আজ : রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

একজন চিকিৎসকে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল


নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল দুই মাস ধরে চলছে শুধু একজন আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা দিয়ে। মোট ৭ জনের মধ্যে সেবা দিচ্ছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে রোগী থাকলেও কোনো ডাক্তার না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

লালপুর উপজেলার প্রায় ৩ লাখ অতি দরিদ্র এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি মাত্র হাসপাতাল, যেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন মাত্র একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এ হাসপাতালে কাগজে-কলমে নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন ৭ জন মেডিকেল চিকিৎসক। এর মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক ছাড়া আর কেউই আসছেন না। যার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে অধিক টাকা ব্যয়ে এই দরিদ্র অঞ্চলের রোগীদের ধরনা দিতে হচ্ছে রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন হাসপাতালে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও এখানে ৬০-৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। যাদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ১১ জন মেডিকেল অফিসার সেখানে ৭ জন নিয়োগ থাকলেও একজন সবুজ ফাউন্ডেশননের ট্রেনিং ও অপরজন কোর্সে রয়েছেন। বাকি ৩ জন সংযুক্তিতে ঢাকায় কাজ করছেন। কিন্তু তাদের বেতনভাতা নিয়মমতো এই হাসপাতালের নামেই উত্তোলন করছেন। প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা বর্তমানে ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী ভর্তি রয়েছে তাদের চিকিৎসাসেবা আমার একার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার পরেও হাসপাতালে আগত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি। এই হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অতিসত্তর ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, বেডে রোগীরা শুয়ে আছেন কিন্তু নেই কোনো ডাক্তার। এ সময় বেডে শুয়ে থাকা উপজেলার বালিতিতা গ্রামের শাহিনা খাতুন জানান, এই হাসপাতালে শুধু একজন ডাক্তার আছেন। দিনে দু’এক বার ভিজিট করেন। তবে মাঝে মধ্যে একজন নার্স এসে খোঁজখবর নেন।

এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন রশিদ পাপ্পু বলেন, উপজেলায় একটি মাত্র হাসপাতাল তাতে প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় এই অঞ্চলের অসহায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ডাক্তার নিয়োগ করে এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top