আজ : বৃহস্পতিবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বিশ্ব টেলিবাজার

সময় : ৭:৩৮ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১০ এপ্রিল, ২০১৭


বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ বাজার গত কয়েক বছর খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে। বাজারটিতে নেতিবাচক গড় বার্ষিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধির (সিএজিআর) হার দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর ফলে ২০১২ ও ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময় বাজারটির আকার দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মার্কেটলাইনের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। খবর টেলিকম রিসেলার ও টেলিকম এশিয়া।

মার্কেটলাইনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ইউরোপ ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ বাজার সংকুচিত হয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণাধীন থাকায় এমনটা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিম্ন প্রবৃদ্ধি ইউরোপ ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ঘাটতি কাটিয়ে উঠার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এর ফলে বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ বাজার রাজস্ব ঘাটতির সম্মুখীন হয়।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষক নিকোলাস ওয়াইয়াট বলেন, কয়েক বছরে বাজারমূল্যে বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ বাজারের সংকোচন ঘটেছে। বাজারমূল্যে পিছিয়ে পড়ার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা সরবরাহের যে বাড়তি চাপ, সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বাজারে ফোরজি মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোয় ফোরজির ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে সেলফোন অপারেটর কোম্পানিগুলো কে কতটা সাশ্রয়ী মূল্যে এ সেবা সরবরাহ করতে পারে, তার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের থেকে নিজেদের পৃথক করতে কাজ করছে, যা টেলিযোগাযোগ সেবার মূল্য কমাতে বাধ্য করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বিভিন্ন দেশে এ একটি বিষয় বাজারটির সম্প্রসারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

২০১৬ সালে টেলিযোগাযোগ বাজারে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিভাগ ছিল ওয়্যারলেস সেবা। বছরটিতে বিভিন্ন ওয়্যারলেস সেবা থেকে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব এসেছে ৭৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, যা সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ বাজারের মোট মূল্যের ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশের সমান। অর্থাৎ ভবিষ্যতে টেলিযোগাযোগ বাজারের প্রসারে ওয়্যারলেস সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কেটলাইনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৬ ও ২০২১ সালের মধ্যবর্তী সময় টেলিযোগাযোগ বাজারের গড় বার্ষিক রাজস্ব বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছবে। এর ফলে বাজারটির মূল্য পৌঁছবে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ খাতে এ সময় প্রবৃদ্ধি হবে। বর্তমানে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ সেবার সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। বাজারমূল্য বৃদ্ধিতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অবদান বেশি দাঁড়াবে।

নিকোলাস ওয়াইয়াট বলেন, প্রতিবেদনে মোবাইল ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারের ধারাবাহিক পরিবর্তনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময় টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে দ্রুতগতির ডাটা সেবা ব্যবহারের যে প্রবণতা, তা পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভজি চালুর পথ সম্প্রসারণ করছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক উন্নয়নে মোবাইল শিল্পের অবদান দিন দিন বাড়ছে।

তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত টেলিযোগাযোগ খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। খাতটি ঘিরে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হচ্ছে দ্রুত। বৈচিত্র্য ও নানা উত্থান-পতনের মাঝেও এ খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে সেলফোন সেবা। বর্তমানে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সেলফোন সেবা পাচ্ছে। মোবাইল ডিভাইসে এখন নিত্য নতুন সেবা সংযোজন করা হচ্ছে। বাজেট সাশ্রয়ী ও সহজলভ্যতার কারণে উন্নয়নশীল বিশ্ব এখন অ্যাডভান্সড মোবাইল প্রযুক্তির কল্যাণে উপকৃত হচ্ছে। ডিজিটাল ইকোনমিতে সাধারণের উপস্থিতি ও আর্থসামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশগ্রহণ বাড়ছে।

Top