হঠাৎ ভাইরাল ফুল বিক্রেতা রানা!

হিপহপ কিংবা র‌্যাপ সংগীতের নতুন বিস্ময় রানা মৃধা। বলিউড সিনেমার ‘গালি বয়’ আদলের এক প্রতিভার নাম রানা। নিজের কষ্টের জীবন কাহিনীর একটি গান গেয়ে তুমুল আলোচনায় এই শিশু। ঐ গানটির সংগীত আয়োজন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান তবীব। শিল্পী হিসেবে এই সুবিধাবঞ্চিত শিশু কে খুঁজে পাওয়ার গল্পটাও বেশ মজার। পথ শিশুদের সাথে যে রানা সব সময় পড়ে থাকে কিংবা ফুল বিক্রি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সে রানা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। তার গাওয়া গানটি ঘুরছে সবার ফেসবুক প্রোফাইলে..রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে নিম্ন আয়ের মানুষদের একটি মহল্লার সবাই বেশ অবাক। সাধারণত এরকম পরিবারের মানুষদের মুখে আধুনিক যুগের হিপহপ গান আসল কিভাবে, যেখানে ক্লাস ওয়ানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি ১০ বছরের শিশু রানা। রানার মা সিতারা বেগম মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে বেশ কষ্ট করে দুই সন্তানকে মানুষ করছেন। অভাবের জন্য দুই ছেলেকে স্কুলে দিতে পারেননি তিনি। কখনও বুঝতেই পারেনি ছেলে এমন কিছু একটা করবে, পুরো মহল্লার মানুষ তাদেরকে দেখতে আসবে। এ ব্যাপারে রানার মা সেতারা বেগম বলেন, আমি রানাকে বলি তুমি যে গান করতেছো তুমি কি বড় শিল্পী হতে পারবা?। তখন বলে হ্যাঁ আমি কোন দিন বড় শিল্পী হব। আস্তে আস্তে গান শিখেই বড় শিল্পী হয়। তখন এই কথা বলেই গলটা জড়াইয়া ধরে। রানার এই কষ্টের জীবনের মধ্যে কিছুদিন আগে এক বন্ধুর আবির্ভাব ঘটে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান তবীব।তবীব বলছেন, অল্প কয়েক দিনের জনপ্রিয় রানাকে কখনও হারাতে দেবেন না তিনি এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি এসএম হল থেকে বের হচ্ছি বাইকটা স্টার্ট দিব ঐ সময় রানা আমাকে ডাক দেয়। সে বলে ভাইয়া আমি বাইকে একটু ঘুরতে চাই। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে বাইকে উঠ চলো ঘুরি। তখন ঘুরতে ঘুরতে আমি জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কি কোন গান টান পার। তখন রানা আমাকে একটা হিপহপ গান শুনায়। হিপহপটা হচ্ছে আবৃত্তির ক্ষেত্রে ভয়েস এর একটা এনার্জি ব্যাপার আছে। ওর (রানা) মধ্যে সেটা আছে। যে এনার্জি টা খুদা সৃষ্টি করে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*