আজ : মঙ্গলবার, ১৯শে জুন, ২০১৮ ইং | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নাটোরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানঃ ক্ষতিগ্রস্থদের আহাজারী


নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের পাবনা-নাটোর মহাসড়ক, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক, নাটোর-রাজশাহী মহাসড়ক ও নাটোর-সিংড়া মহাসড়কের দুই ধারের প্রায় দেড় হাজার এর বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। সোমবার সকাল থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। এ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র্যাট হিসেবে নেতৃত্ব দেন সওজ অধিদপ্তরের উপ-সচিব এবং ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী।
এসময় অনেকের মধ্যে নাটোর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন।

সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়, পাবনার কাশিনাথপুর থেকে রাজশাহী পর্যন্ত— ৬৯ কিলোমিটার, এবং নাটোর বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে তিনদিন দিনব্যাপী এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সওজ এর পক্ষ থেকে তিন দফা অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দেয়া হলেও কর্ণপাত করেনি দখলকারীরা।

নাটোর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক সাংবাদিকদের জানান, নাটোর-বগুড়া সড়ক, শহরের ভেতর, নাটোর-পাবনা মহাসড়ক ও বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বেশ কিছু স্থান মিলে এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তি অবৈধভাবে সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ছয় মাস আগে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। পরে সপ্তাহ খানেক আগে গণবিজ্ঞপ্তি জারিসহ মাইকিং করে সোমবার থেকে উচ্ছেদ করার কথা জানানো হয়।

প্রথম দিন নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চৌগ্রাম, সিংড়া বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সওজের স্ট্যাট ও ল অফিসার (উপ-সচিব) মাহবুবুর রহমান ফারুকীর নেতৃত্বে একটি টিম বনপাড়া বাইপাস মোড় থেকে শুরু করে বনপাড়া বাজার পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন। এতে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক ও নাটোর-পাবনা-খুলনা মহাসড়কের উভয় পাশের প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বনপাড়া বাইপাস মোড়ে চা বিক্রেতা মনির হোসেন ও টিকেট মাষ্টার বাবু জানান, উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে আমাদেরকে কোন রকম নোটিশ বা নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এতে আমাদের মালপত্র ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, হঠাৎ করে দোকানপাট ভেঙ্গে দেয়ায় পরিবার-পরিজনের মুখে খাবার যোগান দিবো কিভাবে সেটা ভেবেই দিশেহারা হয়ে পড়ছি। তবে সোমবার এলাকায় মাইকিং করে উচ্ছেদের বিষয়ে জানানো হয়েছে বলে নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম দাবী করেছেন। টানা তিন দিনের অভিযানের তৃতীয় দিন বুধবার নাটোর পৌরশহরসহ নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান কালে নাটোর জেলা প্রেসক্লাব ভবনসহ নাটোরে শত শত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top