আজ : বৃহস্পতিবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের উপোস রেখে সোনার কোর্ট পিন নিলেন

সময় : ৮:৩৩ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১০ এপ্রিল, ২০১৭


শিক্ষকদের উপোস রেখে সোনার কোর্ট পিন নিলেন এটওি

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে ফেলে, শিক্ষকদের উপোস রেখে উপজেলা

সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) উপঢৌকন নিলেন। বই নয়,

উপঢৌকন হিসেবে সোনার কোর্ট পিন নিলেন, তাও বিদায়

বেলা। ওই বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকদের খাবারের

টাকায় কেনা উপোঢৌকন তিনি নিজই বিদায়ী ওই

কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার শেষ

বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরুপকাঠী) উপজেলার

সোহাগদল ইউনিয়নের আলকিরহাট সরকারি প্রাথমিক

বিদ্যালয়ে।

যদিও সরকারি চাকরি বিধিমালা ২০০৮ (সাধারন আচারন ও শৃঙ্খলা

ভঙ্গ-দুদক) উল্লেখ রয়েছে, ‘কমিশনের সহিত কাহারো কোন

কাজ রহিয়াছে বা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন কোন ব্যাক্তি

বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে কোন দান বা উপহার গ্রহন

করিবেন না।’ বিদায়ী সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

(এটিও) মাশহুদ করিম বলেন, শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছেইকোটপিন

দিয়েছেন। আইনে যাই থাক উপহার না নেয়া শিক্ষকদের অপমান

করার সামিল। চারবছর তাদের সঙ্গে কাজ করেশেষ মুহুর্তে কষ্ঠ

দিতে চাইনি বলেই উপোঢৌকন নিতে বাধ্য হয়েছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, সোহাগদল এবং

সারেংকাঠী ইউনিয়নে ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রয়েছে। স্কুলে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ১৬০জন। আইন

অনুযায়ী, এটিও মাশহুদ করিম ওই স্কুলগুলোর সকল কার্যক্রম

(ক্লাস্টার) পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী

মাসে তার টাঙ্গাইলে বদলীর আদেশ আসে। দাপ্তরিক কাজের কারনে

তিনি নতুন কর্মস্থলেযোগদান করতে পারেননি। চলতি সপ্তাহেই

তার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা রয়েছে। তাই দুটি

ইউনিয়নের শিক্ষকরা তার বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সকল

শিক্ষক যাতে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনসে জন্যই বিদায়

অনুষ্ঠানের দিন শিক্ষকদের (ক্লাস্টার) প্রশিক্ষনের জন্য নির্ধারন

করা হয়।

সে অনুযায়ী, রবিবার ৫টি স্কুল বন্ধ ঘোষনা করে ওই স্কুলের

৩০জন শিক্ষককে আলকিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষনের

আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে এটিও মাশহুদ করিম

সকালথেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে

২৭টি স্কুলের ১৬০ জন শিক্ষকের অধিকাংশই সকালে প্রশিক্ষন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। শিক্ষকরা ক্লাস্টার প্রশিক্ষনের কথা বলে

অলিখিতভাবে বন্ধ ঘোষনা করেন স্কুল। হঠাৎ বিদায় অনুষ্ঠান

আয়োজন করায় আগেভাগেই বন্ধের কথা শিক্ষার্থীদের জানানো

সম্ভব হয়নি। তাই শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে শুনেন শিক্ষকরা

প্রশিক্ষনে অংশ নিচ্ছেন তাই ক্লাস বন্ধ রয়েছে। ফলে

শিক্ষার্থীরা এসেই স্কুল ছেড়ে চলে যায়।

প্রশিক্ষনে অংশনেয়া শিক্ষকরা বলেন, একদিনের প্রশিক্ষনের জন্য

তাদেরকে জনপ্রতি খাবার বাবদ ২৪০টাকা বরাদ্ধ রয়েছে। তারা

বরাদ্ধকৃত টাকার বিপরীতে ১০০টাকা পেতেন। বিদায় অনুষ্ঠানের

জন্য ওই টাকা তাওদেয়া হয়নি, উল্টো তাদের কাছ থেকে

জনপ্রতি আরো ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। যারা প্রশিক্ষনে

