আজ : শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ তৎপর পাকিস্তান


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

হঠাৎ করেই বাংলাদেশ নিয়ে পাকিস্তানের তৎপরতা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্য তিন দেশে একযোগে পাকিস্তানিদের বাংলাদেশ নিয়ে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান দূতাবাসের ফেসবুকে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক ভিডিও প্রচারের পর থেকেই এসব ঘটনা দৃশ্যমান হয়েছে। ফেসুবক পেজ থেকে ওই ভিডিও ক্লিপটি নামিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান দূতাবাসের অন্তত দুজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকের আলোচ্যসূচি কি ছিল, এ সম্পর্কে বিএনপির এক নেতা বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। সে সম্পর্কে পাকিস্তান দূতাবাস জানতে চেয়েছিল।’ তবে, অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপাসনের মামলা নিয়ে বৈঠকে কথা বলা হয়েছে।

একই সময়ে, পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ইউনেসকো কতৃক জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ করায় হাতাশা প্রকাশ করা হয়। ওই টেলিভিশন চ্যানেলটি ৭ মার্চের ভাষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করে। একই অনুষ্ঠানে বেগম জিয়ার মামলা এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংকট নিয়ে নানা আপত্তিকর কথাবার্তা বলা হয়েছে।

এদিকে লন্ডনে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন তারেক জিয়া। সেখানেও বেগম জিয়া ও তারেক জিয়ার মামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের একাধিক সংস্থা মনে করছে, সবগুলো বৈঠকের একটি যোগসূত্র আছে। এই দুই রায়কে ঘিরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কোনো অশুভ পরিকল্পনা করছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ বেশ পুরোনো। ২০০১ সালের নির্বাচনে আইএসআই বিএনপিকে টাকা দিয়েছিল এমন তথ্য লিখিত জবানবন্দি দিয়ে বলেছিল আইএসআই এর সাবেক প্রধান। বেগম জিয়ার সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্য সফরের সময়ও তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছিল।

আগামী নির্বাচন এবং জিয়া পরিবারের রায় নিয়ে বিএনপি দেশে আরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, এমন খবর বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আছে। এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টিতে পাকিস্তান মদদদাতা বলেই অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করছে। পাকিস্তান সব সময় বাংলাদেশের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত। বাংলাদেশের সাফল্যকে হোচট খাওয়ানোর জন্য বিভিন্ন সময় পাকিস্তান প্রকাশ্যে এবং গোপনে ষড়যন্ত্র করেছিল। বাংলাদেশে এক সময় পাকিস্তানের প্রকাশ্য মিত্র ছিল জামাত। জামাতের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দণ্ড হলে, পাকিস্তানের পার্লামেন্টে তাঁর বিরুদ্ধে নিন্দা ও শোক প্রস্তাব হয়েছিল। বিএনপি সাথে পাকিস্তানের সখ্যতা দলটির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। পাকিস্তানের অন্তত দুজন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক ও পারভেজ মোশাররফ বিএনপিকে পাকিস্তানের নিকট বন্ধু বলেছিলেন। এখন এই তৎপরতা পাকিস্তানের কোনো নীলনকশা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছে।

আরও পড়ুন...
Top