আজ : রবিবার, ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ৩রা পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

ইয়োগা বা যোগের যে সকল আসন বা মুদ্রা আছে তার প্রত্যেকটাই মানব দেহে আলাদা আলাদা উপকার করে থাকে। এছাড়া যোগব্যায়ামে প্রতিটা আসনের কয়েকটা ধাপ বা লেভেল থাকে। আমরা প্রথম ধাপ ও সবচেয়ে সহজ আসনের গুরুত্তপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করছি। আজ যে আসনটি নিয়ে আমরা আলোচনা করবো সেটি বারসাইটিসসহ পায়ের বিভিন্ন ব্যথা ও সমস্যা সমাধান করে আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। আজকের আসন-বৃক্ষাসন

বৃক্ষাসন (বৃক্ষ = গাছ)
দাঁড়ালে গাছের মতো লাগে বলে, এই আসনকে বৃক্ষাসন বলা হয়।

যেভাবে করবেন:
প্রথমে একটি ইয়োগা ম্যাটে দাঁড়ান। খেয়াল রাখুন যেন মেরুদণ্ড সোজা থাকে। এবার ডান পায়ের পাতা উঠিয়ে বাঁ পায়ের উরুতে রাখুন। পায়ের পাতার নিচের দিকটা উরুর সঙ্গে লেগে থাকবে। যেনো পায়ের আঙুল মাটির দিকে মুখ করে থাকে। এবার দুই হাত সোল্ডার লেবেলে দুই পাশে খুলে দিন। (এতে এক পায়ে দাঁড়ালেও আপনার ব্যালেন্স ঠিক থাকবে) এখন হাত দু’টো ধীরে ধীরে মাথার উপরে তুলুন। দুই হাতের তালু এক সাথে জোড়া লাগিয়ে দিন। খেয়াল রাখুন যেনো হাত কানের সঙ্গে লেগে থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এ অবস্থায় থাকুন।

এরপর ধীরে ধীরে প্রথমে হাত, তারপর পা নামিয়ে আনুন। অর্থাৎ আগের অবস্থানে চলে আসুন। এরপর একইভাবে বাঁ পা উঠিয়ে আসনটি আবার করুন। এভাবে পা বদল করে করে আসনটি ছ’বার থেকে আটবার অভ্যাস করুন।

উপকারিতা : এ আসনটি পায়ের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
.প্যানক্রিয়া থেকে হরমোনের নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে।
.বারসাইটিস সারিয়ে পায়ের জোর ও চলাফেরার ক্ষমতা বাড়ায়
.দেহের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।
.পায়ের প্রধান ধমনীতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় বলে পায়ের পেশী ও স্নায়ুগুলো পুষ্ট ও সতেজ হয়।
.কোমরের পেশীকে মজবুত রাখে।
.পায়ের ও কোমরে গঠন সুন্দর করে।

সতর্কতা :
যাদের হাঁটুতে পুরনো ব্যথা বা বেশি সমস্যা আছে, তারা প্রশিক্ষকের পারামর্শ ছাড়া এই আসন করবেন না।
যারা বেশি নিন্ম-রক্তচাপে ভুগছেন তারা এই আসন টি এড়িয়ে চলুন।

ইয়োগা বা যোগ কী?
যোগ শব্দটি ভারতীয় সভ্যতায় বহু প্রাচীন। আজ থেকে আনুমানিক ৫০০০ বছর আগে রচিত প্রাচীন গ্রন্থ রৃষি ঋষিবেদে যোগের উল্লেখ পাওয়া যায়। সম্ভবতঃ তারও অনেক আগে থেকে যোগের ধারণা প্রচলিত ছিল। যোগ শব্দটির উতপত্তি সংস্কৃত যুজ ধাতু থেকে। যার অর্থ কোনো দুটি জিনিষকে যুক্ত করা বা একত্র করা। প্রাচীন মুণি-ঋষিদের মতে জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনই হল যোগ।
মহর্ষি পতঞ্জলির মতে, ‘যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরধ’ অর্থাৎ চিত্তের বৃত্তি সকলকে নিরোধ করার নামই যোগ। যোগ হল সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমাদের চিন্তা-ভাবনা, বিচার, অনুভব, কল্পনা প্রভৃতি মানসিক কার্যাবলীর উপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব।

অন্যভাবে বলা যায় চিন্তাধারা ও কাজকর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে দেহ-মনকে এক সুরে বেঁধে জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই যোগ।
ইয়োগা বা যোগ সম্পর্কে আরো জানার জন্য পরিবর্তন ডট কমের সাথেই থাকুন।
তথ্য ও ছবি : এলিজা চৌধুরী, ইয়োগা প্রশিক্ষক, Eliza’s Yogart, ইয়োগা সেন্টার।

আরও পড়ুন...
Top