আজ : শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা সন্তোষজনক নয়’


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। তার মতে, মিয়ানমারের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো প্রতিক্রিয়া আশা করা হয়েছিল। আমরা যেভাবে আলোচনা শুরু করেছিলাম, এই মুহূর্তে তা সন্তোষজনক বলা যাচ্ছে না।

রোববার রাজধানীর ওয়েন্টিন হোটেলে জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশন উইমেন (ইউএন উইমেন) আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এটা নিয়ে কাজ চলছে। ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’র দফতরের ইউনিয়নমন্ত্রী টিন্ট সোয়ে ঢাকা সফরকালে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নেপিডো সফরে গিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই গ্রুপ গঠনের তাগাদা দেন।

তবে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের শর্টকাট কোনো পথ নেই উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, আমাদের দেশের কোনো মানুষ বিদেশে আটকা পড়লে তার নাগরিকত্ব আমরাও যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলি। আন্তর্জাতিক নিয়মগুলো সেভাবেই তৈরি করা আছে। তাই সকল রোহিঙ্গাকে একসঙ্গে ধরে পাঠিয়ে দেয়ার অবকাশ নেই।

রোহিঙ্গা সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘায়িত শব্দটি আপেক্ষিক। আগে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঘটনা ঘটার অনেক দিন পরে শুরু হত। এবার দেড় মাসের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে পেরেছি। এটি ভালো লক্ষণ। এটি কতটুকু গতিশীলতা পাবে তা দেখার বিষয়। কিন্ত গতি আরও বাড়ানোর জন্য যে বহুপাক্ষিক চাপ রাখার কথা সেটি আমরা বজায় রেখেছি।

আন্তর্জাতিক চাপ বন্ধ হলে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাপ বন্ধ হলে কী হবে সে বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা করাটা ঠিক হবে না। আর বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখছি না। এ অবস্থায় যে ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন তা সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। তাই মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করার কোনো বিকল্প নেই।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য রেজ্যুলেশন সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আগে দেখা যাক নিরাপত্তা পরিষদে কে কী অবস্থান নেয়। তারপর এ বিষয়ে কথা বলা যাবে। সব দেশ মিলে একটি শক্ত পদক্ষেপ নেবে – এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ইউএন উইমেন আয়োজিত নিরাপত্তা কাউন্সিল রেজ্যুলেশন-১৩২৫ বিষয়ে তিনি বলেন, এর অধীনে আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন বিষয়ে জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করছি। আমরা আশা করছি, এটা মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করব। এ ধরনের অ্যাকশন প্ল্যান সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ সভায় উপস্থাপন করা হয় না। কিন্তু যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক ডকুমেন্ট (নথি), আমরা চাই দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কমিটি এটি অনুমোদন করুক।]

 

Top