শাবানা’র দেখা মিলল আমেরিকায়

ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা শাবানার দেখা পাওয়া এখন দুষ্কর। কেউ কেউ বলেন, তিনি এখন ঈদের চাঁদ। হঠাৎ উঁকি দেন, আবার কোথায় যেন মিলিয়ে যান। ১৯ বছর আগে অভিনয়কে বিদায় জানানো শাবানা প্রতিবছরই দেশে আসার চেষ্টা করেন। প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আবার উড়াল দেন। শেষবার তিনি দেশের এসেছিলেন দুই বছর আগে। সেবার অবশ্য প্রথম আলোর সঙ্গে খোলামেলা কথা হয় তাঁর। এরপর আর আসেননি। সম্প্রতি নিউইয়র্কে অভিনেতা মিশা সওদাগরের সেলফিতে ধরা দিলেন শাবানা। সঙ্গে ছিলেন শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক।

অভিনয়কে বিদায় জানালেও কোটি বাঙালির হৃদয়ে অভিনয়ের রানি হয়ে বসত গেড়ে আছেন শাবানা। তাই তো তাঁকে একটিবার কোথাও দেখা গেলে ভক্ত–দর্শক এমনকি সংবাদমাধ্যমেরও আগ্রহের কমতি থাকে না। অভিনয় ছেড়ে শাবানা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা। স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সেখানেই থাকছেন। দেশ থেকে কাছের কেউ গেলে দেখা–সাক্ষাৎ হয় শাবানার পরিবারের সঙ্গে। সম্প্রতি ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে অনেক শিল্পীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন মিশা সওদাগর। গতকাল রাতে তিনি ঢাকায় ফিরেছেন। আসার আগে ১৭ এপ্রিল মিশা দেখা করেন শাবানা ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে। ওজোন পার্ক এলাকায় সেদিন তাঁরা একসঙ্গে রাতের খাবার খান।

শাবানার বাসায় ও হোটেলে ফেরার পথে মিশা সেলফিতে নিউইয়র্কের মুহূর্তটা ধরে রাখেন। ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে মিশা লিখেছেন ‘দ্য লিজেন্ড, দ্য লেসন’।১৯৮৬ সালে বিএফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন মিশা সওদাগর। প্রথম ছবি পরিচালক ছটকু আহমেদের ‘চেতনা’। এ সিনেমায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করলেও নিজেকে তিনি খলনায়ক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মিশার মতে, শাবানা প্রযোজিত ‘স্বামী কেন আসামী’ ছবিটি তাঁকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

মিশা বলেন, ‘শাবানা আপার কাছে আমার আজন্ম ঋণ। তিনি আমাকে আজকের মিশা সওদাগর বানানোর সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। দেশের বাইরে থাকলেও তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আমি তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগটা মিস করতে চাইনি। আমার কাছে মনে হয়, আপা ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে যতটা সময় থাকি, অনেক কিছু শিখি। তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়ের অনুভূতি প্রকাশ করে বোঝানো যাবে না।’ মাত্র আট বছর বয়সে সিনেমায় নাম লেখান শাবানা। এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ নামের ছবিতে তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ‘চকোরী’ ছবিতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন তিনি। বাকিটা ইতিহাস।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*