২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, রবিবার

৭ম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীর প্রেম, জে+জে লেখার জন্য জীবন দিল ছাত্র !

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নওগাঁর মান্দায় প্রেমে শিক্ষকদের বাঁধা, মৃদ্যু শাসন এবং মারপিট করে মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় অভিমানে গ্যাস বড়িপানে আত্মহত্যা করেছে জয়নাল আবেদীন সরদার (১৫) নামের এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

নিহত জয়নাল আবেদীন উপজেলার বৈলশিং পানাতাপাড়া গ্রামের জামিদুল ইসলাম সরদারের ছেলে উপজেলার দোসতি দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র। এদিকে স্থানীয় কিছু স্বার্থনেষি মহল মাদরাসার সুনাম ক্ষুন্ন ও শিক্ষকদের ফাঁসাতে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিতের অপচেষ্ঠা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে। ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা জামিদুল ইসলাম সরদার বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দোসতি দাখিল মাদরাসার সুপার বিন ইয়ামিন, শিক্ষক হারুন অর রশিদ এবং আবদুর রাজ্জাককে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সুপার বিন ইয়ামিনকে রাতেই আটক করেছে থানা পুলিশ।

মামলার পর মাদরাসা সুপার বিন ইয়ামিনকে আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, তানিয়া নামে মাদরাসার ৭ম শ্রেণীর একজন ছাত্রী চিঠি দেওয়া-নেওয়া করত বলে শোনা যায়। জয়নাল কমন রুমের দিকে একটি চিঠি নিয়ে ঘোরাঘুরি শুরু করলে ঘটনাটি জানাজানি হলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মাদরাসায় বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে বলে শিক্ষকরা তাকে মারধোর করেন। পরে মাদরাসা সুপার বিন ইয়ামিন মাদরাসা থেকে জয়নালকে বের করে দেন। এতে অভিমানে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরে দুপুরে গ্রামের মন্টুর কলা বাগানে গিয়ে গ্যাসবড়ি পান করে।

টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন জয়নালের চাচা হামিদুল ইসলাম সরদার। মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ফয়সাল ইকবাল জানায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার মাদরাসার ওয়ালে (দেওয়ালে) তার বন্ধু জয়নাল এবং একই শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুন নেছার নাম ইংরেজিতে জে+জে লেখা ছিল। এনিয়ে শ্রেণীতে ব্যাপক কথা ছড়িয়ে পড়লে জান্নাতুন বলে আমি জয়নালকে নয়, আবদুর রাজ্জাক নামে অন্য একজনকে ভালবাসি।

বেলা সাড়ে ১১টার সময় জয়নালকে শ্রেণীর মধ্যেই মারপিট শুরু করেন শিক্ষক হারুন অর রশিদ এবং আবদুর রাজ্জাক। আমাকেও সামান্য মারপিট করেছে। তবে ভয়ে আমি বাড়িতে কিছু বলিনি। জয়নাল মারা গেলে বৃহস্পতিবার রাতে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমাকে ভর্তি করে দেন পরিবার।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন