আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের বলতে লজ্জা লাগে- সরকারি না বিরোধী দল?


সংসদে নিজ দল জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ‘একতরফা’ নির্বাচনের সুযোগে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়া খোদ রওশন এরশাদই। বলেছেন, ‘আমরা বিরোধী দল হতে পারি নাই। এভাবে বিরোধী দল হওয়া যায়?’ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন প্রশ্ন তোলেন।

রওশন এরশাদের এই বক্তব্যের সময় সরকার প্রধান ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম- আমাদের মন্ত্রীগুলোকে উইথড্রো করে নেন। আপনি সেটা করেন নাই। আমরা বিরোধী দল হতে পারি নাই। এভাবে বিরোধী দল হওয়া যায়?’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি বলতে পারতেন- মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। আমরা বলতে পারি না। এটা আপনি করলে জাতীয় পার্টি বেঁচে যেত। সম্মানের সাথে থাকতে পারত। আমরা সম্মানের সাথে নাই। (নির্বাচনের) এক বছর আছে আরও, সেটা দেখেন।’

এসময় সরকারি দলের কয়েকজস সদস্য মাইক ছাড়াই বলতে থাকেন, জাতীয় পার্টির নেতাদের মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তখন রওশন বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশ দিলে মানবে না কে? না, দেন নাই। নাহলে সবাইকে নিয়ে নেন। সবাইকে মন্ত্রী বানিয়ে দেন। হয় বিরোধী দল হতে হবে, না হয় সরকারি দল। বিরোধী দলের দরকার নেই।’

অনেকটা ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৪০ জনকে সরকারি দলে নিয়ে যান। আমরা তো বলতে পারি না। সবাইকে নিয়ে নেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা লাগে- আমরা সরকারি না বিরোধী দল? বিদেশে গেলে বলতে পারি না আমরা কী?’

বিএনপিসহ নিবন্ধিত তিন-চতুর্থাংশ দলের বর্জনের পর নানা নাটকীয়তার মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল জাতীয় পার্টি। বিনাভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট। বাকি আসনগুলোতে তেমন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।

নতুন সরকারে বিরোধী দলের আসনে বসে বিগত মহাজোট সরকারের শরিক জাতীয় পার্টি। রওশন হন বিরোধীদলীয় নেতা। জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর তিন সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মন্ত্রী এবং মুজিবুল হক চুন্নু ও মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রতিমন্ত্রী হন। পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদকে করা হয় মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।

Top