১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, রবিবার

ছাত্রলীগ সভাপতিকে এলাকাবাসীর গণধোলাই

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

দেবীদ্বারে একটি বৌভাত অনুষ্ঠান থেকে সেখানকার কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে কনেকে তুলে নেয়ার চেষ্টার ঘটনায় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ইসমাইল ও সহযোগী সাকিবের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি দল শুক্রবার ওই নববধূকে তুলে নিতে গিয়েছিলেন।

এ সময় এসে এলাকাবাসী ও বরের লোকেজন তাদের আটক করে গণধোলাই দেয়।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার সাহারপাড় এলাকার মাঝি বাড়িতে শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালীন সময়ে।

ওই ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতির কথিত প্রেমিকাসহ প্রায় ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ১২ জনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আট করে নিয়ে আসে।

আটককৃতদের দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও জননী মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলা ও লুটপাট চালানোর সময় বাড়ির পুরুষ লোকজনের প্রায় সবাই মসজিদে জুমার নামাজ পড়ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে বুড়িচং উপজেলার নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল ও সহযোগী সাকিবের নেতৃত্বে ৭টি মাইক্রোবাসযোগে প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ বরের বাড়ি থেকে নববধূকে তুলে নিতে আসে। এ সময় বাড়ির লোকজন ও মহিলারা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। বাড়িঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের শব্দ ও নারী-শিশুদের চিৎকারে মুসল্লিরা তাৎক্ষণিক গ্রামের বিভিন্ন মসজিদের মাইকে সন্ত্রাসী হামলার খবর ছড়িয়ে দেয়।

এতে পাশাপাশি কয়েক গ্রামের লোকজন সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসীদের ঘেরাও করে ফেলে মারধর শুরু করে। এ সময় অন্তত ২৫ জন সন্ত্রাসী এবং ৬ জন গ্রামবাসী আহত হয়। স্থানীয়রা ১২ সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে বিকাল ৫টায় দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে। প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। গ্রামবাসীদের হাতে আটক অপর ৫ জন কৌশলে পালিয়ে যায়।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন