আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আগামী ৭ই মার্চ হতে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের স্থায়ী জাহাজী কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি


বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের স্থায়ী জাহাজী কর্মকর্তাদের পক্ষ হতে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে জানিয়েছে দীর্ঘদিনের দাবীর পুঞ্জবিত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান না হওয়ায় আগামী ৭ই মার্চ হতে কর্ম বিরতী আহবান করেছে। এরই মাঝে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দাবী দাওয়া সম্বলিত স্মারক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে পৌছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। দাবী দাওয়ায় তারা জানিয়েছেন স্থায়ী জাহাজী কর্মকর্তা হিসেবে আমরা বিভিন্নভাবে অবহেলিত এবং ন্যায্য অধিকার হতে বঞ্চিত। এসব ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনরুপ দৃশ্যমান পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় নাই। যার দরুণ আমরা আর্থিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি মানসিকভাবে বিপর্যস্থ ও ক্ষুদ্ধ। এমতাবস্থায় ন্যায্য অধিকারসমূহ বাস্তবায়নের ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ আগামী ০৬/০৩/২০১৮ খ্রিঃ এর মধ্যে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহন না করলে নিরুপায় হয়ে আগামী ৭ই মার্চ হতে অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবে বলে জানান। যার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে যথাযথ অফিস কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবেঃ-

দাবসী সমূহ
০১। জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ এর নির্দেশনা অনুযায়ী বিএসসি’র শোর এস্টাবলিশমেন্ট কর্মকর্তাদের ন্যায় স্থায়ী জাহাজী কর্মকর্তাদের ভাতাদি (বিএসসি’র বোর্ড সভার অনুমোদন অনুযায়ী) কার্যকর করে ০১ জুলাই ২০১৬ খ্রিঃ হতে বকেয়া ভাতাদি পরিশোধের জন্য অতিসত্ত্বর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
০২। নতুন করে স্থায়ী জাহাজী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে আগত ০৬টি এবং বিদ্যমান ০২টি সহ সর্বমোট ০৮টি জাহাজের হিসাবে বিএসসি’র নীতিমালা অনুযায়ী স্থায়ী জাহাজী কর্মকর্তাদের মধ্য হতে যোগ্যতা অনুযায়ী স্থায়ী পদন্নোতি প্রদান করতে হবে।
০৩। ক্ষতিপূরক ছুটি নগদায়ন, স্বীকৃত যাতায়াত ভাতাসমূহ এবং অর্জিত ও ক্ষতিপূরক ছুটির টাকা ছুটিকালীন সময়ের মধ্যেই প্রদানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে

জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী প্রাপ্য ভাতাদি প্রসঙ্গেঃ-
সরকার কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ০১ জুলাই ২০১৫ খ্রিঃ হতে নতুন স্কেলে শুধুমাত্র মূল বেতন এবং ০১ জুলাই ২০১৬ খ্রিঃ হতে নতুন স্কেলে অন্যান্য ভাতাদি সহ পূর্ণ বেতন স্কেল কার্যকরের নির্দেশনা রয়েছে যা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্যেও প্রযোজ্য। ইতিমধ্যে বিএসসি’র শোর এস্টাবলিশমেন্ট (অফিস ও ওয়ার্কশপ) এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণও ০১ জুলাই ২০১৬ খ্রিঃ হতে নতুন স্কেলে ভাতাদিসহ পূর্ণবেতন পেয়ে আসছেন। অথচ একই প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী জাহাজী কর্মকর্তাগণ (মাত্র ৬৬ জন) নতুন স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য ভাতাদি হতে বঞ্চিত এবং কর্মকর্তাগণ ভাতাদি না পাওয়ার কারণে বিএসসি’র রোস্টার ভিত্তিক নাবিকদেরকেও নতুন স্কেলে প্রাপ্য ভাতাদি প্রদান করা হচ্ছেনা। জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ বাস্তবায়নের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রনালয় কর্তৃক বিএসসি’র জন্য প্রেরিত নির্দেশনায় জাহাজী কর্মকর্তাদের ভাতাদি বৃদ্ধির ব্যাপারে অস্পষ্টতা থাকার কারণে ভাতাদি বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে হিসাব বিভাগ থেকে জানানো হয়। অতঃপর নির্দেশনা পাওয়ার দীর্ঘ প্রায় ০৯ মাস পর অস্পষ্টতা দূরীকরণের জন্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো এবং তারপর আরো প্রায় দীর্ঘ ১২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য অফিস কর্তৃক কোন সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে জাহাজী কর্মকর্তা ও নাবিকদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্মকর্তাদের উদাসীনতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা জাহাজী কর্মকর্তা ও নাবিকদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

