলাকায় দু’চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর একটি টহলদল ওই দু’চাদাঁবাজ সন্ত্রাসীকে আটক করার জন্য অভিযান পরিচালনা করে চাঁদা কালেক্টর সুরেশ চাকমা ও নয়নমনি চাকমাকে আটক করে।

এদিকে এই দু’জনকে আটকের পর মুহুর্তের মধ্যে এলাকার পাহাড়ি নারীরা আটককৃতদের নিয়ে আসতে যৌথবাহিনীকে বাঁধা প্রদান করে এবং লাঠি দিয়ে সেনাবাহিনীর উপর হামলাও করে।যৌথবাহিনীর উপর লাঠি-সোঠা নিয়ে হামলা চালিয়ে আটক দুই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীকে মুহুর্তের মধ্যেই ছিনতাই করে নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয় পাহাড়ি সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নারীরা।পরে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর থেকে রাঙামাটির সচেতন মহল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইতে শুরু করে। সচেতন মহলের দাবি নিরাপত্তা বাহিনী হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বাহিনী তাদের উপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো সত্যি ঘৃণার জন্ম দিয়েছে এবং যারা এ ধরণের কর্মকান্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে সোস্যাল মিডিয়ায়।

এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১০জনকে আটক করেছে কতোয়ালী থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলো-

১-মালতী চাকমা (৩৫), স্বামীঃ উমায়ে চাকমা,
২-সুভা চাকমা (৩৭), স্বামীঃ জ্যোতি চাকমা, রুবেশ চাকমা(৪২), পিতাঃ পেদারা চাকমা, ৩-অজিৎ চাকমা(৪৭), পিতাঃ তামরুল চাকমা,
৪-অন্তিক দেওয়ান(৪৪), পিতাঃ শ্যামা প্রসা দেওয়ান,
৫-রিপু চাকমা(২৭), পিতাঃ সুমি মোহন,
৬-সুমন চাকমা(২১), পিতাঃ পূর্ণধন চাকমা, ৭-জাবলিং খীসা (২৪) পিতাঃ প্রিতিরাজ,
৮-লক্ষীমনি চাকমা (৩৫) স্বামীঃ মিথুন চাকমা,
৯-রুপন চাকমা (৪০)স্বামীঃ কোইজ চাকমা, ১০-কালেবরত্ম চাকমা (৩৩) স্বামীঃ ফেইল্যা চাকমা।

এদিকে, বুধবার মধ্যরাতে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়ুয়া আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, আমরা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কিছু লোকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছি। সার্বিক বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বিস্তারিত আপনাদের জানিয়ে দেবো।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন