আজ : মঙ্গলবার, ১৪ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রের বুকে এক টুকরো মরুদ্যান


সমুদ্রের বুকে জাহাজ হাজার হাজার পথ পাড়ি দিয়ে ভেসে বেড়ায়। সেই জাহাজেও বিলাস বিলাসিতা থাকে, পুরো একটা আলাদা জগৎ যেনো সমুদ্রে ভেসে বেড়ায়। বহুল জনপ্রিয় ‘টাইটানিক’ সিনেমা দেখেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। জাহাজের মধ্যে একটা আস্ত একটা শহর আমরা টাইটানিকের মাধ্যমে দেখেছি। সেই বিশাল জাঁকজমকে ভরা জাহাজে কতো চমক, কত জীবনের কাহিনী ফুটে উঠেছিল। তবে বাস্তবে এবার টাইটানিকের থেকে বড় জাহাজের গল্প শুনবো আজ। নাম ‘ওয়েসিস অফ দ্য সিজ’।

আভিজাত্য ও আকারের দিক থেকে ‘ওয়েসিস অফ দ্য সিজ’ টাইটানিকের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে। প্রায় পাঁচটা টাইটানিকের সমান হবে এই জাহাজ। চার চারটা ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়।

এতদিন পর্যন্ত পৃথিবীতে সর্ববৃহৎ জাহাজ ছিল ইনডিপেন্ডেন্স বা ফ্রিডম অফ দ্য সিজ। আর ‘ওয়েসিস অফ দ্য সিজ’ তার থেকেও ৭৫ ফুট লম্বা। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ভাষ্যমতে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল এই জাহাজ ‘ওয়েসিস অফ দ্য সিজ’, যার বাংলা অর্থ ‘সমুদ্রের বুকে এক টুকরো মরুদ্যান’।

ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনালের মালিকানায় থাকা জাহাজটি বানিয়েছে এসটিএক্স ইউরোপ। বানাতে খরচ পড়েছে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। জাহাজটি তৈরির কাজ শুরু হয় ২০০৭সালের ১২ নভেম্বর। এর সাড়ে তিন বছর পর ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর জাহাজটি প্রথম যাত্রীবহনে সমর্থ হয়। এর ওজন শুনলেও অবাক হতে হয়, ২ লাখ ২৫ হাজার ২৮২ টন। আর দৈর্ঘ্য এক হাজার ৮৭ ফুট, প্রস্থ দুইশো আট ফুট। জাহাজটির প্রায় ৩০ ফুট কাঠামো থাকে পানির নীচে।

২২ তলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল এই জাহাজটিতে রয়েছে ১৬টি ডেক এবং দুই হাজার ৭০০ টি বিলাসবহুল কক্ষ। জাহাজটি একসঙ্গে ছয় হাজার ৩০০ যাত্রী বহন করতে পারে। যাত্রী ও জাহাজের কাজে সব সময় থাকে দুই হাজারের বেশি ক্রু।

মোট ৭টি ভাগে বিভক্ত জাহাজটিতে রয়েছে সেন্ট্রাল পার্ক, পুল, ফিটনেস সেন্টার, বিনোদন কেন্দ্র। বিশ্বের প্রথম ভাসমান উদ্যানটিও এই জাহাজে অবস্থিত। এই উদ্যানে ১২হাজার গাছের চারা এবং ৫৬টি গাছ রয়েছে। জাহাজের পিছনের অংশে রয়েছে ৭৫০টি আসন বিশিষ্ট থিয়েটার, রয়েছে সুইমিং পুল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, জাহাজের এই জায়গাটিদিনে ব্যবহৃত হয় সুইমিং পুল হিসেবে। কিন্তু রাতে এটি ব্যবহৃত হয় সাগরের বুকে ভাসমান থিয়েটার হিসেবে।

সার্ফিং করার জন্য বানানো হয়েছে জাহাজের মধ্যেই দুটি সার্ফ এরিয়া। একটি পূর্ণবয়স্কদের, আরেকটি শিশুদের জন্য। নাম ফ্লো রাইডার্স। সাহসীদের জন্য আছে ওড়ার ব্যবস্থাও।গ্লাইডিং করে জাহাজের ছাদের ২৫ মিটার ওপর পর্যন্ত ওড়া যাবে। জিপ ওয়্যার ধরে তীব্র গতিতে ওপরে ওঠানামার খেলার ব্যবস্থাও আছে। পর্বতারোহনে উৎসাহীদের জন্যপাথরের দেয়ালে তৈরি করা হয়েছে ১৩ মিটার উচ্চতার দুটি টাওয়ার।

কেবিন বা থিয়েটার ছাড়াও জাহাজের প্রায় প্রতিটি অংশেই রয়েছে অসংখ্য পানশালা, পোশাক ও বিভিন্ন দ্রব্যাদির দোকান ও রেস্তোরা। এছাড়াও রয়েছে ভলিবল কোর্ট, বাস্কেটবলকোর্ট, চারটি বিশালাকৃতির সুইমিং পুল। ইয়ুথ জোনে আছে কম্পিউটার গেমিং ও গবেষণাগার-সহ থিম পার্ক এবং বাচ্চাদের জন্য বিশেষ নার্সারি ও খেলাধূলার জায়গা। আরপায়ে হেঁটে বেড়ানোর জন্য সুদৃশ্য বাগান তো রয়েছেই।

বিলাসবহুল এই জাহাজে করে ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে ভেসে বেড়াতে চাইলে কেবিন ভাড়া বাবদ আপনাকে খরচ করতে হবে এক হাজার চারশো ৫৮ মার্কিন ডলার। সমুদ্রেরদিকে মুখ করা দোতলা সুইট ভাড়া তিনহাজার দুইশো মার্কিন ডলার। সর্বোচ্চ মোট নয় রাত নয় দিন উত্তর ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে এই জাহাজে করে ঘুরে বেড়ানো যাবে। তবেএই জাহাজে চড়তে বুকিং দিতে হবে দুইবছর আগে!

Top