স্থায়ী পদন্নোতি প্রসঙ্গেঃ-
বর্তমানে কর্পোরেশনে ক্লাস-২ (চীফ অফিসার/ সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার) সনদপ্রাপ্ত ০৪ জন ডেক এবং ০২ জন ইঞ্জিন কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়াও কমপক্ষে আরোও ১০ জন ডেক ও ইঞ্জিন কর্মকর্তা রয়েছেন যারা আগামী ৩/৪ মাসের মধ্যে ক্লাস-২ সনদপ্রাপ্ত হবেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে বিদ্যমান ০২ টি জাহাজ হিসেবেও কোন কর্মকর্তাকে স্থায়ী চীফ অফিসার/ সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার পদে পদন্নোতি প্রদান করা হয় নাই। অথচ বিদ্যমান ০২ টি জাহাজে ০২ জন কর্মকর্তা চীফ অফিসার এবং ০১ জন কর্মকর্তা সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ভয়েজ বেসিস (অস্থায়ী) পদন্নোতি পেয়ে বিগত প্রায় ১ বছরেরও অধিক সময় যাবত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আপনাকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে তাদের স্থায়ী পদন্নোতির অধিকাংশ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই চুড়ান্তভাবে স্থায়ী পদন্নোতি প্রদান করা হচ্ছেনা। এছাড়াও ০১ জন ডেক এবং ০১ জন ইঞ্জিন কর্মকর্তা রয়েছেন যারা ক্লাস-২ সনদপ্রাপ্ত হয়েও ক্যাডেট হিসেবে কর্মরত যা মেরিটাইম ইন্ডাষ্ট্রিতে নজিরবিহীন ঘটনা।

আপনার সদয় অবগতির জন্য আরো জানাচ্ছি যে, বর্তমানে বিএসসিতে ২১ জন ডেক এবং ১২ জন ইঞ্জিন কর্মকর্তা যোগদানের পর হতে ৫ বছরেরও অধিক সময় যাবত কোন পদন্নোতি ছাড়াই ক্যাডেট (ন/ই) হিসেবে কর্মরত আছেন। অথচ তাদের অধিকাংশই ৩-৪ বছর পূর্বেই ক্লাস-৩ (সেকেন্ড অফিসার/ থার্ড ইঞ্জিনিয়ার) যোগ্যতা সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং সনদ প্রাপ্তির পর হতে কর্পোরেশনের বিভিন্ন জাহাজে দায়িত্বশীল (সেকেন্ড/থার্ড অফিসার ও থার্ড/ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার) পদে জাহাজ তথা কর্পোরেশনের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে কোন ধরনের পদন্নোতি না পাওয়ার এমন ঘটনা বিএসসিতে পূর্বে ঘটে নাই। কারণ, ইতিপূর্বে সকল কর্মকর্তা ক্যাডেট হিসেবে যোগদানের পর ২ বছর চাকুরি সম্পূর্ণ করার সাথে সাথেই বিএসসি’র জাহাজী কর্মকর্তা চাকুরী প্রবিধানমালা অনুসারে কোন যোগ্যতা সনদ ছাড়াই প্রথম পদন্নোতি হিসেবে ফোর্থ অফিসার/ফিফ্থ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পদন্নোতি পেতেন এবং সেক্ষেত্রে জাহাজের সংখ্যা বিবেচনা করা হত না। এসব ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় নাই। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বিদ্যমান ০২টি এবং আগত ০৬টি জাহাজ হিসেবে স্থায়ী কর্মকর্তাদের কোন ধরনে

Top