আজ : রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

খায়েস মিটাতে বৌয়ের সহায়তায় মাদ্রাসা শিক্ষিকাকে সুপারের ধর্ষন


মাদ্রাসা সুপারের বিয়ে করা ও আনন্দের খায়েস মিটিয়ে দিলেন একই মাদ্রাসার শিক্ষিকা মাজেদুন আক্তার। মাদ্রাসার প্রধান সুপার কর্র্তৃক ঐ মহিলা শিক্ষিকা কে নিয়ে লোকমুখে বিয়ে করার গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার খেসারত গুনতে হলো জুতো পেটা দিয়ে। এ ঘটনায় এখন সর্বত্র ঢেউ বইছে রম্য আলোচনার।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে সর্বত্র এখন ভাইরাল হওয়ায় গোটা উপজেলা জোরে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ২ জানুয়ারী মঙ্গলবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। আলোচিত এই সুপারের নাম আশিকুর রহমান (৪৫)।

জানা যায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঠাঁলবাড়ি চৌমুহনী বাজার আলিম মাদ্রাসার প্রধান সুপার আশিকুর রহমান। একই মাদ্রাসায় ৪ মাস আগে খণ্ডকালীন শিক্ষিকা পদে যোগ দেন একই উপজেলার শিলেরভাঙ্গা গ্রামের হাজি আবুল কাশেম এর একমাত্র কন্যা মাজেদুন আক্তার (২৪)।

এক পর্যায়ে মাদ্রাসার প্রধান সুপারের দৃষ্টি পড়ে মাজেদুন আক্তারের উপর। এরই ধারাবাহিকতায় সুপার কর্তৃক একাধিকবার মাজেদুনকে নানা কু-প্রস্তাব দেওয়া হতো। মাজেদুন লোকলজ্জায় বিষয়টি কারো কাছে শেয়ার না করে সুপারকে বিভিন্নভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

এদিকে, মাজেদুন বারবার সুপারের প্রস্তাব এড়িয়ে গেলে তিনি তাকে মানসিকভাবে ঘায়েল করার চেষ্টায় লিপ্ত হন। এরই অংশ হিসেবে মাজেদুনের সাথে তাঁর নিজের (সুপারের) বিয়ে হয়েছে বলে লোক মুখে প্রচার চালাতে থাকেন। এমনকি স্থানীয় কাজী অফিসে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়েছে বলে সুপার কর্তৃক সর্বত্র প্রচার করা হয়। সংবাদটি মাজেদুনের কানে পৌছুলে মাজেদুন লজ্জায় গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেন এবং মানসিক ভাবে প্রচণ্ড ভেঙ্গে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

গত ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার মাদ্রাসার প্রধান সুপার উপজেলার টুকেরবাজারস্থ কাজী অফিসে যান। খবর পেয়ে মাজেদুন ছুটে যান কাজী অফিসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার প্রধান সুপার, সুপারের অপকর্মের সহযোগী ও স্থানীয় কাজী শফিকুল ইসলামের বড় ভাই নজরুল ইসলাম এবং শিক্ষিকা মাজেদুনের সম্পর্কীয় চাচা রমজান আলী। এ সময় মাজেদুন কাজী অফিসের ভেতরে ঢুকে কাজীর চেয়ারে বসে থাকা মাদ্রাসা সুপারের নিকট জানতে চায়- “আমি তো তোমার বউ, তাই না?”

দুঃখ আমি যাকে বিয়ে করলাম তাকে আমি জানিনা, অথচ গোটা উপজেলার সর্বত্র প্রচার হলো” – বলেই পা থেকে নিজ জুতো খুলে খসিয়ে দেয় মাদ্রাসা সুপারের দুগালে। অবস্থা বেগতিক দেখে অপকর্মের সহযোগী নজরুল ইসলাম মাজেদুনকে কোন রকমে শান্ত করার চেষ্টা করে সুপারকে রক্ষা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষিকা মাজেদুন আক্তার বলেন, “আসলে আমি এ বিষয়ে কথা বলতেও লজ্জা বোধ করছি। কারণ, প্রধান সুপার আমার বাবার বয়সী। তিনি ৩ সন্তানের জনক। সুপারের মানসিক কু প্রবৃত্তি আমি বুঝতে পেরে একাধিকবার সংযত হয়ে কন্যা সুলভ আচরণ করারও আবেদন জানিয়েছি”। মাজেদুন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসা সুপার কাজি অফিসে গিয়ে কাবিননামাতে আমার স্বাক্ষর জাল করেন।

এরপর আমাকে তাঁর স্ত্রী বলে লোক সমাজে পরিচয় ও প্রচার করে আসছেন। এ অবস্থায় আমি বাধ্য হয়েই সুপার আশিককে জুতো পেটা করি। শিক্ষিকা মাজেদুন আক্তার অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার প্রধান সুপার, সুপারের অপকর্মের সহযোগী ও স্থানীয় কাজী শফিকুল ইসলামের বড় ভাই নজরুল ইসলাম এবং চাচা রমজান আলী জালিয়াতি ও অপকর্মের সাথে জড়িত।

জানতে চাইলে কাজী অফিসের কাজী শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন আমি অফিসে উপস্থিত ছিলাম না। তবে, অফিসে ঐ তারিখে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছে বলে সংবাদ পেয়েছি। কারণ জানতে চাইলে কাজী শফিক নানা টালবাহানা ও লুকোচুরি শুরু করেন। বিভিন্ন ভুয়া কাগজে আপনার অফিসে বিভিন্ন অপকর্ম ঘটানো হয়-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এগুলো সব গুজব।

মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করলেও ফোন রিসিভ না করায় প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার আশিকুর রহমান বলেন, “আমার সাথে মাজেদুনের বিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর কাজী অফিসে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। ভুয়া কাগজের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং এ বিয়েতে

নিজের প্রথম স্ত্রীরও অনুমতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মাজেদুন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ইংরেজীতে অনার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে এমসি কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top