আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যে কোন হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তত থাকতে হবে- প্রধানমন্ত্রী


জেলা প্রতিনিধি, নাটোরঃ
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুরে অবস্থিত কাদিরাবাদ সেনানিবাসস্থ ইঞ্জিনিয়ার সেন্টার এন্ড স্কুল অব মিলিটারী ইঞ্জিনিয়ারিং এ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারি কোরের পুনঃমিলনী এবং বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০১৮ তে যোগ দিতে নাটোরে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেখানে তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সহায়তায় সেনাবাহিনী দক্ষতা ও প্রশংসার সাথে কর্মকান্ড- চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বিভিন্ন দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় কবলিতদের সাহায্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি আরও বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, ভোটার তালিকা ও মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও দক্ষতা দেখিয়েছে। সেনাবিহিনী একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা, এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকান্ডের জন্য সার্বজনীন আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ৯ বছরে সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে। সেনাবাহিনীতে আর্মার্ড ব্রিগেড, কম্পোজিট ব্রিগেড প্যারা কমান্ডো বিগ্রেড ও পদাতিক ডিভিশন, ইনফ্রেন্টি ডিভিশন প্রতিষ্ঠাসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত করা হয়েছে। বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে আধুনিক যানবাহন, হেলিকপ্টার, সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। অত্যাধুনিক ব্যবস্থাসহ সিএমএইচ সমূহে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রি বলেন সেনাসদ্যদের জীবনমান উন্নত করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক রয়েছে। এছাড়া সৈনিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ তাদের বাসস্থান, মেস, এসএম ব্যারাক, নির্মান, বেতন-রেশন বৃদ্ধিসহ অনান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নিজেকে সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্ল্যেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দুই ভাই শহীদ শেখ কামাল ও শহীদ লেফট্যানান্ট শেখ জামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারী একাডেমী স্যান্ডহার্টার্স থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করেন এবং সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।ছোট ভাই শেখ রাসেলও সেনাবিহিনীতে যোগ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিল জানিয়ে সেনাসদস্যদের উদ্দ্যেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মাঝে হারানো ভাইকে খুঁজে পাই।

কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোরে ইতোমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকসন ব্রিগেড ও ডিভ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, আরই ব্যাটালিয়ন, ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস উল্ল্যেখ করে কোরের সদস্য শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও লে: কর্ণেল আব্দুল কাদিরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যে কোন হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দীন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল আবু এসরার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপি, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, শহীদ লেফটান্যান্ট কর্ণেল আব্দুল কাদিরের ছেলে সাংবাদিক নাদিম কাদির, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় উপ কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক সিলভিয়া পারভীন লেনীসহ সামরিক ও বেসামরিক উধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের পুনর্মিলনী ও প্রীতিভোজে অংশ নেন। এর আগে সকাল ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী কাদিরাবাদ সেনানিবাসে আগমন করলে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলার মোহাম্মদ শফিউল হক, কর্ণেল কমান্ড্যান্ট ও কমান্ড্যান্ট ইসিএসএমইসহ উধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top