২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, রবিবার

স্বামী-সন্তান রেখে ৩০ বছরের শিক্ষিকা পালালেন ১৮ বছরের কাঠমিস্ত্রির সঙ্গে! অত:পর…

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

চট্রগ্রামে স্বামী-সন্তান রেখে- বর্তমানে তথ্য এবং প্রযুক্তির যুগে সব কিছুই যেন অতি সহজ। যেমন নিজের সম্পর্কে চাইলে পুরো টুকোই দুনিয়াকে জানানো যায় আবার একই ভাবে চাইলে পুরই নিজেকে লুকিয়ে রাখা যায়।

আর এর মাধ্যমে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাধ্যমে বহু প্রেমের ঘটনা ঘটছে। এতে করে দেখা যায়, বেশি ভাগই প্রতারিত হন। এমনও শোনা যায় ফেসবুকে প্রেম, এরপর তাকে ধর্ষণ করে হত্যা ইত্যাদি ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে।

সম্প্রতি ফেসবুকের কল্যাণে এক ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের শিক্ষিকা (৩০) ও ১৮ বছর বয়সী এক কাঠমিস্ত্রি তারিকুল ইসলাম-এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর পরের ঘটনা খুবই ভয়ানক।

তাহলে ঘটনাটি খুলে বলা যাক- চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানা এলাকার বাসিন্দা টুম্পা খাতুন (ছদ্মনাম)। একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা।

তিনি লেখাপড়া করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। টুম্পার স্বামী ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন (ছদ্মনাম) লন্ডন থেকে এমবিএ পাস করে দেশেই ব্যবসা করছেন। টুম্পা-সোহাগ দম্পতির সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।

উচ্চশিক্ষিত আর ধনী পরিবারের গৃহবধূ টুম্পা খাতুন হঠাৎ বাসা থেকে উধাও। আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের এই শিক্ষিকাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না।

গত বছরের নভেম্বর মাসে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে। এদিকে, স্ত্রী টুম্পাকে হারিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে হাজির হন স্বামী সোহাগ হোসেন। এরপর শুরু হলো গোয়েন্দা অভিযান।

গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানের শুরুতেই জানতে পারে, নিখোঁজ ওই শিক্ষিকা চট্টগ্রামে নগরীতে আর নেই। গোয়েন্দারা প্রযুক্তিগত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারেন, ওই শিক্ষিকা টুম্পা চট্টগ্রাম ত্যাগ করার সময় তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।

প্রযুক্তিগত তথ্যাদির সহায়তায় টুম্পার অবস্থান সম্পর্কে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যশোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন গোয়েন্দারা। যশোরে পৌঁছে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন গোয়েন্দা সদস্যরা।

সেখানে গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে যশোরের যুবক কাঠমিস্ত্রি তারিকুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এই ফেসবুক তারিকুলের ডাকে তিনি সাড়া দিয়েছেন। কাউকে কিছু না বলে চলে যান যশোর।

গোয়েন্দারা তাদের সম্পর্কের গভীরতা জানার চেষ্টা করে পরে জানতে পারেন, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা টুম্পা ভদ্র পরিবারের মেয়ে। আর তিনিই কিনা একজন কাঠমিস্ত্রির খপ্পরে পড়েছেন!

ফেসবুক প্রেমিক তারিকুল প্রায়ই নানা অজুহাতে টুম্পার কাছ থেকে টাকা চাইতেন, আর টুম্পাও তাকে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। প্রেমের টানে একপর্যায়ে নিজেই চলে যান বখাটে তারিকুলের কাছে। অবশ্য, তারিকুলই যশোর যাওয়ার জন্য টুম্পার টিকিটের ব্যবস্থা করেন। আর সেই টাকাও টুম্পা আগেই তারিকুলের কাছে পাঠান।

টুম্পাকে যশোর নিয়ে যাওয়ার পর তারিকুল ইসলাম একটি আবাসিক হোটেলে রাখেন তাকে। আর পরিকল্পনা করছিলেন প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার করে দেওয়ার। কিন্তু, গোয়েন্দারা এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে টুম্পাকে উদ্ধার করায় তাকে আর পাচার করা যায়নি।

কিন্তু, এ ঘটনায় জড়িত প্রেমিক তারিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা। ওই ঘটনায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তারিকুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, ‘ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল শিক্ষিকার বয়স ছিল প্রায় ৩০ বছর। তিনি ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করেন ১৮ বছরের এক কাঠমিস্ত্রির সঙ্গে।

যশোর পৌঁছার পর যখন ওই যুবকের সঙ্গে দেখা হয়, তখনই তিনি বুঝতে পারেন তিনি ফাঁদে পা দিয়েছেন। যে তরুণকে তিনি ফেসবুকে দেখেছিলেন, সেই যুবক আর সামনে দেখা যুবকের অনেক তফাৎ। অর্থাৎ, ওই যুবক ছদ্ম পরিচয়ে শিক্ষিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করতে আর কিছুটা বিলম্ব হলে ভারতে পাচার করে দেয়া হতো তাকে। পাচারের সব ব্যবস্থায় সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি পাচারের আগেই ভাগ্যক্রমে উদ্ধার হন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব করতেও সঠিক বিচার বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সুযোগ সন্ধানীরা ভার্চুয়াল বন্ধু হয়ে স্বার্থ হাসিল করতে পারে। এতে বাস্তব জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই সবারই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।’

উপ-কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক’র মতে, যদি স্কুল শিক্ষিকা টুম্পা পাচার হয়ে যেতেন, তাহলে তাকে উদ্ধার করা কঠিন হতো। এতে করে স্বামী হারাতেন তার স্ত্রীকে আর সন্তান হারাত তার মাকে।

লজ্জার মাথা খেয়ে দু’বার সার্জেন্টকে অনুরোধ করলাম..

