আজ : মঙ্গলবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং | ১০ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মৌমাছির গুণ গুণ শব্দে পাল্টে গেছে নয়নের জীবনের সুর


নাটোর প্রতিনিধিঃ
উচ্চ মাধ্যমিকে লেখাপড়ার সময় শখের বশে মাত্র ২টি মৌবাক্স নিয়ে মৌচাষ শুরু করেছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার যুবক নয়ন (২৯)। বর্তমানে তার মৌবাক্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০টিতে। মৌচাষের মাধ্যমে প্রতি বছর তার আয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

জানা যায়, নয়ন ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়েছেন। বিভিন্ন চাকুরীর অফার থাকলেও চাকুরীর পরিবর্তে মৌচাষকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন তিনি। এয়াকন্ডিশন অফিসের আরামদায়ক চাকুরীর পরিবর্তে বেছে নিয়েছেন বিল-ঝিলে মৌচাষের মত পেশাকে। ছাত্রজীবনে শখের বশে মৌচাষ শুরু করলেও সেটিই এখন তার জীবনকে বদলে দিয়েছে।

নয়ন জানান, বছরের বিভিন্ন মওসূমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার মৌচাষের খামার স্থানান্তর করতে হয়। শীত মৌসূমে সরিষা চাষের সময় সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকে তার খামার। তিল চাষের সময় পঞ্চগড়ে আর কেওড়া ফুলের সময় সাতক্ষীরার সুন্দরবন এলাকায় স্থানান্তর করেন তার খামার।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে তার খামারে প্রতিদিন ৬ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এসব শ্রমিকেরা কেউ মধু সংগ্রহে ব্যস্ত, কেউ সেগুলো বাজারজাতকরণের কাজ করছেন। প্রতি সপ্তাহে খামার থেকে প্রায় ৬ থেকে ৮ মণ মধু সংগ্রহ করেন তিনি। বছরে উৎপাদিত মধু বিক্রি করে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় হয়। প্রতি মাসে কর্মচারীদের বেতন দেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা। শ্রমিকের বেতন, খামার স্থানান্তরের পরিবহণ খরচ, খামার স্থাপনের লিজমানি, বর্ষা মৌসূমে মৌমাছির খাদ্য ক্রয়, কাঠের বাক্স তৈরী বাবদ বছরে তার প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। সব খরচ বাদেই তিনি প্রতি বছর এখন প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকায় বিভিন্ন কোম্পানীর সাথে কর্পোরেট পদ্ধতিতে মধু বিক্রি করছেন। মাঠে মধু উৎপাদন ও বিক্রির পাশাপাশি মাঠ থেকে কেনা সরিষা থেকে নিজেদের উৎপাদিত খাঁটি সরিষার তেল ও নিজেদের তৈরী ঘি বিক্রি করেন। এতে তিনি বছরে আরো প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় করেন।

তার খামারে কর্মরত শ্রমিকেরা জানান, সচরাচর মৌমাছির তেমন কোন রোগ-বালাই হয় না। তবে ছত্রাক আক্রান্ত হয়ে এবং শীতকালে লাগাতার কয়েকদিন সূর্যালোকের অনুপস্থিতির কারণে অনেক সময় মৌমাছি মারা যায়। সফল মৌচাষী নয়ন জানান, সমাজের উচ্চ শিক্ষিত হয়েও চাকুরী না করে মৌচাষকে বেছে নিয়েছেন তিনি। শ’ শ’ মৌমাছির অবিরাম গুণ গুণ শব্দ তার জীবনের সুরকেই পাল্টে দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিন কাটাতে হলেও এ পেশায় পরিতৃপ্ত তিনি। তবে বিএসটিআই’য়ের অনুমোদনসহ প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণ ও সরকারী সহযোগিতা পেলে খামারটিকে আরো বড় করার আশা আছে নয়নের।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top