অংশ নিতে পারেনি, তাদেও জনপ্রতি ২৯০টাকা করে দিতে

হয়েছে। এভাবে বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা

চাঁদা তোলা হয়েছে। তবেসেই টাকায়সোনারকোর্টপিন,

পাঞ্জাবি আর পায়জামা কেনা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষক

নেতারাশোপিচ উপহার দিয়েছেন।

সোহাগদল ইউনিয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক

সমিতির সভাপতি হালিম হোসেন বিদায় অনুষ্ঠানের সার্বিক

তত্বাবধায়নে ছিলেন। তিনি আলকিরহাট সরকারি প্রাথমিক

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক। তার স্কুলেই বিকালে বিদায় অনুষ্ঠান

শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা চলেছে। তিনি বলেন, এটিও

স্যার চারবছর আমাদের সুখে-দু:খে পাশে ছিলেন। তার বিদায়

অনুষ্ঠানের জন্য ১৬০জন শিক্ষক অর্থিক সহযোগিতা

করেছেন।সেই টাকায় সামান্য কিছু উপহার সামগ্রী

দিয়েছিল। বিদায়বেলা সকলেই উপহারনেন। এটা অবৈধ হলেও

নিয়মে পরিনত হয়েছে। সে জন্যই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা

র্কমকর্তা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে

সোনার কোর্টপিন বিদায়ী এটিও স্যারের হাতে তুলে

দিয়েছেন।

সারেংকাঠি ইউনিয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক

সমিতির সাধারন সম্পাদক মাহবুব হোসেন বলেন, সকল

শিক্ষককে বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনের জন্য মুঠোফোনে বলা

হয়েছিল। দুপুরের মধ্যেই স্কুল ছুটি দিয়ে অধিকাংশ শিক্ষক

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। দুটি ইউনিয়নের শিক্ষকরা চাঁদা

তুলে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। সকলেই নিজ উদ্যোগে

অর্থিক সাহায্য করেছে। কাউকেকোন ধরনের চাপদেয়া হয়নি।

এ ধরনে অনুষ্ঠান ইতোপূর্বেও হয়েছে। তখন তো কেউ

অভিযোগ করেননি। তাছাড়া বিদায় অনুষ্ঠানে উপহার দেয়ার

অর্থ এই নয়যে, বিদায়ী কর্মকর্তা আমাদের অবৈধ সুবিধা

দিয়েছে। তিনি চলেই যাচ্ছেন, নতুন কর্মস্থলে গিয়ে উপহার

দেখে আমাদের কথা স্বরন করবেই তাই এই সামান্য আয়োজন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালেহা খাতুন বলেন,

বিকেলে স্কুল ছুটিশেষে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। সেই অনুষ্ঠান

সন্ধ্যা পর্যন্ত চলেছে। শুধু শিক্ষক নন, জনপ্রতিনিধিরাসেখানে

উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই প্রধান অতিথি

হিসেবে উপহারগুলো আমি বিদায়ী কর্মকর্তার হাতে তুলে

দিয়েছি। উপহার নেয়া আইন সন্মত নয়, তবুও সামাজিকতা

রক্ষার জন্য আমি কাজটি করেছি। তবে উহারের ধরন আগে জানা

থাকলে আমি আগেভাগেই বারন করতাম। শিক্ষকদেও প্রশিক্ষনের

খাবারের জন্য বরাদ্ধেও টাকায় উপহারকেনা হয়েছে কী-না তা

আমার জানা নেই। তবে প্রশিক্ষনের পর সকল প্রশিক্ষনার্থীদের

টাকা দিয়ে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।

Top