নিজের পরিবারের কারো জন্য কোথাও কাউকে ফোন করে আবদার করিনি! অন্যায় আবদার অনেকে করেছেন বিগত সময়ে…বেশিরভাগই সার্জেন্ট গাড়ি আটকিয়েছে সম্পর্কিত! ছোট ভাই, বন্ধু, বন্ধুর ভাই, ফেসবুক ফ্রেন্ডসহ কে নেই এই অনুরোধের তালিকায়!

নিজের আত্মীয়রা অন্যায় আবদার করেননি বললেই চলে কারণ তারা আমাকে চেনেন! সার্জেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে আমি প্রতিবারই রিপ্লাই দিতাম, ‘আমি বিব্রত হই’ প্রতি উত্তরে আপনি, আপনারা বলেছেন প্লিজ ভাই এবারের মত দেখেন, আর হবে না!

তারপর আমার প্রথম সুশীল বন্ধু যিনি ক্রমাগত নীতি নৈতিকতার আদর্শের কথা শুনিয়েছেন আমাকে বিগত কয়েক দিন, যিনি আমাদের ভুল ধরেছেন ফেসবুকেও….।

আমি তাকে মনে করিয়ে দিলাম ‘এই আপনি আমাকে তিনবার সার্জেন্টকে ফোনে ধরিয়ে দিয়েছেন! দুই দুইবার আপনার গাড়ির চেসিস নং এর সাথে আপনার গাড়ির কাগজ মিল ছিল না!

‘আমি লজ্জার মাথা খেয়ে দুইবার সার্জেন্টকে অনুরোধ করলাম! দুইবার ছাড়া পেয়ে গেলেন। আমি বললাম, কাগজপত্র সবকিছু ঠিক করে নিতে! আপনি করলেন না ঠিক। আমি লজ্জিত ও দুঃখিত আমার ভুলের জন্য!

তৃতীয়বার আপনি কি করলেন, আবারও সেই ভুল করলেন!

সারারাত নাইট করে যখন বাসায় ঘুমুচ্ছি, একটা অচেনা নাম্বার থেকে আমার ব্যক্তিগত নাম্বারে বার বার ফোন! কে জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠলো আমি অমুক স্যারের ড্রাইভার! কেন ফোন করেছেন, স্যার সার্জেন্ট ধরেছে! কি বিষয়? স্যার ওই সমস্যা! ওকে সার্জেন্টকে দিন! সার্জেন্ট ফোন ধরতেই বললাম, ভাল করে মামলা দিন….।

সকল সভ্যতা তো আপনিই জানেন, দেখলামও ফেসবুক কেন্দ্রিক খুব আইন মেনে চলেছেন! একজনের ব্যক্তিগত নাম্বার চালককে দেবার আগে অনুমতি নেবার ন্যূনতম ভদ্রতাটুকু যে আপনি লালন করেন না, সেই আপনি আমাকে সচেতন করতে কিভাবে আসেন!

একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে যে আপনি আইন ঘাড়ে পড়লে বেআইনি পথ খোঁজেন, সেই আপনি আমাকে আইন মানা শেখাচ্ছেন?

এটাকে ইংরেজিতে সম্ভবত বলা হয় ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’! বের হয়ে আসুন সেই প্রক্রিয়া থেকে। এরকম অজস্র উদাহরণ আমার সাড়ে পাঁচ বছরের চাকুরিতে জমা হয়েছে। আমার সিনিয়র স্যার ও জুনিয়রদের কাছে তা অগণিতই হবে।

আপনি ও আপনার মত যারা আমাকে আবদার করে বিব্রত করেছেন, করেন, সেটি আর করবেন না…। যতটুকু পেশাদারিত্ব নষ্ট করেছি আপনি ও আপনার জন্য সেটি আর করবো না… কথা দিলাম। ভুলেও আমার নামটুকু জড়িয়ে কারো কাছে আবদার করবেন না, আমি তা অস্বীকার করবো পুরোপুরিভাবে…।

আসুন নিরাপদ সড়ক প্রাপ্তির পথে আমরা আমাদের দ্বিমুখী আচরণ পাল্টে সঠিক পথে চলি…। সবাই আইনকে মান্য করি…। আইন মানলে আমি খুশি, আপনিও খুশি হোন…। অনেক অনেক শুভকামনা, আগামীর সময়ে শুধু আইন মান্যকারীরাই সমাদৃত হবেন, কথা দিলাম।

বিঃদ্রঃ “ন্যায়সঙ্গত চাওয়ার জন্য আমাকে সবসময় পাশে পাবেন এই কথাটুকুও দিয়ে গেলাম”!

লেখক: সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডেমরা জোন) (লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন