আজ : রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

খলিসাডাঙ্গা নদী এখন মরা খালঃ কৃষিতে স্থবিরতা


নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ
পদ্মা নদীর শাখা খলিসাডাঙ্গা নদী এখন নাব্যতা সঙ্কটে মরা খালে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলায় নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। দখল-দূষণ আর পলি জমে ভরাট হওয়ায় এ নদী বর্তমানে বিলীন হওয়ার পথে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় ও কৃষি আবাদে স্থবিরতা নেমে আসার পাশাপাশি নদীতে পানি না থাকায় জেলেরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলার লালপুর উপজেলার পাইকপাড়া ইক্ষু কেন্দ্রের প্রায় এক কি.মি. পশ্চিমে পদ্মার শাখা হিসাবে উৎপত্তি হওয়া খলিসাডাঙ্গা নদী বড়াইগ্রাম হয়ে পাবনার চাটমোহরে গিয়ে চিকনাই নদীর সঙ্গে মিলেছে। এক সময় নদীতে ছোট-বড় নৌকায় করে মাঝিমাল্লা ও সওদাগরেরা ছুটে চলতেন। এ নদীতীরে গড়ে উঠেছিল জেলে পল্লীসহ অসংখ্য জনপদ। জেলেরা রাতদিন মাছ ধরে আশেপাশের বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারত উজানে পানি টেনে নেয়ায় কালক্রমে প্রমত্তা পদ্মা মরে যাওয়ার সাথে সাথে পানি না থাকায় এবং দীর্ঘদিনেও ড্রেজিং না করায় পলি জমে খলিসাডাঙ্গা নদীও ভরাট হয়ে গেছে। তাতেও নদীর অস্তিত্ত্ব যেটুকুই ছিল, বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে সেটুকুও ধ্বংস করতে চলেছে নর্থবেঙ্গল সুগার মিল কতৃপক্ষ। চিনিকলের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে নদীর তলদেশে প্রবাহমান পানিটুকুও বিষাক্ত করে ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিগত প্রায় ৫০ বছরেও ড্রেজিং না করায় নদীটি দৈর্ঘ্য-েপ্রস্থে শীর্ণ হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। বিষাক্ত বর্জ্যে নদীর পানি কালো রং ধারণ করেছে। এতে নদীর জীববৈচিত্রের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ ও জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। নদীতে মাছ না থাকায় দুই তীরে বসবাসকারী হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। পানি না থাকায় মাঝিরা জীবিকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়েছেন বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তনে। পানির প্রবাহ না থাকায় স্থানীয়রা নদীর তলদেশে চাষাবাদ করছেন।

বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ এলাকার মৎস্যজীবি রতন কুমার, কুবের ও গোপাল বলেন, ছোটকাল থেইকে বাপ-দাদার সাথে নদীত মাছ ধরিছি। কিন্তু এখন জল না থাকায় এমনিতেই মাছ পাওয়া যায় না। তার উপরি চিনিকলের গাদ (বর্জ্য) ফেইলে পানি এতো বিষাক্ত হইছে যে, তাতে মাছতো দুরের কথা, পোকা-মাকড়ও বাঁচে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ বলেন, খলিসাডাঙ্গা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির অভাবে ফসল চাষে কৃষকদের অতিরিক্ত সেচ খরচ গুনতে হচ্ছে। নগর ইউপি চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন ডালু বলেন, এলাকার মানুষের স্বার্থে নদীটি খনন করার পাশাপাশি নদীর পানিতে বর্জ্য পদার্থ ফেলা বন্ধ করা দরকার। হেরিটেজ রাজশাহী’র সভাপতি ও নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, চলনবিলের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা খলিসাডাঙ্গা নদীর সাথে লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। কিন্তু নদী মরে যাওয়ায় তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তাই দ্রুত নদীটি পুনঃখনন জরুরী হয়ে পড়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top