আজ : সোমবার, ১৮ই জুন, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত ইইউ


রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করায় সেনা কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারিসহ তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে আরও জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল ইইউ। খবর: রয়টার্স।

গত সপ্তাহে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাসেলসে বৈঠকে মিলিত হওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইইউ’র বৈদেশিক নীতির বিভাগের প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনিকে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে বলেন।

মিয়ানমারের ওইসব কর্মকর্তাদের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হবে এবং সেখানে তাদের যাবতীয় সম্পত্তির লেনদেন স্থগিত করা হবে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভয়াবহ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করায় অবিলম্বে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপর আলাদা আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

এটাই এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ইইউ’র সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ জারি করেছে।

এছাড়াও ইইউ ১৯৯০ এর দশকে মিয়ানমারের অস্ত্র সরবরাহের উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সেটিকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

রয়টার্সের বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রাখাইনের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের যেসব জেনারেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে তাদের নাম এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র গত ডিসেম্বরে জানিয়েছিল, তারা রোহিঙ্গা নিধন অভিযান পরিচালনার জন্য মেজর জেনারেল মং মং সোয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, তাদের তালিকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম থাকবে।

জাতিসংঘ মিয়ানমারের উপর অবরোধ আরোপ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইইউ এভাবে দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিল। এ মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চাইলে রাশিয়া ও চীন ভেটো দেয়। দেশ দুটি মনে করে রাখাইনে এখন পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করেছে। ইইউ জানিয়েছে, প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

মিয়ানমার বেশিরভাগ অভিযোগই অস্বীকার করে এসছে এবং তাদের নৃশংসতার আরও প্রমাণ দাবি করেছে। তারা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কোনো স্বাধীন সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top