১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, রবিবার

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতিতে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ভোট জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। নির্বাচনের পরপরই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বৃহত্তর এ প্ল্যাটফরম। এই দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেয়ার পাশাপাশি কূটনীতিকদের কাছে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

এখন কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলে প্রার্থীরা একযোগে মামলা দায়ের করবেন। তবে কবে নাগাদ ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলো দায়ের করা হবে সে ব্যাপারে পরিষ্কার কিছুই বলতে পারছেন না নেতারা। এদিকে নির্বাচনের পরপরই মামলার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ফ্রন্টের নেতারা। কিন্তু এখনো সে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

এখন তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরামের দুই সদস্যসহ ধানের শীষের বেশ কয়েকজন প্রার্থী আলাপে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্যদিকে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, নির্বাচনী অনিয়ম ও মামলা-হামলার ঘটনার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ইতিমধ্যে পৌনে দুইশ’ আসনের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের কাগজপত্র হাতে পাইনি। এসব কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষা করছি। কাগজপত্র পেলেই মামলার উদ্যোগ নেয়া হবে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক জানান, ২০দলীয় জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী আমার নির্বাচনী আসনের সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ৮ই জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন ও সিডি জমা দিয়েছি। নির্বাচনে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে আমি টকশোতে কথা বলেছি, আমার কলাম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত লিখছি।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী আসনের ভোট কারচুপির তথ্য-প্রমাণসহ একটি প্রতিবেদন তিনি জমা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেই সঙ্গে অডিও-ভিডিওর একটি সিডিও জমা দেয়া হয়েছে।

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, নির্বাচনের পর তিনি নেতাকর্মীদের জামিন তৎপরতা নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। পরে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী নানা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গত সপ্তাহে ১১ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে ছবি, অডিও-ভিডিও ক্লিপিংসহ একটি পেনড্রাইভ ও মামলার এফআইআর-রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের কপিগুলোর সংযুক্তি দিয়েছেন। অমিত জানান, ট্রাইব্যুনালে মামলার ব্যাপারে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে মামলাটি দায়ের করবো।

সুত্রঃ মানবজমিন

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন