নিষিদ্ধ হলেন নেইমার!

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে রেফারির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় নেইমারকে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মরশুমে শেষ ষোলর লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রামে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন নেইমার। সেখানে ম্যাচ রেফারিদের উদ্দেশে অশ্লীল গালিগালাজ করেন। যদিও চোটের কারণে ম্যাচটিতে নিজে মাঠে নামেননি নেইমার। সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে নিজের অ্যাকাউন্টে নেইমার লেখেন, এটা অন্যায়। এমন চারজনকে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যারা ফুটবল বোঝেন না। হাত পেছনে থাকলে হ্যান্ডবল হয় কিভাবে? প্রশ্ন ছুড়ার পাশাপাশি তাদের গালিও দেন তিনি। বিষয়টি নজর এড়ায়নি ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা-উয়েফার। ঘটনা তদন্ত করে দেখে তারা। তাতে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। ইউরো সেরা প্রতিযোগিতায় নেইমারকে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। রোববার রাতে ফরাসি কাপের ফাইনালে রেঁনের কাছে ২-১ গোলে হারে পিএসজি। ম্যাচ শেষে গ্যালারির দর্শকদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন পিএসজির খেলোয়াড়েরা, রানার্সআপ পদক নেওয়ার জন্য। আশপাশের দর্শকেরা প্রিয় খেলোয়াড়দের ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। নেইমারের বিষয়টা পছন্দ হয়নি। এক দর্শকের হাত থেকে ফোন কেড়ে নিতে চাইলেন তিনি।

শুধু তা-ই নয়, ফোন না কাড়তে পেরে তাঁর দিকে ঘুষি মারতে গিয়েছেন নেইমার। পরে পিএসজির অন্য খেলোয়াড়েরা তাঁকে ধরাধরি করে ওপরে নিয়ে যান। নেইমারের এই লজ্জাজনক মুহূর্ত ধরা পড়েছে দর্শকের মোবাইল ফোনে। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় ভিডিওটা ছড়িয়ে দিতে দেরি করেননি। ইউরোপের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে সেই দর্শক রেঁনের সমর্থক। নেইমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সেই দর্শক নাকি বলেছেন, ‘ফুটবলটা কীভাবে খেলতে হয় তা শেখো।’ দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হচ্ছে বোঝা গেলেও নেইমার রেগেমেগে সমর্থককে কী বলেছেন, সেটা জানা যায়নি। তবে যা বোঝা গেছে, নেইমার সম্ভবত বিরাট এক সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দোষী প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন তিন ম্যাচ থেকে সর্বোচ্চ আট ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন নেইমার। শাস্তি হলে তা পিএসজির আগামী ম্যাচ (শনিবার নিসের বিপক্ষে) থেকে কার্যকর হবে না। ১১ মে অ্যাঞ্জার্সের মুখোমুখি হবে পিএসজি—এ ম্যাচ থেকে শাস্তি শুরু হবে, তবে সবার আগে ফরাসি ফুটবল কমিশনের তদন্তে নেইমারকে দোষী প্রমাণ করতে হবে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার ফরাসি ফুটবল কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*