আজ : রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ওরা এতিম সাংবাদিক


বরিশালে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে নামস্বর্বস্য পত্রিকার পরিচয়দানকারী তথাকথিত সাংবাদিকরা। পত্রিকা মালিকদের ম্যানেজ করে সংবাদক্ষেত্র দাবড়ে বেড়ানো এসব যুবকরা একের পর এক অপকর্ম করে বেড়ালেও লাগাম টেনে ধরছে না কেউ। ফলে পেশাদার সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছেন না। বিভিন্ন সময় ও পরিবেশে এসব অপসাংবাদিকদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুক্ষিণ হতে হয় পেশাদার সাংবাদিদের।

এতে বাড়ছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম। অবক্ষয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সাংবাদিকতার মত একটি বৃহৎ সেবামূলক পেশা। সাংবাদিক নেতারা মনে করেন এখনই সাংবাদিক নামধারী অপ-সাংবাদিকতাকারীদের চিহ্নিত করে দমন না করলে সাংবাদিকতার পুরো উদ্দেশ্য ভূলুন্ঠিত হবে। তাদের মতে, এর পিছনে পত্রিকা মালিকদের উদাসীনতা দায়ী। যারা টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণ করছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বেতন/ভাতা দিচ্ছেন না। সিনিয়র সাংবাদিকরা মনে করেন, কোন ধরনের মনিটরিং না থাকায়, সাংবাদিক সংগঠনগুলো অকার্যকর ও রাজনৈতিক আড্ডার স্থানে রুপ নেওয়ায় সার্বিকভাবে কালো ছায়া পড়ছে সাংবাদিকতায়।

আর এর ফল স্বরুপ সাংবাদিকদের এখন মানুষ বাকা চোখে দেখে। গত ৩০ জানুয়ারি বরিশালে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কয়েকজন যুবকের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। ওইসব ছবিতে দেখা যায়, ক্যামেরাধারী কয়েকজন দীর্ঘ দিন ধরেই ফটো সাংবাদিক/প্রতিবেদক পরিচয় দিয়ে নগরীতে কাজ করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওইসব ছবিতে দেখা যায় এমন কয়েকজন ‘সাংবাদিক’ পরিচয়দানকারী যারা প্রশাসন কতৃক জব্দ করা জাটকা ব্যাগ পেতে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। সেখানে মৎস অধিদফতর বরিশালের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, এমনকি বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা নাম প্রকাশ না করতে চাইলেও জানিয়েছেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমাদের কাছ থেকে এভাবে ইলিশ প্রায়ই নিয়ে থাকেন এরা। যদি ইলিশ না দেই তখন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সঠিকভাবে মাছ বিতরণ হয়নি অভিযোগ তুলে। শেষে ঝামেলা এড়াতে তাদের সন্তুষ্ট রাখছি। সাধারণত জব্দকৃত মাছ যেকোন এতিমখানা বা গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়। যদিও দীর্ঘদিন ধরে ‘জব্দকৃত মাছ সঠিকভাবে বন্টন হয়না’ বলে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও এবার ভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেই এতিমদের মাছ ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে যাচ্ছেন কতিপয় সাংবাদিক পরিচয়দানকারীরা। বিষয়টি আপত্তিকর এবং আইন বর্হিভূত হলেও প্রশাসনের এসব কর্মকর্তা স্বাভাবিক বলে মনে করেন। আর সে কারনেই ছড়িয়ে পরা ছবিগুলোর বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি তারা।

জানা গেছে, এতিমদের জন্য যেসব মাছ বিতরণ করার কথা ছিল সেখানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা মৎস অধিদফতরের মৎস কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস, বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হোসেন। সূত্র মতে, এমন চিত্র সারা বছরই লেগে থাকে। তবে ৩০ জানুয়ারির প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। সমান ভাগে এতিদের মাছ যদি সাংবাদিক পরিচযদানকারীরা পেত তাহলে এসব ছবি ভাইরাল হত না।

মূলত এক গ্র“প ইলিশ ভাগে কম পাওয়ায় অপর গ্র“পের ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যারা মাছ নিচ্ছিল তারা হলেন এম ফোরকান, সুমন, আরমান, মেহেদী, সবুজ এবং ইসমাইল। এছাড়াও বেশ কয়েকজন রয়েছে। তবে তাদের ছবি প্রকাশ না পাওয়ায় রয়েছেন আলোচনার আড়ালে। এরা বরিশাল থেকে প্রকাশিত পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকে।এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলম রায়হান মনে করেন, বরিশালে সাংবাদিকতার ৭০ ভাগ বিকশিত হয়েছে।

আর ৩০ শতাংশ কলুষিত হয়েছে। পুরো ভাগের মধ্যে ওই ৩০ শতাংম ঘুরেফিরে সামনে চলে আসছে। তিনি মনে করেন, বরিশালে সাংবাদিকতায় কোন গাইড লাইন নেই। গাইড লাইন ছাড়া বিপথগামীতা অস্বাভাবিক নয়। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস মনে করেন, সাংবাদিকতায় যারা আসছে তাদের শুরুতেই নষ্ট করে দেন পত্রিকার মালিকগন। টাকার বিনিময়ে যারতার হাতে কার্ড বিলিয়ে দিয়ে এমন অস্বস্তিকর পরিবেশের তৈরী করেছেন।

এই সাংবাদিক নেতা আরও মনে করেন, পত্রিকার মালিকদের উচিত সংবাদকর্মীদের বেতন নিশ্চিত করা। কারন কেউ বেতন পেলে কোন সংবাদকর্মী অসৎপথে পা বাড়ায় বলে মনে করি না। শহীদ আব্দুর রব বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন বলেন, অসৎ পথে পা বাড়ানো সাংবাদিক পরিচয়দানকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার প্রকাশকদের এগিয়ে আসতে হবে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরবর্তী পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।

সুত্রঃ সময়ের বার্তা

Top