আজ : রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শারীরিক সমস্যার সমাধানে চিনাবাদাম


আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই চিনাবাদাম সহজলভ্য। বর্তমানে নানা ধরণের বাদাম পাওয়া গেলেও চিনাবাদামের মতো সহজলভ্য ও সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, পার্কে ঘোরা, মার্কেটে যাওয়া, বাস, লঞ্চ থেকে শুরু করে মায়ের রান্না ঘরে পর্যন্ত সব সময় পাওয়া যায় চিনাবাদাম। আমরা গল্প করতে করতে কুটুর কুটুর করে বাদাম খেয়েই যাই। কিন্তু কখনো কি চিন্তা করে দেখেছি যে বাদাম আমাদের কি কি উপকার করে থাকে? আসুন আজ আমরা হাতের কাছে পাওয়া এই সহজলভ্য বাদামটির কিছু গুণের কথা জেনে নেই।

রক্ত জমাট বাধা হতে রক্ষা: চিনাবাদামে বিদ্যমান এল-আরজিনিন অ্যামিনো অ্যাসিডটি ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। ধমনীকে নমনীয় করতে সহায়তা করে। বাদামের এল-আরজিনিন রক্ত জমাট বাধার হাত থেকেও রক্ষা করে।

কোলেস্টোরল কমায়: কোলেস্টোরল সমস্যা খুবই কমন একটি সমস্যা। কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যাসহ নানা শারীরিক সমস্যার মূলে রয়েছে এই বাড়তি কোলেস্টোরল। চিনাবাদাম দেহের ক্ষতিকর কোলেস্টোরল কমাতে বিশেষভাবে কার্যকরী। বাদামের ভালো ফ্যাট কলেস্টোরল এবং ট্রাইগ্লিসারয়েড কমিয়ে ফেলে কোনো ধরণের ওজন বাড়ানো ছাড়াই।

রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে: চিনাবাদাম রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সকালের নাস্তায় চিনাবাদাম বা চিনাবাদামের বাটার খেলে প্রায় পুরো দিনই সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন অনায়াসেই।

ওজন কমায়: ওজন কমানোর জন্য কিছুটা ভালো ফ্যাটের প্রয়োজন রয়েছে। আর চিনাবাদামে রয়েছে এমনই কিছু ভালো ফ্যাট। এর ক্যালোরি এবং ফ্যাট ওজন বাড়ানোর চাইতে ওজন কমিয়ে রাখতে বিশেষ কাজ করে থাকে। এছাড়াও প্রতিদিন অল্প হলেও চিনাবাদাম খাওয়া উচিত ডায়বেটিসের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলেও।

স্মৃতিশক্তি উন্নত করে: বয়স হতে না হতেই স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া শুরু করে অনেকেরই। এর কারণ হচ্ছে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যের। চিনাবাদামকে বলা হয় মস্তিষ্কের খাবার। চিনাবাদামের ভিটামিন বি৩ মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিত করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
খুব হুটহাট নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার সমস্যাকে মূলত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়। চিনাবাদাম এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেই উন্নত করতে কাজ করে থাকে। চিনাবাদামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে।

চিনা বাদাম ঠাণ্ডা, কাশি, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, খাওয়ার অরুচি এবং নিদ্রাহীনতা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।

সতর্কতা:
কাচা বাদাম ও ভাজা বাদাম এই দুটোর তুলনার কথা বলা হলে, অবশ্যই কাচা বাদাম ভালো। কেননা ভাজা বাদামে প্রচুর ফ্যাট থাকে | এতে এসিডিটি ও বাড়ে | যাদের এসিডিটির সমস্যা আছে তাদের ভাজা বাদাম এড়িয়ে চলাই ভালো।

তাছাড়াও তেলে ভাজা বাদাম, মধু বা চিনি মেশানো বাদাম খেলে উপকারের পরিবর্তে অপকারই বেশি পাওয়া যাবে। এতে ওজন বাড়বে, রক্তচাপ বাড়বে। তাই ভাজা বাদাম খেতে ভালো লাগলেও দৈনিক এক মুঠোর বেশি খাওয়া উচিত নয়।

পোলাও, হালুয়া, ফিরনি, জর্দা প্রভৃতির সাথে বাদাম খেলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশংকাই বেশি। অন্যদিকে, কাচা বাদামে বেশি ভিটামিন থাকে, এটা শরীরের জন্য বেশ উপকারী।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top