আজ : রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ফেরিঘাটে (নদী পারাপারের) হালখাতা!


নাটোর প্রতিনিধিঃ
একদিন নয়, দুদিন নয়, আট দিনব্যাপী হালখাতা। সে হালখাতাও কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নয়, এ হালখাতা চলছে রামাগাড়ি ফেরিঘাট নামে পরিচিত নন্দকুজা নদীর খেয়াঘাটে। এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এ হালখাতা মঙ্গলবার শেষ হয়ার কথা থাকলেও আজ বুধবারও চলতে দেখা গেছে। ব্যাতিক্রমী এ হালখাতা আয়োজন করা হয়েছে নাটোরের বড়াইগ্রামে। এর আগে বর্ণিল রঙে ছাপানো দাওয়াত কার্ড পৌঁছে দেয়া হয়েছে বাড়ী বাড়ী। উপজেলা প্রশাসন থেকে বার্ষিক পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে লিজ নেয়া মাঝি অজিত কুমার এ হালখাতার আয়োজন করেছেন। অবাক লাগার মত এ আয়োজন স্থানীয় মানুষদের মাঝে দারুণ কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, জেলার বড়াইগ্রাম ও বাগাতিপাড়া উপজেলার সীমান্তে নন্দকূজা নদীতে ফেরিঘাট খ্যাত প্রায় দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো রয়েছে যা জেলার দুই উপজেলার ৩০ টির অধিক গ্রামের অর্ধ-লক্ষাধিক জনসাধারণের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সারা বছর জুড়ে এই ঘাটে বড়াইগ্রাম, বাগাতিপাড়াসহ আশেপাশের অনেক লোকজন প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। এক সময় এখানে খেয়া নৌকা থাকলেও কয়েক বছর ধরে স্থানীয় অজিত মাঝি নিজ খরচে নদীতে চারফুট চওড়া ও প্রায় আড়াই’শ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো তৈরী করেন। এতে বছরে তার প্রায় অর্ধ লাখ টাকা খরচ পড়ে। নৌকার পরিবর্তে এ সাঁকোয় পারাপারের বিনিময়ে কেউ নগদ কিছু দিলে নেন, যারা নগদ দেন না বাৎসরিক হিসাবে তাদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ধান বা টাকা উঠান তিনি। তবে অনেকের সেটাও বাঁকী পড়ে যায়। তাছাড়া দুর-দুরান্তের যেসব লোকজন চলাচল করেন তাদের বাড়ী গিয়ে ধান বা টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। তাই এই হালখাতার আয়োজন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘাটের পাশে রঙিন কাগজে সাজানো ছোট্ট প্যান্ডেলে হালখাতা চলছে। পাশে ঝুলছে রামাগাড়ি ফেরিঘাট লেখা সাইন বোর্ড। হালখাতায় আমন্ত্রিতরা হাসিমুখে লুচি-মিষ্টি খাচ্ছেন। কমপক্ষে তিন হাজার লোক আটদিন ব্যাপী চলা এ হালখাতায় অংশ গ্রহণ করবে বলে জানান আয়োজকরা।

দীর্ঘ সময়ব্যাপী হালখাতা প্রসঙ্গে অজিত কুমার মাঝি জানান, বনপাড়া, রামাগাড়ী, দয়ারামপুর, বিদ্যুৎনগর, চাঁদপুর ও সোনাপুর হাটসহ আশেপাশের হাটগুলো সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে বসে। দুর-দুরান্তের লোকজন হাটের দিনে সাঁকো পার হয়ে বেচাকেনা শেষে হালখাতা করে বাড়ি ফিরবেন। তাছাড়া একেক এলাকার লোক একেক হাটে যায়, তাই তাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখেই লম্বা সময় ধরে হালখাতা চলমান রাখা হচ্ছে। যদিও এতে তার খরচ বেশি হবে, তারপরও সবার সুবিধার জন্যই এমনটি করতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top