আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ বৃষ্টিতে দুর্ভোগে নগরবাসী


সারাদিনের অফিস শেষে যখন ঘরে ফিরছে নগরবাসী তখনই হুড়মুড়িয়ে হঠাৎ ফাল্গুনের বৃষ্টি। শীতের শুষ্কতা পেরিয়ে ধুলো-ধূসর এই নগরের জন্য এক পশলা বৃষ্টি প্রার্থিত হলেও এই বৃষ্টি যেন ঘরোন্মুখ মানুষগুলোর জন্য দুর্ভোগই বয়ে আনলো।

বসন্তের প্রথম বৃষ্টির ছোঁয়া সোমবার ভোররাতেই পেয়েছে নগরের প্রকৃতি। শুধু কি তাই ঝোড়ো হাওয়ার উন্মত্ততারও দেখা মিলেছে সঙ্গে। তাই সোমবার সকালে ধুলোহীন পথে পা রেখে খানিকটা হয়তো স্বস্তিই মিলেছিল নগরবাসীর। কিন্তু কে জানতো রাতেই যে অপেক্ষা করছে দুর্ভোগ।

সোমবার সন্ধ্যা পেরিয়ে ফুটপাতে দোকানিদের যখন বেচাকেনা রমরমা, মানুষ কাজ শেষে ফিরতে শুরু করছে ঘরে; দু’এক ফোটার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হলো ঝুমবৃষ্টি। দোকানিরা যে যেভাবে পেরেছে মাল-সামানা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কারো কারো শেষরক্ষা হয়নি।

পথচারীরা ছুটেছেন আশপাশের আশ্রয়ে। কেউ বা বাসে ওঠার জন্য দৌড়েছেন। কিন্তু এরমধ্যেই ভিজে একাকার। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে চোখে পড়েছে এমন দৃশ্য। কেউ বা এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে আটকা পড়েছিলেন। বৃষ্টি থামে রাত ৯টার দিকে।রোববার থেকেই দেশের সব বিভাগের কোনো না কোনো স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। তবে বৃষ্টির প্রবণতা রাজশাহী বিভাগে একটু বেশি।

ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে (সোমবার ফাল্গুনের ১৪ তারিখ) এই বৃষ্টি স্বাভাবিক কিনা, আর কতটুকুই বা বৃষ্টি হলো- জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘শীতের শেষের দিকে যে বৃষ্টিটা হয় এটা সেই বৃষ্টি। এতে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিটা হচ্ছে। আশা করছি আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে বৃষ্টির এই প্রবণতা থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকায় সোমবার শেষরাতে ৬ মিলিমিটার ও সন্ধ্যার পর ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।’

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফ ও যশোরে। এই দুটি স্থানের তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটিতে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে তাড়াশে ৩৭ মিলিমিটার।

নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
অপরদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশাল, এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ দমকা/ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top