আজ : শনিবার, ২১শে অক্টোবর ২০১৭ ইং | ৬ই কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

হতে পারে এদের সাথে গোপন বৈঠক


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। একটা বিতর্ক শেষ না হতেই তিনি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। কথা ছিল, প্রধান বিচারপতি সিনহা তাঁর ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অষ্ট্রেলিয়ায় তাঁর মেয়ের কাছে যাবেন। কিন্তু এখন তিনি অষ্ট্রেলিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য যাবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আজ রাতে তিনি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে প্রথমে অষ্ট্রেলিয়া যাবেন। অষ্ট্রেলিয়া থেকে পর্যায়ক্রমে তিনি ওই তিনটি দেশ সফর করবেন বলে জানা গেছে। প্রধান বিচারপতির ঘনিষ্টরা জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ নাগাদ তিনি দেশে ফিরবেন। ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ তে তিনি আপিল বেঞ্চে বসে বিদায় নেবেন।

এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল, কিন্তু প্রধান বিচারপতির লন্ডন সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেখানে গিয়ে কি নতুন কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়বেন?

বিচারপতি সিনহা প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিতর্ক সৃষ্টি হয় তাঁর লন্ডন সফরকে ঘিরেই। সেখানে তিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের দ্বারা প্ররোচিত হয়েই দেশে ফিরে বিচারপতি সিনহা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর শুনানিতে একজন বিচারপতিকে বাদ দেন। লন্ডন এখন বাংলাদেশ বিরোধী চক্রান্তকারীদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সেখানে খুবই তৎপর।

এই মুহূর্তে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম জিয়া, তাঁর ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়া লন্ডনে অবস্থান করেছেন। তাঁরা প্রকাশ্য এবং গোপনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্তে অংশগ্রহণ করেছেন। জিয়া পরিবার ছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের শিরোমণি গোলাম আযমের এক পুত্র , মতিউর রহমান নিজামীর এক পুত্র, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র এখন লন্ডনে। তারা বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় সক্রিয়। এছাড়াও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামাত নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকও যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে এসেছেন একমাস হলো। এরকম একটি স্পর্শকাতর শহরে বিচারপতি সিনহা যাবেন কেন? লন্ডনে তাঁর কোন নিকটাত্মীয় নেই। সর্বশেষ লন্ডন সফরে তিনি বিএনপি ও জামাতপন্থী অনেকের সঙ্গেই গোপন বৈঠক করেছেন।

যদিও প্রবীণ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর সঙ্গে বিচারপতি সিনহার সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু প্রবীণ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রকাশ্য সখ্যতা রেখে বিচারপতি সিনহা যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাই লন্ডনে এবার বিচারপতি কি করেন, সেটাই এক বড় প্রশ্ন।

Top