আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সালমার প্রেমের বিজয়


দীর্ঘ চারদিন প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনকারী কলেজছাত্রী সালমা আক্তারের প্রেমের বিজয় হয়েছে। বুধবার রাতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় আত্মগোপনে থাকা প্রেমিক মিজানুর রহমান সাদ্দামের সঙ্গে ইমোর ভিডিও কলের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকার দেন মোহরানায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের জিন্নুতপুর গ্রামে। মিজান ওই গ্রামের প্রবাসী খোরশেদ আলমের ছেলে এবং প্রেমিকার বাড়ি একই উপজেলার খাইয়ার গ্রামে। বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান।

দীর্ঘ চার বছরের প্রেম করার পর প্রবাসী প্রেমিক মিজানের বিয়ের খবর শুনে গত রোববার সকাল থেকে হাতে বিষের বোতল ও আত্মহত্যার চিরকুট লিখে প্রেমিকা কলেজছাত্রী ছালমা আক্তার প্রেমিক মিজানের বাড়িতে অনশন শুরু করেছিল।

এর আগে অনশনকারী সালমা সাংবাদিকদেও জানিয়েছিলেন, মিজানের সঙ্গে তার চার বছর আগের প্রেম। তখন সে বিদেশ থাকতো। দুই বছর আগে মিজান বিদেশ থেকে দেশে আসার পর বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার তাদের শারীরিক সম্পর্ক করা হয়। সম্প্রতি মিজান দেশে এসে বিয়ে করার প্রস্তুতি নেয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত রোববার সকাল থেকে সে বিয়ের দাবিতে হাতে বিষ ও আত্মহত্যার চিঠি নিয়ে প্রেমিক মিজানের বাড়ির উঠানে অনশন শুরু করে।

এদিকে প্রেমিকার উপস্থিতির টের পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় প্রেমিক মিজান। বিষয়টি জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধমে প্রকাশসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার লোকজন বিয়ের বিষয়ে মিজানের পরিবারকে চাপ দেয়।

মিজানের মা সেতেরা বেগম জানান, আমার ছেলে ঘটনার দিনই বাড়ি থেকে সৌদিতে চলে যায়, তাই এলাকার চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আড়াই লাখ টাকায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে, আমরা সালমাকে বউ হিসেবে ঘরে তুলে নিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি এবং হবু স্বামীর মায়ের কাছেই রোববার থেকে সালমা ছিল। তিনি আরও জানান, উভয় পরিবারের সম্মতিতেই ইমোর ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, সামাজিকভাবে এ বিষয়টি যদি উভয় পরিবার সমাধান না করতো তাহলে আইনগতভাবেই আমাদেরকে পদক্ষেপ নিতে হতো।

Top