আজ : শুক্রবার, ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং | ৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ডতদন্ত টিমের কাছে অভিযোগ

সময় : ৪:১৮ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১১ এপ্রিল, ২০১৭


লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ বিভাগে অবহেলায় ৪ শ্রমিকের

মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের

সাথে কথা বলেছেন তদন্ত টিম। মঙ্গলবার দিনভর ৪ সদস্যের ওই তদন্ত টিমের

নেতৃত্ব দেন জেলা নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট আমিনুর রহমান। এ সময়

তদন্ত টিমের কাছে নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন

বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। নিহত

খোরশেদ আলমের মোবাইল ফোনটি জব্দ করে নিয়ে যায় তদন্ত টিম।

তদন্ত টিমকে ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মজিবর রহমান মজি বলেন,

ঘটনার আগের রাতে হাতীবান্ধা বিদ্যুৎতের আবাসিক প্রকৌশলী

সিরাজুল ইসলাম আমার গুদাম ঘরে কাছে নিহত বিদ্যুৎ শ্রমিক খোরশেদ

আলমকে ডেকে রাতেই ছিড়ে পড়া বিদ্যুৎতের তারটি মেরামত করতে চাপ

দেয়। পরে খোরশেদ আলম পরের দিন সকালে মেরামত করে দিতে চাইলে তাকে

বিদ্যুৎতের তার দিয়ে প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম চলে যায়। ঘটনার দিন

সকালে আমার সামনেই খোরশেদ আলম হাতীবান্ধা বিদ্যুৎতের আবাসিক

প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামকে ফোন দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ করে

বিদ্যুৎতের খুটিতে উঠেন। তারপর হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু হলে ৪

জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।

নিহত খোরশেদ আলমের ভাই আসাদুজ্জামান আসাদ তদন্ত টিমকে বলেন,

মোবাইল কললিস্ট দেখলেই এটি যে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড তা বের হয়ে

আসবে। এ হত্যাকান্ডের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সরাসরি

জড়িত। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই আবার

সঞ্চালন চালু হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিদ্যুৎতের বিল বিতরণকারী

লিফটন ও রবিউল পালিয়ে যায়।

নিহত মিল্টনের ভাই হাসান রাজীব তদন্ত টিমকে বলেন, হাতীবান্ধা

বিদ্যুৎতের আবাসিক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, বিল বিতরণকারী

লিফটন ও রবিউলসহ বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এ হত্যাকান্ডের সাথে

জড়িত। আমরা তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করছি।

তিনি বলেন, তদন্ত টিম নিহত ৪ পরিবারের ৪ জন, প্রত্যক্ষদর্শী ৩ জন ও

স্থানীয় ৫ জন নিরপেক্ষ লোকজনের লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন। তদন্ত টিমের

সাথে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এনামুল কবির

উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত টিমের প্রধান লালমনিরহাট জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আমিনুর

রহমান তদন্ত শেষে উপস্থিত নিহত ৪ পরিবারের সদস্যদের বলেন, আমরা নিহত

৪ জনের জীবনের মুল্য দিতে পাবো না। আপনাদের বক্তব্য নিলাম। বিদ্যুৎ

বিভাগের লোকজনের বক্তব্য নিবো। যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন

জমা দিলেই উর্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি

ইউনিয়নের কাছিম বাজার এলাকায় বিদ্যুৎতের তার মেরামত করতে গিয়ে

বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় ৪ বিদ্যুৎ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনাটি

পরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবী করে আন্দোলন করে আসছে বিদ্যুৎ শ্রমিকরা।

Top