আজ : বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং | ২রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা হাওর রক্ষাবাঁধ, সিকি ভাগ কাজও হয়নি

সময় : ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ০৯ মার্চ, ২০১৭


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :হঠাৎ নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওর রক্ষাবাঁধ নিয়ে নির্ঘুম দিন কাটছে

দিরাই-শাল্লার কৃষকদের। ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় সীমা পেরিয়ে

গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে এখনও ৩০ ভাগ মাটি ফেলা হয়নি। নদীর

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বৈশাখী, তুফানকারী, বোয়ালিয়া, কডাইখালী

গুরাখাইবাঁধ, সরালিতোফা গ্রামের পাশে ভরাম হাওরে গরুচড়া বাঁধসহ

অধিকাংশ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ নিয়ে পাউবোর

কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের কোনো তৎপরতা নেই অভিযোগ কৃষকদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ একটি

সিন্ডিকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছে। এ কারণে অধিকাংশ হাওরে এখনও

বাঁধের কাজই শুরু হয়নি। অনেক বাঁধের কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির

সভাপতি ও স¤পাদক স্থানীয়ভাবে কাজ ভাগাভাগি করে দিয়েছেন, বাঁধের

কাজে কড়াকড়ি না হয়ে টাকা নিয়ে চলছে পাউবো কর্মকর্তার সঙ্গে

সংশ্লিষ্ট পিআইসিদের কাড়াকাড়ি। সরেজমিন চাপতির হাওরের বৈশাখী

বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধ কেটে বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে, এস্কেভেটর

মেশিন দিয়ে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে বৈশাখী বাঁধকে

ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হচ্ছে। একদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শংকা বাড়ছে কৃষকদের। কৃষকরা জানান,

বৈশাখী বাঁধের ওপর চাপতি হাওরের সাড়ে চার হাজার হেক্টর বোরো ফসলের ভাগ্য

নির্ভর করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ কর্মকর্তা শহিদুল্লা বলেন,

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি পিআইসি গঠনে জটিলতার কারণে কাজ শুরু

করতে দেরি হয়েছে। আশা করা যায় ৩-৪ দিনে মধ্যে কাজটি শেষ হবে। বাঁধের

কাজে গড়িমসি করায় ২৭টি হাওরে শত কোটি টাকার বোরো ফসল অরক্ষিত

রয়েছে এখনও। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিরাই-শাল্লা উপজেলার ৪০-৪২

হাজার কৃষক। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যে কোনো সময় পাহাড়ে ঢল হলে

অকাল বন্যায় ফসল ডুবে যাওয়ার আশংকা করছেন তারা। সরকারের ঊর্ধ্বতন

কর্তপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান কৃষকরা। জেলা পানি উন্নয়ন

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৪২টি হাওরের ২২৫টি পিআইসি ও

৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদারের মাধ্যমে মোট ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা খরচে

সংস্কার ও নির্মাণ করা হচ্ছে বোরো ফসল রক্ষার জন্য বাঁধের কাজ। বরাদ্দকৃত

অর্থের ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৪৮ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে ঠিকাদারদের

মাধ্যমে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ কাজ হচ্ছে ২২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির

মাধ্যমে। পিআইসির কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ঠিকাদারের কাজ ৩১ মার্চের

মধ্যে শেষ করার কথা। বাস্তবে ২০-৩০ শতাংশের বেশি কাজ হয়নি বলে জানান

বাঁধের পার্শ^বর্তী হাওরপাড়ের লোকজন। অনেক স্থানে বাঁধের কাজ এখন

পর্যন্ত শুরু হয়নি, বহু বাঁধে প্রাক্কলন মোতাবেক মাটি না ফেলে লেপ দিয়ে

৪-৬ ইঞ্চি মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। শর্তানুসারে বাঁধ এলাকায় কাজের বরাদ্দ

ও প্রাক্কলন উল্লেখ করে প্রদর্শনী বোর্ড স্থাপন করার কথা থাকলেও কোথাও

এমন বোর্ডের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাউবোর উপ-বিভাগীয়

প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, এখানে বাণিজ্যের কোনো সুযোগ

নেই। কাজ বিলম্ব হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, কমিটিই যদি হয়

২৪ জানুয়ারি তা হলে ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হয় কেমনে? হাওর রক্ষা বাঁধ

তদারকির জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম

বলেছেন, নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এস্কেভেটর দিয়ে বাঁধে বালি মাটি ফেলে

বাঁধকে ঝুঁকিমুক্ত করতে গিয়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হচ্ছে, এ

নিয়ে আমি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী, বিভাগীয় ও প্রধান

প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ তদারকির জন্য ইউএনওদের

পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের হাওর এলাকা ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

Top