আজ : সোমবার, ২৬শে জুন, ২০১৭ ইং | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিদ্যালয় ভবন ঝুকিপূর্ন তাই খোলা আকাশের নীচে পাঠদান

সময় : ৭:২০ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৭ এপ্রিল, ২০১৭


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:বিদ্যালয় ভবন মারাত্মক ঝুঁকিতে তাই খোলা আকাশের নীচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

সরজমিনে গতকাল সোমবার এ রকম চিত্রটি দেখা যায় উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের লালঘাট

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যলয়ের ভবনের ছাদ ফাটল ও ঝরাজীন তাই যে কোন সময়

ভেঙ্গে ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। এ আশংকা থেকেই বিদ্যালয় ভবনের ভিতর পাঠদান

না করে খোলা আকাশের নীচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন বিদ্যালয়ের সহকারী

শিক্ষিকা লতিফা আক্তার মনি। তিনি জানান, বিদ্যালয় ভবনের ছাদে ফাটল থাকায় তিনি ও

অন্যান্য শিক্ষকরা আর সাহস পাচ্ছেননা শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করাতে। তাই

বছর খানেক ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের কখনো বাড়ান্দা,কখনো খোলা আকাশের নীচে

পাঠদান করাচ্ছেন। এ বিষয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ইং তারিখে বিদ্যালয় ভবন ঝুকিপূর্ন

সেই সাথে পাঠদানের অনুপযোগী এ দূরাবস্থার কথা উল্লেখ করে নতুন ভবন নির্মানের

জন্য তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা

কমিটির সভাপতি। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল ১৭ ইং তারিখে তাহিরপুর উপজেলা মাসিক

উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ঝুকিপূর্ন ভবনের আলোচনায় আসে লালঘাট সরকারী প্রাথমিক

বিদ্যালয়ে কথা। সে সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার আলোচনায় যে কটি

প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ঝুকিপূর্ণ তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী ঝুকিতে রয়েছে

লালঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় তা উল্লেখ করেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,

প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের লক্ষে গ্রামের একদল শিক্ষানুরাগী ১৯৮৮ সালে এ বিদ্যালয়টি

স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভবন নির্মান

করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩৪১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন নির্মানের পর কাজের

গুনগত মান ভাল না হওয়ায় ২০০৮ সালের পর থেকেই বর্ষা মৌসুমে ছাদের দেয়াল চুষে চুষে

পানি পরতে থাকে সেই সাথে দেয়ালের পলেস্তরা খসে পরে এবং মেজে ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের

সৃস্টি হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বছরে বছরে স্লিপ বরাদ্ধ কিংবা আনুসাঙ্গিক

বরাদ্ধ থেকে ভবনটি মেরামত করে কোন রকম পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যান ২০১৫ সাল

পর্যন্ত। বৃস্টির দিনে ভবনের দূরাবস্থা দেখে ছাত্র অভিবাববকরা তাদের সন্তানদের আর

বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পান না। এতে করে দিন দিন অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় বিমূখ

হয়ে পরে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদের

বারান্দায় ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে খোলা আকাশের নীচে গাছতলায় পাঠদান করাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী মাসুদা খাতুন, ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী নিলুফা বেগম জানায়,

স্কুলের ছাদ ভেঙ্গে বালু ও ছোট ছোট পাথর পরার কারনে স্যার তাদের লেখাপড়া করান বারান্দায়

ও মাঠে। বিদ্যালয় স্কেচম্যান্ট এলাকার ছাত্র অভিভাবক একদিল মিয়া বলেন, বিদ্যালয়টি

ঝকিপূর্ণ থাকায় আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে দিতে সাহস পাই না।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিজুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে ছাদে ফাটল ও বৃস্টির

দিনে ছাদ দিয়ে পানি পরার বিষয় উল্লেখ করে ভবনটি পূন নির্মান করার জন্য উপজেলা

নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করেছি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান

শিক্ষক আমিনুল হক বলেন, বিদ্যালয় পাঠদানের অনুপযোগী থাকার কারনে আমরা কখনো

বারান্দায় কখনো প্রাঙ্গনে পাঠদান দিচ্ছি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুকিতে রয়েছে সংস্কারের জন্য আমরা উর্ধ্বতন

কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

Top