আজ : সোমবার, ১৮ই জুন, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কোটা সংস্কার দাবিতে উত্তাল শাহবাগ


সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের ৫ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পোস্টার ফেস্টুনে ‘ইহা কোটা নয়, বৈষম্য’ ‘কোটা দিয়ে কামলা নিয়ে, মেধা দিয়ে আমলা চাই,’ ‘১০% বেশি কোটা নয়’, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র কোটা প্রথার সংস্কার কর,’ বিভিন্ন লেখা প্রদর্শন করেন।

রোববার বেলা ১১টা থেকে পাবলিক লাইব্রেরির সম্মুখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। শাহবাগ থানা পুলিশ ওই স্থান থেকে কয়েকবার সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়।

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ফেব্রয়ারি মানবন্ধন থেকে সারাদেশে ২৫ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান গ্রহণ করেন।

অবস্থানের শুরুতে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল নিয়ে শাহবাগে আসেন। একই সময়ে শাহবাগে অবস্থিত পাবলিক লাইব্রেরি থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলে।

আন্দোলনে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন বলেন, সিভিল সার্ভিস কমিশনে যোগ্যতা ছাড়াও শুধুমাত্র কোটার কারণে তারা নিয়োগ পাচ্ছে। এটা লাখ লাখ বেকারদের সাথে এক ধরনের প্রতারণা। আমরা কোটার বিরুদ্ধে নই। কোটা থাকুক। তবে সেটা ১০% এর বেশি নয়।

আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি হল- কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬% থেকে ১০% এ নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য থাকা পদসমূহে মেধায় নিয়োগ দিতে হবে, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা নয়, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা চাই, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিক বার ব্যবহার নয়।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে একটি লিখিত বক্তব্য গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া হয়।

সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিরাট এ শিক্ষিত তরুণদের যথাযথ কর্মসংস্থান বিদ্যামান কোটা ব্যবহারের ফলে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আমরা তরুণরা মেধা মনন দিয়ে যে ভূমিকা রাখতে চাই তা বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার কারণে সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাস্তবধর্মী পরিস্থিতির কারণে কোটা ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল কিনা দীর্ঘ সময় অতিক্রম করার পরও কোটা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো পর্যালোচনা না করার ফলে বাস্তবধর্মী কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমাদের এ দাবি আশা করি সরকার মেনে নেবে।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে ৪ সদস্য প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী দফতরে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য রওনা দেন। ৪ মার্চ কালো ব্যাচ ধারণ এবং অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

Top