আজ : সোমবার, ১১ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিষখালী নদীতে ধরা পড়ছে প্রচুর মা ইলিশ


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও বিষখালী নদীতে ধরা পড়ছে প্রচুর মা ইলিশ। বিষখালী নদী তীরবর্তী উপজেলার গুলোর বাজারে মিলছে বিক্রি হচ্ছে প্রচুর ডিমওয়ালা মা ইলিশ। আগের তুলনায় দামও কম হওয়ায় বেচা বিক্রিও ভাল। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই খুশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরগুনার বেতাগীত জেলেদের জালে প্রচুর মা ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়ের সৃস্টি হয়েছে। ১টি পৌরসভাসহ উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ডিমওয়ালা মা ইলিশে ছেয়ে গেছে এখানকার বাজার। দামও কমেছে প্রায় ৩০ ভাগ। আগে যে ইলিশ ৮ শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে এখন তা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। গত ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরন, পরিবহন, বাজারজাত করন, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ নিষিদ্ধ করে ছিল সরকার, কিন্ত অনেক ইলিশ ওই সময় ডিম ছাড়েনি। একাধিক জেলেরা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ডিম ছাড়তে পারেনি ইলিশ। তাই নদীতে জাল ফেললেই আটকা পড়ছে মা ইলিশ। এতে ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমে সরকার নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইলিশ মাছের নিশ্চিত প্রজনের লক্ষে ইলিশ ধরা নিনিষদ্ধ করে আইন জারি করে সরকার, কিন্ত স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ মুলত ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুম নির্ধারন করা হলেও এসময় মা ইলিশ তেমন একটা ডিম ছাড়ে না। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস বিভাগ জেলেদের সঙ্গে আলাপ না করেই ইলিশের প্রজনন মৌসুম নির্ধারন করায় ইলিশ রক্ষা অভিযান অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয় জেলেরা আরও জানান, তারা ছোট বেলা থেকেই নদীতে জাল ফেলে ইালিশ মাছ ধরেন। তাই তারা বুঝতে পারেন কখন মা ইলিশ ডিম ছাড়বে। অথচ মৎস বিভাগ স্থানীয় পর্যায়ে জেলেদের সাথে আলোচনা না করেই ডিম ছাড়ার প্রজনন মৌসুম নির্ধারন করে। ফলে এখন জাল ফেললেই মা ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে তাদের ধারনা আগামী ৬-৭ দিনের মধ্যে বাকী ইলিশগুলো ডিম ছাড়তে পারে। ডিমছাড়ার আগে ইলিশ মাছ দুর্বল থাকে। এসময় নদীতে জাল ফেললেই আটকা পড়ে ইলিশ। বর্তমানে তাই হচ্ছে।
এ বিষয় জানতে চাইলে বেতাগী উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোস্তফা-আল-রাজীব বলেন, সব ইলিশের প্রজনন সময়কাল এক সাথে আসেনা। যার কারনে বাজরে ডিমওয়ালা ইলিশ পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে জেলেদের মাঝে আগের চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়া এবারে অভিযান সফল হয়েছে। আগামীতে এর প্রতিফলন দেখতে পাবো। ইলিশের প্রজনন সময়কাল নিয়ে আরও গবেষনা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

Loading...

আরও পড়ুন...
Top