আজ : রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যুবলীগ কর্মীকে মদ না দেয়ায় হরিজন পরিবারের ওপর নেতাকর্মীদের হামলা


জামালপুরে মাদকের দাবি পূরণ না করায় সংখ্যালঘু হরিজন পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে স্কুলছাত্রীসহ পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন। তবে মাদক বিক্রিতে নিষেধ করায় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শুধু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা।

শুক্রবার মধ্যরাতে জেলার মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের দুরমুঠ রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

হামলার শিকার শ্রী প্রদীপ বাসফোর অভিযোগ করেন, শুক্রবার মধ্যরাতে কুলিয়ায় ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসেম ও সদস্য আবদুর রহমান নান্টুসহ পাঁচজন তার বাসায় এসে চোলাই মদ কিনতে চান।

মদ বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকেসহ তার স্ত্রী শ্রীমতি সীতা রানী (৩৫), তার ছেলে বিপ্লব কান্ত বাসফোর (১৭) এবং অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে প্রীতি রানী বাসফোরকে পিটিয়ে আহত করে।

এসময় তার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় বলেও জানান শ্রী প্রদীপ বাসফোর।

শ্রী প্রদীপ বাসফোর এবং শ্রীমতি সীতা রানী ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

শ্রী প্রদীপ বাসফোরের স্ত্রী শ্রীমতি সীতা রানী জানান, এই লোকগুলো মাঝে মধ্যেই মধ্যরাতে তাদের বাড়িতে এসে চোলাই মদের জন্য বিরক্ত করেন এবং মাসে মাসে চাঁদাও দাবি করেন। তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের প্রতিও তাদের কু-দৃষ্টি রয়েছে।

এসব কারণে তাদের এখন ওই এলাকায় বসবাস করতে অসুবিধা হচ্ছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন সীতা রানী।

প্রদীপ বাসফোরের প্রতিবেশী হাসু জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ করেই প্রদীপ বাসফোরের বাড়ি থেকে আর্তচিৎকার শোনা যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। কয়েকজন যুবককে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু হরিজন সম্প্রদায়ের পরিবারের উপর এমন হামলা আসলেই ন্যাক্কারজনক। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার। তারা হতদরিদ্র এবং তাদের সম্প্রদায়ের আর কেউ এই এলাকায় থাকে না।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা হাসেম ও নান্টু দাবি করেন, অনেকদিন আগে থেকেই প্রদীপ বাসফোর এলাকায় চোলাই মদ বিক্রি করে আসছিলেন। এনিয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে তাকে নিষেধ করতে গেলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শুধু ধাক্কাধাক্কি হয়।

মধ্যরাতে তার বাসায় যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি অভিযুক্তরা। প্রদীপ বাসফোর ও তার স্ত্রীর গায়ে আঘাতের চিহ্নের কারণ জানতে চাইলেও তারা কোনো উত্তর দেননি।

মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল করিম জানান, হরিজন সম্প্রদায়ের শ্রী প্রদীপ বাসফোরের গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে ৩২৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সুত্রঃ পরিবর্তন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top