আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

খালেদার অসুস্থতার সপক্ষে মেডিকেল সনদ দেয়া হয়নি


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড ভোগরত খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে আজ রোববার তিনপক্ষের আইনজীবীরাই যার যার পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শুনানির শুরুতে এজে মোহাম্মদ আলী খালেদা জিয়ার স্বল্প মেয়াদের শাস্তি, বয়স ও নানাবিধ অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন আবেদন করেন আদালতের কাছে।

মোট ৩২ গ্রাউন্ডে লিখিত জামিন আবেদন করেন তারা।

পরে খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, জামিন আবেদনে তারা মূলত দুটি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এর একটি হচ্ছে জামিন আবেদনকারীর (খালেদা জিয়ার) বয়স ও অসুস্থতার বিষয়।

কিন্তু তারা অসুস্থতারর সপক্ষে কোনো মেডিকেল সনদ আদালতের সামনে উপস্থাপন করেননি। আর বয়স জামিনের ক্ষেত্রে কোনো যুক্তি হতে পারে না।

তাছাড়া স্বল্পমেয়াদের কারাদণ্ডও জামিনের পক্ষে কোনো যুক্তি হতে পারে না বলে মত দেন খুরশীদ আলম খান।

নিজের মতের যৌক্তিকতা প্রমাণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কিছু রায় থেকেও আদালতের সামনে উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি এবং জামিন আবেদনের উপর জোর আপত্তি জানান।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, এখানে এতিমের টাকা খোয়া গেছে। এখন জামিন দিলে মামলার আপিল নিষ্পত্তি দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ার ঝুঁকি আছে।

তিনি বলেন, বিচারিক আদালতে আসামি মামলাটি নিষ্পত্তিতেও দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি করেছিলেন বলে নানা তথ্য তুলে ধরেন আদালতের সামনে।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘২০০৮ সালের মামলা। ২৩৭ কার্যদিবসে তিনি ১০৯ বার বিভিন্ন অজুহাতে সময় নিয়েছেন। এছাড়া ২৬ বার উচ্চ আদালতে এসেছেন। মোট কথা নয় বছরের মতো মামলাটি চলছে। সুতরাং এখানেও দেরি হবে না, তা বলা যায় না। তাই আপিল শুনানির জন্য এক মাসের মধ্যে পেপারবুক প্রস্তুত হতে পারে। যেমন বিডিআর মামলায় হয়েছিলো। আমাদের কোর্টের সে প্রযুক্তি আছে।’

নিজের বক্তব্যে মাহবুবে আলম সাবেক আরেক সরকারপ্রধান এইচএম এরশাদের জামিন পাওয়া- না পাওয়ার প্রসঙ্গ টানেন।

এ পর্যায়ে আদালত এই মামলার সঙ্গে এরশাদের মামলার উদাহরণ আনার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত।

তখন মাহবুবে আলম সাবেক এই দুই সরকারপ্রধানেরই দুর্নীতির দায়ে শাস্তি হয়েছে বলে আদালতকে মনে করিয়ে দেন।

শেষে তিনিও জামিন আবেদনের উপর বিরোধীতা করেন।

শুনানি শেষে উচ্চ আদালত থেকে এরইমধ্যে নিম্ন আদালতের যে নথি ১৫ দিনের মধ্যে চাওয়া হয়েছে, সে নথি আসার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেবেন বলে সিদ্ধান্ত দেন।

আজ রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন।

সাজা ঘোষণার পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

Top