আজ : রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আল মিনা মসজিদ : লোহিত সাগরের তীরে আধুনিক মুসলিম স্থাপত্যের অপরূপ নিদর্শন


মিশর থেকে ইউ.এইচ.খান: সভ্যতার আদি ভূমি মিসর। মানব ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ন আবিস্কার এই মিশরেই হয়েছে। মিশর বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে পিরামিডের ছবি। তবে পিরামিড ছাড়াও কয়েক হাজার প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন মিশর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। মুসলিম ইতিহাসের কিছু গুরুত্ব পূর্ন স্থাপনা মিশরে রয়েছে। তবে আজকে আপনাদের কাছে বর্ননা করব মিশরের সদ্য নির্মিত এক মুসলিম স্থাপত্ব সম্পর্কে।

মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৫৫০ কি.মি. দূরত্বে লোহিত সাগরের ( রেড সী) তীরে অবস্থিত মিশরের আধুনিক এক ভ্রমন ও বিলাস নগরী হুরগাদা ( মিশরীয়রা প্রচলিত ভাষায় গারদাকা বলে) । মিশরের প্রায় সব টুরিস্ট শহরই ইউরোপ ও আমেরিকার সুযোগ সুবিধা ও ভোগ বিলাস দিয়ে সাজানো হয়েছে। হুরগাদাও এর ব্যাতিক্রম নয়। তবে সম্প্রতি মিশর সরকার লোহিত সাগরের তীরে দৃষ্টিনন্দন এক মসজিদ নির্মান করেছে। হুরগাদা আন্তর্জাতিক সমূদ্র বন্দরের সাথেই ৬ একর জায়গা জুড়ে মসজিদটি নির্মান করা হয়েছে। আধুনিক সকল সুবিধা সহ ডিজাইনে বিশেষ ইসলামী

প্রাচীন নকশা ব্যাবহার করা হয়েছে। মূলত মসজিদে নববীর ডিজাইন অনুসরন করে এর ডিজাইন করা হয়েছে। মসজিদের মূল কাঠামোতে একসাথে ৬ হাজার পুরুষ ও ১ হাজার নারী নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদ নির্মানে ব্যাবহার করা হয়েছে মূ্ল্যবান শ্বেত পাথরের টাইলস, বিশেষ ডিজাইনের ইজিপশিয়ান কার্পেট, হাতে তৈরি কাচের জানালা, বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান পাথর ইত্যাদি। এছাড়া প্রায় ২৪ টি ভাষার ইসলামি বই সম্বলিত বিশাল লাইব্রেরী রয়েছে। মসজিদে দৃষ্টিনন্দন ও মূল্যবান অনেক গুলো ঝাড়বাতি লাগানো হয়েছে। প্রধান ঝাড়বাতির ওজন প্রায় ৬০০ কেজি । সবচেয়ে ভাল অবাক যে বিষয় সেটি হলো মসজিদ ও লাইব্রেরী সকল ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। মিশরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মসজিদটি পরিচালিত হয়। ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের যে কোন সম্পর্ক নেই সে বিষয়ে নিয়মিত সবাইকে অবহিত করা হয়। বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মী মানুষদের জন্য তাদের নিজের ভাষায় ইসলাম ধর্মের শান্তির বানী প্রচারের জন্য বড় একটি টিম নিয়মিত কাজ করে। মসজিদের খতিব ও প্রধান দায়ীত্বশীল কর্মকর্তা ডক্টর শেখ তারেখ আল সাইদ আহমদ জুমার দিন কয়েক ভাষায় খুতবা দেন। ইতিমধ্যেই রাশিয়ান ও

ফ্রেঞ্চ ভাষায় খুতবা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেক অমুসলিম শুধু জুমার খুতবা শোনার জন্য মসজিদ কমপ্লেক্সে আসেন। বলে রাখা দরকার অমুসলিমদের খুতবা শোনার জন্য আলাদা ঘরে প্রজেক্টর ও সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। সম্প্রতি একজন আমেরিকান ইন্জিনিয়ার বেড়াতে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে গেছেন। অনেকে কল্পনা করে ছবিতে আকেন সাগরের মনোরোম নীল জলরাশির সাথে একটা সুন্দর মসজিদ। মিশর স্বপ্ন থেকে বাস্তবে নিয়ে এসেছে সেই স্বপ্ন। মনোরোম পরিবেশ ও ধর্মীয় আবহ একসাথে পেতে আপনাকে মিশরের হুরগাদা আল মিনা মসজিদে ভ্রমন করতে হবে।

Top